শিরোনাম

নাসিরনগরে হামলা-অগ্নিসংযোগ

নাসিরনগরে সম্প্রীতি সমাবেশ বিএনপি নেতার পক্ষে হিন্দুরা

ডেস্ক | শুক্রবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৬ | পড়া হয়েছে 452 বার

নাসিরনগরে সম্প্রীতি সমাবেশ বিএনপি নেতার পক্ষে হিন্দুরা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেই হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে একের পর এক অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। এ অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার সেখানে শান্তি ও সম্প্রীতি সমাবেশ হয়েছে। এ ছাড়া হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া বিএনপির এক নেতাকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন মামলার বাদীরা।

উপজেলা সদরের নাসিরপুর গ্রামের বাজার এলাকায় গতকাল সন্ধ্যায় শান্তি ও সম্প্রীতি সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এর আগে দিনভর এলাকায় এ নিয়ে মাইকিং করা হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অরুণজ্যোতি ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ যোগ দেন। অরুণজ্যোতি ভট্টাচার্য বলেন, ‘দুষ্কৃতকারীরা সন্ধ্যার পর আগুন দিয়ে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। ঐক্য তৈরির জন্য এই সভার আয়োজন করা হয়েছে।’


বিএনপি নেতার পক্ষে হিন্দুরা: হামলা-অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গ্রেপ্তার বিএনপির নেতা আমিরুল হোসেন চকদারকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। গতকাল তাঁর পক্ষে আদালতে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন হামলার ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলার বাদী।

আমিরুল উপজেলা সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি। ৩০ অক্টোবর মন্দিরে হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার আসামি হিসেবে গত মঙ্গলবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন বুধবার তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ওই দিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দুই শতাধিক নারী-পুরুষ নাসিরনগর থানায় গিয়ে দাবি করেন, আমিরুল হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।

৩০ অক্টোবর উপজেলা সদরের দত্তপাড়া দুর্গা মন্দিরে হামলার ঘটনায় উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি কাজল জ্যোতি দত্ত ও মহাকালপাড়ার গৌর মন্দিরে হামলার ঘটনায় মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্মল চন্দ্র চৌধুরী অজ্ঞাতনামা ২ হাজার ৪০০ জনকে আসামি করে দুটি মামলা করেছিলেন। বাদীরা ঘটনার শুরু থেকেই গণমাধ্যমকর্মীদের বলে আসছেন, হামলাকারীরা ছিল অপরিচিত।

গত বৃহস্পতিবার সকালে দুই মন্দিরে ভাঙচুর মামলার ওই দুজন বাদী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সুলতান সোহাগ উদ্দিনের আদালতে আমিরুলের পক্ষে দুটি লিখিত আবেদন জমা দেন। এ সময় উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হরিপদ পোদ্দারসহ আরও ১০-১২ জন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

নির্মল চন্দ্র চৌধুরী ও হরিপদ পোদ্দার প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার দিন আমিরুল তাঁদের কোনো ক্ষতি করেননি বরং মন্দির ও বাড়িঘর রক্ষার চেষ্টা করেছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের ঘটনা দুঃখজনক।

বৃদ্ধার লাশের সৎকার: গত বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার নাসিরপুর গ্রামে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া নিয়তি চক্রবর্তীর (৯০) মরদেহ গতকাল জেলা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কুপি থেকে টিনের ঘরে আগুন লেগে তিনি দগ্ধ হন বলে জানিয়েছে পুলিশ। নাসিরনগর থানার ওসি আবু জাফর বলেন, এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০