শিরোনাম

ফেসবুকের কল্যাণে

নয় বছর পর পরিবারে ফিরে গেলেন মানসিক ভারসাম্যহীন সোহেল রানা

মোঃ বাহারুল ইসলাম মোল্লা | বুধবার, ২৪ জুন ২০২০ | পড়া হয়েছে 129 বার

নয় বছর পর পরিবারে ফিরে গেলেন মানসিক ভারসাম্যহীন সোহেল রানা

ফেসবুকের কল্যানে দীর্ঘ নয় বছর পর পরিবারে ফিরে গেলেন নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার শতকুঁড়ি গ্রামের সোহেল রানা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের কল্যাণে তাঁর এ ফিরে পাওয়া। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পঁচা আম কুড়িয়ে খাওয়ার দৃশ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বদলে যায় সোহেলের জীবন।

তাকে ফিরে পেয়ে বৃদ্ধ বাবা-মা, ছোট্ট সন্তান থেকে শুরু করে পরিবারের সবাই খুব খুশী। ভিডিওতে সোহেলকে দেখে সবার চোখ ছলছল করে উঠে। এরপর যখন মোবাইল ফোনে ভিডিও কলে কথা হয় তখন তো অনেকেই বাকরুদ্ধ।


গত ১৩ জুন বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কেন্দ্রস্থল সম্প্রতি ভেঙ্গে ফেলা সুপার মার্কেটের খালি জায়গায় স্তুপ করে ফেলে রাখা পঁচা আম খাচ্ছিলেন মাঝ বয়সি সোহেল রানা।

এই দৃশ্য দেখে ফেলেন তরুণ ব্যবসায়ি ও সেবামূলক সংগঠন জাগো ফাউন্ডেশন এর অংগ সংগঠন ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার স্বেচ্ছাসেবক তারেক আজিজের। তরুন ব্যবসায়ী তারেক আজিজের বাড়ি জেলার সরাইল উপজেলায়। তিনি পরিবার নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার মধ্যপাড়া বর্ডার বাজারে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেন। পঁচা আম খাওয়ার দৃশ্য দেখে তারেক আজিজ সেখানে গিয়ে তাকে এক কেজি আম কিনে দেন।

এর পর থেকে তারেক আজিজ প্রতিদিনই তাঁকে খোঁজে বেড়ান। পরে ১৮ জুন রাতে পৌর এলাকার কাউতলীতে পুনরায় তারেক আজিজ তাকে দেখতে পান। তারেক আজিজ তার সাথে কথা বলে জানতে পারেন ওই ব্যক্তির বাড়ি নাটোর জেলায়। পরে তারেক আজিজ তাকে তার নিজ বাসায় নিয়ে যান।

এর পরই শুরু হয় তারেক আজিজের প্রচেষ্টা। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ বিষয়ে ভিডিও দেয়ার পাশাপাশি লেখালেখি শুরু করেন। নাটোরে কর্মরত সংশ্লিষ্টদের মোবাইল ফোন নম্বর যোগাযোগ করে স্থানীয়ভাবে সংবাদ প্রকাশের অনুরোধ করেন। অনেকের কাছে ভিডিওটি পাঠান।

তারেক আজিজ জানান, স্থানীয় এক যুবক ওই ব্যক্তিকে চিনতে পেরে পরিবারের লোকজনের সাথে যোগাযোগ করেন। তখনই জানা যায় ওই ব্যক্তি নয় বছর ধরে নিখোঁজ। পরিবারের সদস্যরা ভিডিও কলে তাকে দেখে সোহেলের পরিচয় নিশ্চিত করেন। তখন আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তবে সোহেল সবাইকে চিনতে পারছিলো না।

গত ২১ জুন রাতে সোহেলের পরিবারের লোকজন এসে তাঁকে নিয়ে যায়। রাতে থাকার কথা বললেও তারা এতটা আপ্লুত ছিলো যে সোহেলকে কাছে পেয়েই চলে যাওয়ার তাগাদা শুরু করে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, সোহেল রানা নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার শতকুড়ি গ্রামের মজিদ শাহ্’র ছেলে। দুই ভাই, দুই বোনের মধ্যে তিনি বড়। স্ত্রী এবং তৌফিক হাসান ও সানিয়া আক্তার নামে দুই শিশু সন্তান রয়েছে তার। রিকশা চালিয়ে সংসার চালাতেন। একদিন হঠাৎ করেই তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। এরপর ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে, আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে খোঁজ করেও সোহেলকে পাওয়া যায় নি। যে কারণে তাকে মৃতই ধরে নিয়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা।

সোহেলের ষষ্ঠ শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে তৌফিক জানায়, বাবাকে পেয়ে সে খুবই খুশি। বাবা আসছে শুনে নানার বাড়ি থেকে ছুটে এসেছে সে। খুব ছোট বয়সে বাবা নিখোঁজ হয় বলে খুব একটা কিছু মনে নেই তার। তবে দেখে সে বাবাকে চিনতে পেরেছে। বাবাও তাকে চিনতে পেরেছে বলে ধারণা তার।

সোহেল রানার ভাই মোঃ উজ্জল বলেন, ‘ভাই বেঁচে আছে আমরা সেটা চিন্তাও করতে পারি নি। স্থানীয় এক যুবক ফেসবুকে ছবি দেখে আমাদেরকে জানায়। আমরাও ছবি দেখে নিশ্চিত হই। পরে ভিডিও কলে ভাইয়ের সাথে কথা বলার চেষ্টা করি। গত রোববার রাতে ভাইকে নিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসি। সোমবার সকালে বাড়িতে এসে পৌঁছাই। ভাই এখন খুব বেশি কথা বলছে না। তবে মনে হয় সবাইকে আস্তে আস্তে চিনতে পারছে। মানসিক কিছু সমস্যা আছে বলে মনে হচ্ছে। যে কারণে ডাক্তার দেখাবো বলে আমরা চিন্তা করছি। আমার বৃদ্ধ বাবা-মা ভাইকে পেয়ে খুব খুশি। আমরা চিন্তাও করতে পারিনি এত বছর পর ভাইকে ফিরে পাবো। ফেসবুকের কারণেই আমরা তাকে খোঁজে পেলাম। সবাই আমাদেরকে অনেক সহযোগিতা করেছে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১