শিরোনাম

নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ৪ কোটি টাকার কাজে অনিয়মের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার : | শুক্রবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৭ | পড়া হয়েছে 192 বার

নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ৪ কোটি টাকার কাজে অনিয়মের অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কবির হোসেন ও তার ব্যক্তিগত সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর আজাদ মিয়ার বিরুদ্ধে চার কোটি টাকার একটি ঠিকাদারি কাজ ভাগ-ভাটোয়ারা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর ফলে আগ্রহী বেশ কয়েকজন ঠিকাদার এ কাজের জন্য দরপত্র কিনতে পারেননি।

নির্বাহী প্রকৌশলী কবির হোসেন ও তার ব্যক্তিগত সহকারী আজাদ মিয়া নিজেদের পছন্দের ঠিকাদারকে নবীনগর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণের ওই কাজটি পাইয়ে দিতে পাঁয়তারা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী ঠিকাদাররা এই দরপত্র প্রক্রিয়া বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের দাবি জানিয়েছেন।


নিজাম উদ্দিন নামে ঢাকার এক ঠিকাদার বৃহস্পতিবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া গণপূর্ত বিভাগে অনিয়মের ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন উপজেলা সদরে/স্থানে ১৫৬টি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ব্রহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলায় চার কোটি আট লাখ টাকায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের নির্মাণ কাজের জন্য গত ১৯ অক্টোবর জাতীয় একটি বাংলা এবং ইংরেজী পত্রিকায় পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। প্রতিটি দরপত্রের মূল্য ছিল তিন হাজার টাকা।

এ কাজের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জামানত মূল্য ১২ লাখ টাকা। ১৪ নভেম্বর দরপত্র কেনার এবং ১৫ নভেম্বর দরপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল। ১৫টি দরপত্র বিক্রি হলেও বুধবার (১৫.১১.২০১৭) বিকেল পর্যন্ত মাত্র তিনটি দরপত্র জমা পড়ে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইতোপূর্বেও এই কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। তবে অজ্ঞাত কারণে দরপত্র প্রক্রিয়াটি বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্রের বিজ্ঞপ্তিতে দরপত্র কেনার স্থান হিসেবে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়, চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়, ঢাকা, খুলনা, রাজশাহীর গণপূর্ত বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়, সিলেট ও বরিশালের গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের অধীনে সকল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে দরপত্র বিক্রয় করা হবে। এছাড়া গণপূর্ত বিভাগের ওয়েবসাইট এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটের (সিপিটিইউ) ওয়েবসাইটের নাম উল্লেখ করা হয়।

তবে দরপত্র জমা দেয়ার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া গণপূর্ত বিভাগ নির্ধারণ করা হয়।

ঢাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নাওয়ার ট্রেডের স্বত্ত্বাধিকারী মাহমুদ জামিল অভিযোগ করে বলেন, ১০ দিন আগে ঢাকার সেগুনবাগিচা ও শেরে বাংলা নগরের গণপূর্ত বিভাগে গিয়েও সেখানে এই কাজের কোনো দরপত্র পাওয়া যায়নি। দরপত্র প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে গণপূর্তের নিজস্ব ওয়েবসাইটেও দরপত্রটি দেয়া হয়নি। ইচ্ছাকৃতভাবে গত ৯ নভেম্বর এই কাজের দরপত্রটি গণপূর্তের ওয়েবসাইটে দেয়া হয়েছে যাতে করে কেউ অংশ নিতে না পারেন।

আরেক ঠিকাদার আব্দুর রহমান বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী কবির হোসেন তার এক ঠিকাদার আত্মীয়কে কাজটি দেয়ার জন্য ব্যক্তিগত সহকারী আজাদকে সঙ্গে নিয়ে সব কারসাজি করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণপূর্ত বিভাগের এক কর্মী বলেন, কাজটি কন্ট্রোল করা হচ্ছে। তাই দরপত্র সংক্রান্ত অনেক কিছুই নিয়মানুযায়ী চাইলেও পাওয়া যাবে না। সব তো বুঝতেই পারছেন।

তবে ঠিকাদারদের সব অভিযোগ অস্বীকার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কবির হোসেন বলেন, ঠিকাদাররা তো অনেক অভিযোগই করে থাকেন। দরপত্র উন্মুক্ত করা হয়েছে। এটি যাচাই করে ঢাকায় পাঠানো হবে। সেখান থেকেই অনুমোদন হবে। পছন্দের ঠিকাদারের কাজ পাইয়ে দিতে ব্যক্তিগত সহকারীকে নিয়ে পাঁয়তারার অভিযোগটিও মিথ্যা বলে দাবি করেন এ কর্মকর্তা।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০