শিরোনাম

নবীনগরের আওয়ামী লীগ নেত্রী স্বপ্নাকে ভাড়াটে খুনী দিয়ে হত্যা

নবীনগর প্রতিনিধি | মঙ্গলবার, ০৯ জানুয়ারি ২০১৮ | পড়া হয়েছে 162 বার

নবীনগরের আওয়ামী লীগ নেত্রী স্বপ্নাকে ভাড়াটে খুনী দিয়ে হত্যা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক স্বপ্না আক্তারকে পরিকল্পিতভাবেই খুন করা হয়। পূর্ব বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকান্ড ঘটানো হয়। ভাড়াটে খুনী দিয়ে ঘটানো হয় এ হত্যাকান্ড। একাধিক ব্যক্তি এ হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত।
স্বপ্না হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে এমন তথ্যই দিয়েছেন নবীনগর উপজেলার বাঙ্গরা গ্রামের শামসুল হকের ছেলে আনোয়ার হোসেন। গত সোমবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুলতান সোহাগ উদ্দিনের আদালতে আনোয়ার হোসেন এ জবানবন্দি দেন।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম সিকদার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের স্বার্থে জবানবন্দি বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হন নি তিনি। আগে থেকে যেসব বিরোধের কথা ভাবা হচ্ছিল সেসব কারণেই স্বপ্না খুন হন বলে জানান তিনি।
তবে শুরু থেকেই হত্যা মামলার তদারকিতে থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন জানান, পুলিশের কাছেও আনোয়ার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। আনোয়ারের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘দলীয় ও ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেই আনোয়ার হোসেন হত্যার পরিকল্পনা করেন। এ হত্যাকান্ডের জন্য নাহিদ নামে একজনের সঙ্গে এক লাখ টাকায় রফা করা হয়। নাহিদ নিজে ও ভাড়া করা দুই ব্যক্তি মিলে এ হত্যাকান্ড ঘটায়। স্বপ্না আক্তারের সঙ্গে নাহিদেরও বিরোধ ছিল।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৪ জানুয়ারির গভীর রাতে ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে আনোয়ারকে আটক করে পুলিশ। পরদিন সকালে তাকে নবীনগর নিয়ে আসা হয়। থানায় এনে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে তাকে আদালতে আনা হয়।
পুলিশ, স্থানীয় ও দলীয় সূত্র জানায়, খুন হওয়ার কয়েকদিন আগে স্বপ্না এলাকার ওয়াজ মাহফিলের দাওয়াত নিয়ে ঢাকায় যান। বনানীর একটি অফিসে গার্মেন্টস চাকুরে আনোয়ারের সঙ্গে স্বপ্নার বাগবিতন্ডা হয়। এ সময় আনোয়ার উচ্চ বাচ্য করেন ও স্বপ্নাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন। এছাড়া জিনোদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক প্রার্থী হওয়া নিয়েও আনোয়ারের সঙ্গে স্বপ্নার বিরোধ দেখা দেয়। আনোয়ার মনে করতো স্বপ্নার কারণে তার পদবী পাওয়া সম্ভব হবে না। সেই থেকে আনোয়ার ক্ষুব্ধ হয়।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, দলীয় বিরোধের পাশাপাশি ঢাকায় হওয়ার তর্কাতর্কিকে কেন্দ্র করেই মূলত ক্ষুব্ধ হয় আনোয়ার। এলাকায় এসে তিনি বাঙ্গরা গ্রামের আবুল কাসেমের ছেলে নাহিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। নাহিদও জানায় তিনি স্বপ্নার প্রতি চরম ক্ষুব্ধ। এ অবস্থায় স্বপ্নাকে খুন করার জন্য নাহিদকে এক লাখ টাকা দেন আনোয়ার। পরিকল্পনা অনুযায়ি দুইজন ভাড়াটিয়া খুনী আনে নাহিদ। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে স্বপ্না কোথায় আছেন, কোন পথে যাচ্ছেন এসব তথ্য ভাড়াটে খুনীদের কাছে দেয় নাহিদ। সেই অনুযায়ি একটি অটোরিকশায় উঠার পর গুলি করে স্বপ্না আক্তারকে খুন করা হয়।
মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা ও নবীনগর থানার এস.আই সুখেন্দু বসু জানান, স্বীকারোক্তি দেয়া আনোয়ার হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও চুক্তি অনুযায়ি এক লাখ টাকা পরিশোধ করে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত হিসেবে আনোয়ার যাদের নাম বলেছেন তাদেরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
প্রসঙ্গত, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলন শেষে ফেরার পথে গত ২২ নভেম্বর রাতে খুন হন স্বপ্না আক্তার। এ ঘটনায় স্বপ্না আক্তারের ভাই আমীর হোসেনের দায়ের করা মামলায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে বিভিন্ন সময়ে রিমান্ডে আনে।


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১