শিরোনাম

অবশেষে মেঘনা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের অপরাধে জরিমানা

নবীনগরে নদী ভাঙ্গনে সর্বহারা অনেক পরিবার, মানুষ তাদের বাড়ি ঘর সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম

নবীনগর প্রতিনিধি : | বুধবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৮ | পড়া হয়েছে 232 বার

নবীনগরে নদী ভাঙ্গনে সর্বহারা অনেক পরিবার, মানুষ তাদের বাড়ি ঘর সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ও নরসিংদীর জেলা এই দুই এলাকার অমিমাংসিত সীমানা চিহ্নিতকরণের পর অবশেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে মেঘনা নদীতে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে গত সোমবার বিকালে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এক ড্রেজারের মালিককে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) জেপি দেওয়ান।

জানা যায়, নরসিংদী জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে রায়পুরা উপজেলার জনৈক ব্যক্তি ড্রেজারের মাধ্যমে মির্জাচর মেঘনা নদী থেকে অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলনের ইজারা নেয়। কিন্তু ওই ড্রেজার মালিক মেঘনা নদীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার সীমানায় অনেক দিন যাবত অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করতে থাকলে এলাকার কিছু গ্রাম বিলিন হয়ে যায়। অসহায় এলাকাবাসী বহু দিন যাবত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ করলেও উপজেলার সীমানা জটিলতার কারণে এতদিন কিছুই করতে পারেনি প্রশাসন।


অবশেষে সীমানা চিহ্নিত করণের পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুম ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) জেপি দেওয়ানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার সত্যতা দেখতে পেয়ে ড্রেজার, বোটসহ ৬ জনকে আটক করেন। পরে নবীনগর সীমানায় আর বালু উত্তোলন করবেনা মর্মে মুচলেকা দিলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাদেরকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়।

উল্লেখ্য, এতদিনের দুই এলাকার অমিমাংসিত সীমানা ইস্যু ঘোচালেও নরসিংদীর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে রায়পুরা উপজেলার প্রভাবশালী মহলের ড্রেজারের মাধ্যমে মির্জাচর মেঘনা নদী থেকে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের ইজারা অনুমতি দেওয়ার ফলে উপজেলার চরলাপাং মৌজা সহ নদী এলাকার অনেক গ্রামে ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে। ইদানিং ভাঙ্গনের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতিপূর্বে চরলাপাং ও নবীপুর গ্রামের একটি বড় অংশ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ৬টি মৌজা নিয়ে সৃষ্ট এ গ্রামটির তিনটি মৌজা ১, ২, ৩ সীটটি আগেই বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে চরলাপাং মৌজার ৪, ৫, ৬ নং সীটের মধ্যে কিছু অংশ গত সোমবার দিবাগত রাতে বিলীন হয়ে গেছে। বাকি অর্ধেকাংশ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার অবস্থায় ছিলো। আরো প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা নদী ভাঙ্গন কবলের শিকারের মধ্যে আছে। বর্তমানে গ্রামের যে অংশটুকু ভাঙ্গনের আশংকায় আছে সে সকল অংশের মানুষ তাদের বাড়ি ঘর সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে এ ভাবে ড্রেজার দিয়ে সিন্ডিকেটে বালু ব্যবসায়ীরা বালু উত্তোলন করার ফলে মেঘনা নদী ঘেঁসা অনেক গ্রাম দেশের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে এবং সর্বহারা হচ্ছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০