শিরোনাম

নাসিরনগরের আশ্রয়ণ প্রকল্পের জায়গা দখলের অভিযোগে মামলা ॥ গ্রেপ্তার ৪

নাসিরনগর প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০ | পড়া হয়েছে 120 বার

নাসিরনগরের আশ্রয়ণ প্রকল্পের জায়গা দখলের অভিযোগে মামলা ॥ গ্রেপ্তার ৪

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে আশ্রয়ন প্রকল্পের জায়গা দখল করায় ইউপি সদস্য ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকতা মাহবুবুর রহমান মামলাটি দায়ের করেন। পরে পুলিশ মামলায় ইউপি সদস্যসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুত প্রতিটি ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে দুই শতক জায়গার উপর দুই কক্ষের আধপাকা টিন-শেড ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। প্রতিটি ঘরের নির্মাণ ব্যয় এক লাখ ৭১ হাজার টাকা ধরা হয়।


উপজেলা ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাজমা আশরাফীর সভাপতিত্বে টাস্কফোর্স কমিটির সভায় স্থানীয় সাংসদ বি এম ফারহাদ হোসেনের উপস্থিতিতে ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধী, বিধবা, স্বামী পরিত্যাক্তা ও প্রবীন ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিয়ে ২০টি পরিবারকে বাছাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ২০টি পরিবারের জন্য ঘর নিমার্ণ করতে ৩৪ লাখ ২০হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়।

উপজেলা বুড়িশ্বর ইউনিয়নের লক্ষীপুর মৌজায় দুটি সরকারি খাস জায়গা নির্ধারণ করা হয়। লক্ষীপুর মৌজার ১১৪৭ দাগের ভূমিতে আটটি পরিবার এবং বাকী ১২টি পরিবারকে ৯৪৯ দাগে পুর্নবাসনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য প্রস্তাবিত গৃহ ও ভূমি নির্মাণের জন্য লক্ষীপুরে মৌজায় প্রকল্পের ব্যানার সাটান উপজেলা প্রশাসন। প্রকল্পের প্রস্তাবিত ১১৪৭ দাগের খাস জায়গায় আগে থেকেই লক্ষীপুর উত্তরপাড়া নূরানী জামে মসজিদ নামে একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু উপজেলার একটি প্রভাবশালী মহল সম্প্রতি আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর জায়গা দখলে নিতে মসজিদ থেকে ২০ ফুট দূরত্বে রাতের আধাঁরে বঙ্গবন্ধু নূরানী মাদ্রাসা নামে সাইনবোর্ড ব্যবহার করে একটি টিনের ঘর নির্মাণ করেন। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলা চেয়ারম্যান রাফি উদ্দিন আহমেদ, ইউএনও নাজমা আশরাফি, বুড়িশ্বর ইউপি চেয়ারম্যান এ টি এম মোজাম্মেল হক সরকার পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করেন। বুধবার দুপুরে বুড়িশ্বর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকতা মাহবুবুর রহমান বাদী হয়ে ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমানসহ ৬জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ১০-১৫ জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেন।

সাবেক ইউপি সদস্য আমির হোসেন অভিযোগ করে বলেন, প্রকল্প এলাকার খাস জায়গায় আগে থেকে একটি মসজিদ থাকার পরও তারা বঙ্গবন্ধুর নাম ব্যবহার করে আরেকটি মাদ্রাসা নির্মাণ করেন। প্রকল্প এলাকায় একটি খাস পুকুরসহ আরো ৪-৫ একর খাস জায়গা প্রভাবশালীরা দখল করে রেখেছে।

মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে বুড়িশ্বর ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমান (৩৮), আনিস মিয়া (২৩), আজিজুল ইসলাম (৪২), গেলন মিয়াকে (২৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদেরকে বুধবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাজমা আশরাফী বলেন, সরকারি খাস জায়গা দখল করে নির্মাণ করে স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এবিষয়ে থানায় মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১