শিরোনাম

নাসিরনগর হাসপাতালের তদন্তের কাজ চা নাস্তার মধ্যে দিয়েই শেষ হল

ডেস্ক | বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০১৬ | পড়া হয়েছে 522 বার

নাসিরনগর হাসপাতালের তদন্তের কাজ চা নাস্তার মধ্যে দিয়েই শেষ হল

নাসিরনগর হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার অফিস কক্ষে বসে দীর্ঘ সময় ধরে খোশ গল্প ও চা নাস্তার মধ্যে দিয়েই শেষ হল তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটির তদন্তের কাজ। আর অনেকেই এটাকে তদন্তের নামে ভূরিভূজ বলে আখ্যায়িত করছেন। অভিযুক্তদের বাঁচাতেই ভুক্তভোগীদের বক্তব্য না শুনে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের। স্থানীয়দের অভিযোগ এর আগেও এ হাসপাতালে এমন তদন্ত নাটকের অভিনয়ের মহড়া করে গেছেন বর্তমান তদন্ত কমিটির প্রধানগন। রসিকতা করে কয়েকজন স্থানীয় লোকজন বলছেন, দোস্তের (বন্ধুর) অভিযোগের তদন্তে পাঠিয়েছে দোস্তকে। তদন্ত কাজে বক্তব্য দিতে আসা স্থানীয় লোকজন জানান, গত ৮ ও ১২ সেপ্টেম্বর নাসিরনগর ৫০ শয্যা হাসপাতালের অনিয়ম দূর্নীতি নিয়ে “টাকা ছাড়া মিলে না সেবা” শিরোনামে বেশ কয়েকটি গণমাধম্যে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ২১ সেপ্টেম্বর জেলা সিভিল সার্জন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আবু ছালেহ মোঃ মুসা খানকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। গত রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নাসিরনগর হাসপাতালে আসে তদন্ত কমিটি। তারা টিএইচও’ অফিস কক্ষে বসে গল্পের পাশাপাশি শুরু করেন ফল বিস্কিট ছানাচুর ও জুস দিয়ে ভূরিভূজ। আড়াই ঘন্টা সেখানে অবস্থানকালীন সময়ে এক জায়গাই বসেছিলনে তদন্ত কমিটি। এক সময় হাসপাতালের অনিয়মের শিকার নুরপুর সৈয়দ বাড়ির সৈয়দ সোলায়মান মিয়া সহ কিছু লোক পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টকে শতভাগ সত্য বলার সাথে সাথে তাদেরকে বের করে দেয় তদন্ত কমিটি। ফুলপুর গ্রামের সামছু মিয়া, নুরপুর গ্রামের খসরু মিয়া ও ধন মিয়া সহ ১০-১৫ জন ভুক্তভোগী জানান, পত্রিকায় প্রকাশের ঘটনা সত্য। এটি বলতে এসেছিলাম। কিন্তু তদন্তের স্যাররা খাওয়া নিয়ে ব্যস্ত। তারপরও আমাদের কথা উনারা শুনতে চাননি। একজন সত্য বলার সাথে সাথেই কক্ষ থেকে বের করে দিয়েছেন। জানা যায় তদন্তে আসা ডাঃ মুসা এ হাসপাতালে চাকুরী করে গেছেন। উল্লেখ্য যে, হাসপাতালের কিছু কর্মচারী বলাবলি করছে, আরে মুসা স্যার শুকলাল স্যার এক সাথে লেখা পড়া করেছে। দোস্তের অপরাধ কি দোস্ত বলব? এর আগেও একবার গোকর্ণ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের এম এল এস এস মোঃ এমদাদ হাসপাতালের তখনকার অফিস সহকারি রফিকের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের লিখিত অভিযোগ করেছিল সিভিল সার্জন বরাবর। তখনও তদন্তে এসেছিলেন মুসা স্যার। সেই যাত্রাইও তিনি তদন্তের নামে বুঝিয়ে চলচাতুরি করে সাদা কাগজে এমদাদের স্বাক্ষর নিয়ে অনেকটা সালিসের ষ্টাইলে আপোষ নিস্পত্তি করে ফেলেছিলেন। রক্ষা করেছিলেন অভিযুক্ত রফিকসহ কয়েকজন কর্মকর্তাকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন গত ৮ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া২৪ ডট কমে একটি সংবাদ প্রচারিত হয় যাতে আর্থিক বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য সুনিদির্ষ্ট ভাবে উল্লেখ আছে। উল্লেখ্য জ¦ালানী, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বাবদ ও এ্যাম্বুলেন্স মেরামত বাবদ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূয়া বিল ভাউচারের স্বারক নং সহ প্রয়োজনীয় সকল প্রমাণ তদন্ত টীমের একজন সদস্যের কাছে দিলেও তারা এ ব্যপারে কোন তদন্ত করেননি। নাসিরনগর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মোঃ আসমত আলী বলেন, তদন্তের দিনও সকাল ১০টা পর্যন্ত হাসপাতালে একজন চিকিৎসকও আসেননি। বিষয়টি তদন্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি। তিনি কোন কর্ণপাতই করেননি। তদন্ত কমিটির প্রধান নাসিরনগর হাসপাতালের সাবেক টিএইচও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আবু ছালেহ মোঃ মুসা খান তদন্তে আনীত সকল অনিয়মের অভিযোগ প্রত্যখ্যান করে বলেন, জায়গা না থাকলে তো টিএইচও’র কক্ষেই বসতে হবে। ভুক্তভোগী কিছু লোক কথা বলতে চাইলে বের করে দিলেন কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, শুধু মাত্র তদন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যই তো শুনব। বহিরাগতদের কথা শুনব কেন? এব্যাপারে নাসিরনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও,র সাথে কথা বললে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে সকলকে জিজ্ঞেস করে লিখিত নেয়া হয়েছে। এর বেশি আমি কিছু জানিনা।

এস.এম.বদিউল আশরাফ(মুরাদ মৃধা)


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০