শিরোনাম

নবীনগর আওয়ামী লীগ প্রার্থী বুলবুলের মনোনয়ন বাতিল চেয়ে আদালতে যাচ্ছেন ক্ষুব্ধ জিকরুল

নবীনগর প্রতিনিধি : | বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ | পড়া হয়েছে 342 বার

নবীনগর আওয়ামী লীগ প্রার্থী বুলবুলের মনোনয়ন বাতিল চেয়ে আদালতে যাচ্ছেন ক্ষুব্ধ জিকরুল

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এবাদুল করিম বুলবুলের মনোনয়নপত্র বাতিল চেয়ে নির্বাচন কমিশনে আপিল খারিজ হওয়ার পর এবার আদালতে যাবেন বলে জানিয়েছেন এড. শাহ্ জিকরুল আহমেদ খোকন। জিকরুল ওই আসনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) মনোনীত প্রার্থী। গত সোমবার প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেয়ার অভিযোগ এনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এবাদুল করিম বুলবুলের মনোনয়নপত্র বাতিল চেয়ে গত ৫ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন জিকরুল আহমেদ খোকন। পরে কমিশন তার আপিল আবেদন খারিজ করে দেন।


এ বিষয়ে জিকরুল আহমেদ খোকন সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী এবাদুল করিম বুলবুল হলফনামায় ভুল, মিথ্যা এবং অসত্য তথ্য দিয়েছেন। সেটা আমি বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছিলাম। কিন্তু তিনি সেই অভিযোগ শুনেননি। এরপর আমি এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে আপিল করি। কমিশন আমাকে বললো, এটা আপিল করার না কি কোনো বিধানই নেই। তারা কিভাবে একথা বলে? স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের এ বক্তব্যে আমি অবাক ও বিস্মিত হই।

তিনি বলেন, এরপর আমি তাদেরকে আইন দেখালাম এবং বললাম রিটার্নিং কর্মকর্তার যেকোনো আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যায়। কমিশন মুখে আমাকে আপিল করার বিধান নেই বললেও আপিল নামঞ্জুর করার কারণ হিসেবে দেখিয়েছে আমি কোনো কাগজ দাখিল করিনি। মানে আমি এপ্লিকেশনই করিনি। অথচ আমি ৬৭ পৃষ্ঠা কাগজ ফিরিস্তি করে দিয়েছি। কিন্তু কমিশন ওপেন কোর্টে বললো একরকম, আর অর্ডার দিলো আরেকরকম। এটি রহস্যজনক। আমি ৪৭ বছর ধরে আইন পেশায় আছি। মুক্তিযুদ্ধকালীন একজন কমান্ডার। তাছাড়া মহাজোটের একজন অংশীদার। তিনি আরও বলেন, ৪টি আসন জাসদ প্রার্থীদের জন্যে উন্মুক্ত থাকবে। এরমধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) একটি। আমি মশাল প্রতীক নিয়েই শেষ পর্যন্ত এখানে লড়ে যাব। আর এ বিষয়ে আইনি লড়াইও চালিয়ে যাব। কারণ, এত বড় অন্যায় আমি মেনে নিতে পারিনা। কমিশনের এ রায়ে আমি সংক্ষুব্ধ-ব্যাথিত। আজকে এ বিষয়ে আদালতে রিট (১৫৭৯৩) করেই আমি এখানে এসেছি।

জিকরুলের অভিযোগ, এবাদুল করিম বুলবুল নবম সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে যে হলফনামা দাখিল করেন সেখানে পরিমাণ উল্লেখ না করে ৪ হাজার টাকা মূল্যের কৃষিজমি এবং স্থাবর সম্পত্তি হিসেবে নবীনগর উপজেলার সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের বাড়াইল মৌজায় ৭ লাখ ৮৮ হাজার ৩৩৩ টাকা মূল্যের ৩২.৬৬ শতাংশ এবং ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের ২৩ শতাংশ জমি থাকার কথা উল্লেখ করেন। কিন্তু একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে দাখিলকৃত হলফনামায় কৃষি জমি ৩২.৬৬ শতাংশ এবং ২৩ শতাংশ জমির পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ করেননি। এর বাইরে বড়িকান্দি ইউনিয়নের থুল্লাকান্দি মৌজায় ২০১৩ সালের ২১ মে ৪২৫০ নম্বর দলিলে ৯ লাখ ১১ হাজার টাকায় ক্রয়কৃত ২২ শতক জায়গার বিষয়টিও হলফনামায় উল্লেখ করেননি তিনি।

তবে, এ বিষয়ে এবাদুল করিম বুলবুলের বক্তব্য-এবারের হলফনামায় তিনি স্থাবর সম্পত্তির ছকে অকৃষি জমি ও বাড়ি হিসেবে সেই জমি দেখিয়েছেন। তার আয়কর রিটার্ন বিবরণীতেও এ বিষয়ে বিস্তারিত দেয়া আছে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১