শিরোনাম

দুর্নীতির আখড়া বিজয়নগর প্রাথমিক শিক্ষা অফিস

বিজয়নগর প্রতিনিধি : | বৃহস্পতিবার, ২৮ জুন ২০১৮ | পড়া হয়েছে 243 বার

দুর্নীতির আখড়া বিজয়নগর প্রাথমিক শিক্ষা অফিস

দুর্নীতির আখড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। নানা অনিয়মে ভরপুর হয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। ফলে, শিক্ষক সহ স্থানীয় লোকজন ও দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ৪৩টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। শতাধিক সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। শিক্ষা কর্মকর্তা ডেপুটেশনে থাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ উপজেলায় ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা দিয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। ফলে নানাহ অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছে শিক্ষা অফিস।


অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শিক্ষকদের সম্মানী কর্তন ও সরকারি ভাবে ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও শিক্ষা সপ্তাহ ও মিনা মেলার নামে প্রত্যেক স্কুল থেকে ৫০০ টাকা করে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এবং উন্নয়ন মেলার নামে প্রত্যেক স্কুল থেকে ২৫০ টাকা করে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাব ক্লাস্টার ক্লাশের শিক্ষকদের সম্মানী কম দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মাজহারুল হুদা চান্দুরা, বুধন্তি, ইছাপুরা, চর ইসলামপুর ও চম্পকনগর ইউনিয়নের প্রায় ৩ শতাধিক শিক্ষককে ২৪০ টাকা সম্মানীর পরিবর্তে ২০০ টাকা এবং প্রশিক্ষককে ৬০০ টাকার পরিবর্তে ৫০০ টাকা দিয়েছেন। পক্ষান্তরে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো: মনছুর আলি উপজেলার হরষপুর, পাহাড়পুর, বিষ্ণুপুর, সিংগারবিল ও পত্তন ইউনিয়নের প্রায় ৩ শতাধিক প্রশিক্ষণার্থীদের ২৪০ টাকা ও প্রশিক্ষকদের ৬০০ টাকা করে দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করে একাধিক শিক্ষক বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তা শিক্ষকদের সম্মানী কর্তন, বদলী বাণিজ্য ও বিভিন্ন সময় চাঁদা আদায় করে নিচ্ছে এবং কয়েকজন শিক্ষককে এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করছে। আর এর প্রতিবাদ করলেই তার রোষানলে পড়তে হয়।

এ ব্যাপারে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মনছুর আলী বলেন, সাব ক্লাস্টার ট্রেনিংয়ে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীদের জন্যে ২৪০ টাকা ও প্রশিক্ষকদের জন্য ৬০০ টাকা সম্মানী দেওয়ার বিধান থাকায় আমি তাদেরকে ২৪০ ও ৬০০ টাকা করে  দেই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলী আফরোজ বলেন, শিক্ষা কর্মকর্র্র্তা জাহিদা সিদ্দিকা ডেপুটেশনে থাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। যাতে কাজের ব্যাঘাত ঘটছে এবং শিক্ষা সপ্তাহের জন্য সরকারি ভাবে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। স্কুল থেকে টাকা তোলার বিধান নেই। যদি টাকা তোলার লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাড. তানভির ভূঁইয়া বলেন, এ ব্যাপারে আমি কিছু জানিনা তবে আমি খবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

তবে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্র্তা ঘুষ বাণিজ্যের বিষয় অস্বীকার করে বলেন, সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। আমি শিক্ষক সংকট ও কর্মচারী সংকটে হিমসিম খাচ্ছি এবং শিক্ষকদের সম্মানী দেওয়ার বিধান নাই। তাদের আপ্যায়নের জন্য ২৪০ টাকা করে দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৪০ টাকার উপরে তাদের নাস্তা করানো হয় এবং তাদের খরচ বাবদ ২০০ টাকা দেওয়া হয়।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১