শিরোনাম

নাসিরনগরের স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে

| রবিবার, ০৬ নভেম্বর ২০১৬ | পড়া হয়েছে 479 বার

নাসিরনগরের স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে

সর্বত্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্ক নজরদারি! এবার মসজিদে প্রতিমা রেখে ফের নাশকতা চালানোর অন্য চেষ্টা হয়েছে। সতর্ক নজরদারির মধ্যেও কিছুতেই থামছে না ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংখ্যালঘু নির্যাতন। একের পর এক চক্রান্ত চলছে। সমানতালে চলছে ভাংচুর, আগুন। এক সপ্তাহ ধরে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল নাসিরনগর সংখ্যালঘুদের কাছে আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে পাঁচটি হিন্দু বাড়িতে আগুন দেয়ার পর শনিবার ট্রলার হামলা চালানো হয়। উপজেলার ঋষিপাড়ায় দেশী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলে পড়ে কতিপয় দুর্বৃত্ত। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া লঙ্গন নদী দিয়ে ট্রলারযোগে আসে হামলাকারীরা। ঋষিপাড়া গ্রাম লক্ষ্য করে চালানো হয় হামলা। নাসিরনগরের ঘটনায় যখন সারাদেশে তোলপাড় চলছে, তখন বারবার সাম্প্রদায়িক উস্কানি ও হামলার ঘটনায় উদ্বিগ্ন স্থানীয় মানুষ। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে শনিবার আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নেতৃবৃন্দ জেলা শহরের সার্কিট হাউসে এক মতবিনিময় সভায় প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হকের অপসারণ ও কর্তব্যে অবহেলায় স্থানীয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের সাসপেন্ডের দাবি করেছেন। পাশাপাশি মৌলবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলারও আহ্বান জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে রসরাজ দাশের পক্ষে দাঁড়াতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিশ্বাসী জেলা আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।


শিপন চন্দ্র ঋষি (২২) বেশ কয়েকজন যুবক লাঠি নিয়ে আমাদের গ্রাম লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে করতে এগিয়ে আসতে থাকে। আমরা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করি। গ্রামবাসী লাঠি নিয়ে এগিয়ে আসে। অবস্থা বেগতিক দেখে তারা দ্রুত পালিয়ে যায়। এরা সংখ্যায় ছিল ১৫-২০। কামারগাঁও ঋষিপাড়া গ্রামের অতিন্দ্র ঋষি বলেন, ওরা ভাংচুর করতে করতে এগিয়ে আসছিল। পরে গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মুখে ওরা পালিয়ে যায়। তপু ঋষি জনকণ্ঠকে বলেন, হামলাকারীরা প্রচুর ঢিল ছোড়ে। আমরা গ্রামবাসী সতর্ক হয়ে পড়ায় ওরা দ্রুত চলে যায়। সকাল সাড়ে দশটায় এ ঘটনা ঘটে। দ্রুত খবরটি পুলিশ ও প্রশাসনকে জানানো হয়। ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশ ও র‌্যাব।

বেলা এগারোটায় সরেজমিন ঘটনাস্থলে গেলে দেখা হয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু জাফরের সঙ্গে। জনকণ্ঠকে তিনি বলেন, এ গ্রামে হামলার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ছুটে এসেছেন। এরমধ্যে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এদিকে, এক সপ্তাহ ধরে চলমান অস্থিরতায় নাসিরনগরের সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। দুপুরে ঋষিপাড়া গ্রাম থেকে ফেরার পথে পুকুরে গোসল করতে আসা বেশ কয়েক ঋষি নারী চিৎকার করে বলছিলেন, ‘বাবা আমরা আর কত অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করব? দেখেন না দিনে-দুপুরে দলবেঁধে ইডা মারছে (ঢিল)।’ দত্তপাড়া গ্রামের সুরভী দত্ত বলেন, ‘রাতে ঘুমুতে পারি না। কখন যে কে এসে হামলা করে এ নিয়ে ডরে ভয়ে আছি।’

এদিকে, নাসিরনগরে ভাংচুর, হামলা ও মৌলবাদীদের তা-বের ঘটনায় আরও ৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বাত্মক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। পুলিশ বলছে, সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ নিয়ে এ পর্যন্ত ৪৪ জনকে গ্রেফতার করা হলো। শনিবার দুপুরে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে হাজির করার পর গ্রেফতারকৃতদের সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। তবে রিমান্ড শুনানি এখনও হয়নি। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। দুপুরে র‌্যাব-১৪-এর কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল শরিফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি তাদের খোঁজখবর নেন এবং সার্বিক নিরাপত্তা নেয়ার আশ্বাস দেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, র‌্যাবের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার সকল ব্যবস্থাই নেয়া হয়েছে। তাদের টহল দল নিয়মিত টহল দিচ্ছে। স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত আছে। গোয়েন্দারাও কাজ করছে। তিনি বলেন, কোন গোষ্ঠী অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য এমন কাজ করছে কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণ দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন একাধিক ঘটনা ঘটেছে। আমরা সবকিছুই পর্যবেক্ষণ করছি।

নাসিরনগরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় সৃষ্টি করা হয়েছে। র‌্যাব-পুলিশ-বিজিবিসহ অন্তত পাঁচ শতাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদন্য মোতায়েন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সমানে চলছে পুলিশ-বিজিবি র‌্যাবের টহল। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিভিন্ন স্থানে অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে এবং হিন্দুদের নিরাপত্তার বিষয়ে আস্থা সৃষ্টি করতেই এ নিরাপত্তা বলয় সৃষ্টি করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলায় তিন প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

রামুর পুনরাবৃত্তি নাসিরনগরে শাহরিয়ার কবির ॥ একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেছেন, রামুর ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে নাসিরনগরে। রামুতে প্রশাসন যতটা তৎপর ছিল এখানে তেমনটা নেই। ইতোমধ্যে স্বরাষ্টমন্ত্রী বলে দিয়েছেন নাসিরনগরে প্রশাসনের তেমন কোন গাফিলতি নেই। তাই আমরা প্রশাসনের তদন্তে ভরসা রাখতে পারি না। আমরা এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করছি। শনিবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সাম্প্রদায়িক তা-বের ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে গৌর মন্দিরে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তার নেতৃত্বে ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রসরাজের বাড়ি ও ক্ষতিগ্রস্ত মন্দিরগুলো পরিদর্শন করেন।

এ সময় তিনি বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ঘটনার তিন দিন পর এলাকায় এসে যা বলেছেন তাতে ঘটনা আরও বেড়েছে। তার কথায় সংখ্যালঘুরা আশ্বস্ত হতে পারেনি। মানুষ মহাজোট সরকারের আমলে এমন ঘটনা দেখতে চায় না। মানুষ নিরাপত্তা চায়, আশ্বাস চায়। কিন্তু প্রশাসন তাদের সে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, রসরাজের বাড়িতে গিয়ে আমরা জানতে পেরেছি সে স্বল্পশিক্ষিত। ফলে রসরাজের পক্ষে ফটোশপে ছবি এডিট করা সম্ভব নয়। তার বাড়িঘর দেখে আমাদের মনে হয়েছে সে সংস্কৃতিমনস্ক মানুষ। সে এমন কাজ করতে পারে না। এ সময় বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ১৬৪ ধারার জবানবন্দী দেয়ার আগে রসরাজকে যেন আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেয়া হয়। তা করা না হলে হামলাকারীরা উৎসাহিত হবে। এ সময় একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল, সদস্য এরোমা দত্ত প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রতে সার্কিট হাউসে মতবিনিময় সভায় শাহরিয়ার কবির বলেছেন, ঘটনার নেপথ্য নায়ক জামায়াতে ইসলামী। তারা দেশে রাজনীতি করলে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস থামবে না। তাই জমায়াতকে নিষিদ্ধ করতে হবে। ফিরে যেতে হবে ’৭২-এর সংবিধানে। তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে সরকারী দলের কেউ যুক্ত থাকলে দ্বিগুণ শাস্তি দিতে হবে। জামায়াত-হেফাজতের জয়গা হলো পাকিস্তান অথবা জেলখানা।

বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ঘটনায় অজ্ঞতনামা আসামি করে মামলা হয়েছে। এতে যারা গ্রেফতার হবে সবাই জামিন পাবে। কাউকে সাজা না দিতে চাইলে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা হয়। তিনি বলেন, আলামিন সাইবার পয়েন্ট থেকে ছবি বিকৃত করে ফেসবুকে দেয়া হলো। সেই দোকান এখন বন্ধ। যাদের দোকানের মাইক ব্যবহার করল মৌলবাদীরা তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়নি। রসরাজ ন্যায়বিচার পায়নি দাবি করে তিনি বলেন, ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে এ্যাকশন হওয়া উচিত। তার রাজনৈতিক পরিচয় জানা জরুরী। রসরাজের রিমান্ডের আবেদন অবৈধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, আসামির কাছ থেকে চাপ সৃষ্টি করে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা চলছে। তা বাস্তবায়ন হলে মৌলবাদীদের তা-ব বৈধতা পাবে। সংগঠনের পক্ষ থেকে নাসিরনগরে হামলার ঘটনা নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের ঘোষণা দেয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মোবারক আলী চৌধুরী, রাখি দাশ পুরকায়স্থ প্রমুখ।

ভাইস চেয়ারম্যানের বাড়িতে আগুন ॥ নাসিরনগরের দত্তপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অঞ্জন দের বাড়িতে শনিবার রাতে রহস্যজনক অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটেছে। কিভাবে অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটেছে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ তা নিশ্চিত করতে পারেনি। খবর পেয়ে পুলিশ ও বিজিবি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। তবে তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, দত্তপাড়ার একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে।

