শিরোনাম

নাসিরনগরে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই খতমে নবুয়তের মহাসমাবেশের ঘোষণা : আহমদিয়া সম্প্রদায় আতংকে

| বুধবার, ১৮ এপ্রিল ২০১৮ | পড়া হয়েছে 285 বার

নাসিরনগরে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই খতমে নবুয়তের মহাসমাবেশের ঘোষণা : আহমদিয়া সম্প্রদায় আতংকে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগরে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে নতুন করে আতংকের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের অনুমতি না পেলেও যে কোনো মূল্যে আগামী ২০ এপ্রিল নাসিরনগরে খতমে নবুয়তের মহাসমাবেশ করার ঘোষণায় স্থানীয় সংখ্যালঘু আহমদিয়া সম্প্রদায়ের লোকজনের উদ্বেগ আতংক দেয়া দেয়।

আজ বুধবার (১৮.০৪.২০১৮) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরে নাসিরনগর কওমি উলেমা পরিষদের ব্যানারে আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এদিকে আহমদিয়া মুসলিম জামাত বাংলাদেশ এর পক্ষ থেকে সেক্রেটারি উমুরে আমা (সাধারণ ও কল্যাণ) মোহাম্মাদ আব্দুস সামাদ স্থানীয় আহমদিয়া সম্প্রদায়ের জানমাল ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা চেয়ে গত ১০ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে পৃথক লিখিত আবেদন পাঠিয়েছেন।


ওই আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, উক্ত মহাসমাবেশ থেকে উস্কানিমূলক ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে সরলপ্রাণ মুসলমানদেরকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করা হবে এবং এই সুযোগে কিছু সংখ্যক দুষ্কৃতিকারী যে কোন ধরণের নাশকতামূলক কার্যক্রম সংগঠিত করবে এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির চেষ্টা করবে। এদিকে আজ বুধবার পর্যন্ত জেলা প্রশাসন ওই মহাসমাবেশ অনুষ্ঠানের কোন অনুমতি দেয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, আহমদিয়াদের অপতৎপরতা নিষিদ্ধ এবং তাদের সরকারিভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে নাসিরনগর কওমি উলামা পরিষদের উদ্যোগে গত ১ এপ্রিল স্থানীয় হেলিপ্যাড মাঠে খতমে নবুয়ত মহাসম্মেলন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় অনুমতি না পাওয়ায় ওই সমাবেশ পিছিয়ে আগামী শুক্রবার (২০.০৪.২০১৮) মহাসমাবেশের ঘোষণা দিয়ে প্রচারণা চালাতে থাকে আয়োজকরা। এরই অংশ হিসেবে খতমে নবুয়ত মহাসমাবেশ সফলের লক্ষ্যে গতকাল বুধবার দুপুরে নাসিরনগর উলামা পরিষদের ব্যানারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরে এক মিছিল করে। মিছিল শেষে স্থানীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে মাওলানা মুফতি আব্দুর রহিম কাসেমির সভাপতিত্বে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

ওই সমাবেশে বক্তারা বলেন, মহাসমাবেশের জন্য তারা জেলা প্রশাসকের কাছে অনুমতি চেয়েছে। অনুমতি নিয়ে গড়িমসি চলছে। যদি অনুমতি নাও দেয়া হয়, তারা যেকোনো মূল্যে প্রয়োজনে বুকের রক্ত দিয়ে মহাসমাবেশ করবে বলে ঘোষণা দেন।

এ সভায় বক্তব্য দেন মুফতি আবদুল হক, মাওলানা মুহাম্মাদ শামসুদ্দিন, মাওলানা আব্দুস সাত্তার, মাওলানা মুমিনুদ্দিন ওসমানী, মাওলানা আবদুল হান্নান, মাওলানা আনোয়ার বিন মুসলিম, মাওলানা এস এম শহিদুল্লাহ, মাওলানা মাসুদুর রহমান প্রমুখ।

মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে আল্লামা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী। মহাসম্মেলনে সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে হেফাজতে ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সভাপতি আল্লামা মুনিরুজ্জামান সিরাজী এবং জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অধ্যক্ষ মুফতি মোবারকুল্লাহ।

এ ব্যাপারে নাসিরনগর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে সালমার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আয়োজকরা অনুমতির জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন। আজ পর্যন্ত তিনি অনুমতির কোন কপি পাননি। নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু জাফর বলেন, এখনও কোন অনুমতি হয়নি। আয়োজকদের সাথে কথাবার্তা চলছে।

এ ব্যাপারে সদ্য অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান পিপিএম (বার) বলেন, আমরা অনুমতি দেইনি। আমরা পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি।

জেলা প্রশাসক রেজওয়ানুর রহমান বলেন, এখনও অনুমতি দেইনি। তবে পুরো বিষয়টি আমরা লক্ষ্য রাখছি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই যা করার করবো।

এ ব্যাপারে সদ্য নির্বাচিত স্থানীয় সংসদ সদস্য বিএম ফরহাদ হোসেনের সাথে কথা বলার জন্য মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

্প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম অবমাননা করে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের এক যুবকের ছবি পোস্ট করার ঘটনাকে কেন্দ্র্র করে নাসিরনগর সদরে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় ১০/১৫ টি মন্দির, প্রায় অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে যা দেশে বিদেশে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১