শিরোনাম

সরাইলে শিশু কাশফিয়া হত্যাকান্ড

দুই আসামীর আদালতে স্বীকারোক্তি ॥ স্বর্নের দুলের জন্যই হত্যাকান্ড

সরাইল প্রতিনিধি | শুক্রবার, ১৯ মার্চ ২০২১ | পড়া হয়েছে 205 বার

দুই আসামীর আদালতে স্বীকারোক্তি ॥ স্বর্নের দুলের জন্যই হত্যাকান্ড

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ৮ বছরের শিশু কাশফিয়া ওরফে শেফা হত্যাকান্ডে জড়িত দুই আসামী আদালতে স্বীকারোক্তি জবানবন্দী প্রদান করেছে।

গত বৃহস্পতিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদ হোসাইনের তৃতীয় আদালতে দুই আসামী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। এর আগে তারা পুলিশের কাছেও সত্যতা স্বীকারসহ হত্যাকান্ডের পরের কিছু ঘটনা দেয়।


শিশু কাশফিয়া সরাইল উপজেলা সদর ইউনিয়নের সৈয়দটুলা গ্রামের ফার্নিচার ব্যবসায়ী আব্দুল কাদেরের মেয়ে। এর আগে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় সৈয়দটুলা গ্রামের নোয়াহাটি এলাকার একটি ঝোঁপ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

স্বীকারোক্তিতে হোসেন মিয়া ও রিমি আক্তার জানান, মূলত শিশুর কানে থাকা স্বর্ণের দুল নেয়ার জন্যই পরিকল্পিতভাবে তাকে ডেকে নেয়া হয়। দুল নেয়ার সময় শিশুটি চিৎকার করলে তাকে প্রথমে গলা চেপে ও পরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকান্ডের পর দুই আসামী শারিরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। পরে একটি ঝোঁপঝাড়ে নিয়ে লাশ ফেলে দেয়। হত্যার সাথে জড়িত রিমি আক্তার খুব স্বাভাবিক ভাবেই বাড়ি গিয়ে গোসল করে ঘুমিয়ে পড়েন।

এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে কাশফিয়া নিখোঁজ হয়। একদিন পর বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাড়ির কাছের ঝোঁপঝাড়েই তার লাশ পাওয়া যায়। সৈয়দটুল গ্রামের পশ্চিম পাড়ার আব্দুল মতিনের মেয়ে রিমি আক্তার ও পূর্ব পাড়ার শাহবাজ আলীর ছেলে হোসেন মিয়া এ হত্যাকান্ডের সাথে সরাসরি জড়িত।

এর আগে পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে রিমি আক্তার, হোসেন মিয়া, জামিল ও সুশীল দত্ত নামে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে।

এ ঘটনায় রিমির পিতা আবদুল কাদির বাদি হয়ে থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে বুধবার দুপুরে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।
সরাইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ কবির হোসেন জানান, মঙ্গলবার বিকেল থেকে কাশফিয়ার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিলনা। তার খোঁজে গ্রামে মাইকিংও করে শিশুটির পরিবার। শিশুটির সাথে রিমির ভালো সম্পর্ক থাকায় সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে রিমির দেয়া তথ্য মতেই শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। রিমি যেসব তথ্য দিচ্ছে সেগুলো যাচাই করা হয়। তার দেয়া তথ্য মতেই হোসেন ও জামালকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে শিশু কাশফিয়ার কানের দুল কেনার অপরাধে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুশীল দত্তকে আটক করা হয়।

স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে তিনি জানান, শিশুটির কাছে থাকা কানের দুল ছিনিয়ে নিতে পূর্ব পরিকল্পিত হোসেন মিয়ার সাথে কথা বলে রিমি। পরিকল্পনা অনুযায়ি রিমি ওই শিশুকে ঘোড়ার খেলা দেখানোর কথা বলে হোসেনের বাড়িতে নিয়ে যায়। হোসেন ঘরে ঢোকার পর শিশুটির কাছ থেকে কানের দুল ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় শিশুটি চিৎকার শুরু করলে প্রথমে তাকে গলা চিপে ও পরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকান্ডের পর হোসেন ও রিমি শারিরিক সম্পর্ক করে। পরে রিমি কানের দুল নিয়ে সুশীল দত্তের দোকানে নিয়ে চার হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়। হত্যাকান্ডের পরও খুব স্বাভাবিক ছিলো রিমি। বাড়িতে গিয়ে গোসল করে সে ঘুমিয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, রিমি ও হোসেন মিয়াসহ চার আসামীকেই কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জামিল ও সুশীল দত্তকে রিমান্ডে আনা হবে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১