নাসিরনগরের মসজিদে লক্ষ্মীর প্রতিমা ॥ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে এবার মসজিদে লক্ষ্মীর প্রতিমা পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সকালে উপজেলার কু-া ইউনিয়নের বিটুই গ্রামের বিটুই উত্তরপাড়া জামে মসজিদের ভেতর থেকে পুলিশ প্রতিমাটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। মসজিদের ইমাম মোঃ শাহাব উদ্দিন জানান, ভোরে ফজরের নামাজের আজান দিয়ে মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে দেখেন সেখানে প্রতিমা রাখা। পরে তিনি বিষয়টি পুলিশ ও এলাকাবাসীকে জানান। তার ধারণা, সরকার এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ করার জন্য কোন কুচক্রী মহল এ ঘটনা ঘটিয়েছে। কু-া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ ওয়াছ আলী জানান, রাজনৈতিক গ্রুপিংয়ের ফলে ফায়দা লোটার জন্য এমন হয়েছে। ঘটনার পর হিন্দু-মুসলমান মিলে সভা হয়েছে। পরবর্তীতে যাতে কেউ এমন ঘটনা না ঘটাতে পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তবে এমন ঘটনা ঘটিয়ে কেউ আমাদের এলাকায় হিন্দু-মুসলমান সম্পর্কের ভাটা আনতে পারবে না। নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু জাফর জানান, সকালে খবর পেয়ে প্রায় দুই ফুট উচ্চতার মূর্তিটি থানায় নিয়ে আসি। পরিস্থিতি ঘোলাটে করার জন্য কেউ এমন করতে পারে।

নাসিরনগর পরিদর্শন করেন বিভাগীয় কমিশনার ও ডিআইজি ॥ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার রুহুল আমীন ও চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। শুক্রবার রাত নয়টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। এ সময় জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রশাসনের দফায় দফায় বৈঠক ॥ নাসিরনগরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পেশার লোকজনের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছে জেলা প্রশাসন। শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত বৈঠকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ রুহুল আমীন, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোঃ রেজওয়ানুর রহমান, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান পিপিএমসহ প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানান আলেম সমাজ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি মোবারক উল্লাহ, মাওলানা আব্দুর রহিম কাশেমী, আল্লামা মনিরুজ্জামান সিরাজী, মাওলানা সাজিদুর রহমান প্রমুখ। এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনার আশ্বাস দেয়া হয়।

প্রেস কাউন্সিল চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে ॥ বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ বিকেলে নাসিরনগরের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি ভাংচুরকবলিত স্থানের মন্দিরগুলো দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন। এ ধরনের হামলা কারও কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, তাদের সঙ্গে সারাদেশের মানুষ রয়েছে। এ সময় প্রেস কাউন্সিলের সদস্য আকরাম হোসেন খান, প্রেস কাউন্সিলের সচিব শ্যামল কুমার কর্মকার উপস্থিত ছিলেন।

জেলা আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্ব নয় ॥ নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্বের যে কথা সর্বত্র আলোচনা হচ্ছে তা চ্যালেঞ্জ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি র. আ. ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সার্কিট হাউসে প্রেস কাউন্সিল আয়োজিত সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালার সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, কেউ যদি প্রমাণ করতে পারে তিনি ও তার দলের লোকজন মন্ত্রীকে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে তবে ক্ষমা চেয়ে রাজনীতি থেকে বিদায় নেব। তিনি বলেন, ঘটনার পর আমরা নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়িয়েছি। এসব অপপ্রচার উদ্দেশ্যপ্রণেদিত।

রসরাজ দাসের মামলা ডিবিতে হস্তান্তর ॥ রসরাজ দাসের মামলা ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। নাসিরনগর সদর থেকে বারো কিলোমিটার দূরের হরিপুর গ্রামের রসরাজ দাস নামের ফেসবুক আইডি থেকে একটি আপত্তিকর ছবি পোস্ট করা হয়। যেখানে দুটি ধর্মকেই অবমাননা করা হয়। একাধিক সূত্রের ধারণা, তার ফেসবুক আইডি হ্যাক করে উগ্র কোন মৌলবাদী গোষ্ঠী ছবিটি পোস্ট করেছে। রসরাজ এখন পুলিশের হেফাজতে।

মন্ত্রী ছায়েদুল হকের সংবাদ সম্মেলন আজ ॥ নিজের অবস্থান তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন সমালোচনার মুখে থাকা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হক। নাসিরনগরের ডাকবাংলোতে আজ রবিবার দুপুরে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে তথ্য অধিদফতর। অন্যদিকে একই দিনে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদও। মন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের পর তাদের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। নিউজ ডেস্ক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০