শিরোনাম

ফলোআপ ঃ নবীনগরের মোবারক হত্যাকান্ড

থানাকান্দি গ্রাম পুরুষ শূন্য ॥ বাড়ি-ঘরে ব্যাপক ভাংচুর-লুটপাট

নাসিরনগর প্রতিনিধি | মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২০ | পড়া হয়েছে 252 বার

থানাকান্দি গ্রাম পুরুষ শূন্য ॥ বাড়ি-ঘরে ব্যাপক ভাংচুর-লুটপাট

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের থানাকান্দি গ্রামে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি জিল্লুর রহমান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতা কাউছার মোল্লার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে মোবারক মিয়া-(৩৭) নামের এক রিকশা চালকের পা বিচ্ছিন্ন করে মিছিলের ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। গত ১২ এপ্রিল ঘটা সংঘর্ষে পা বিচ্ছিন্ন হওয়া মোবারক মিয়া নিহত হয়।

এ ঘটনার ৬দিন পন নিহত মোবারকের চাচাতো ভাই চাঁন মিয়া বাদী হয়ে ১৫২ জনকে আসামী করে নবীনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।


এই মামলা নিয়ে এলাকায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর পরই পুলিশ দুইদলের প্রধান জিল্লুর রহমান ও কাউছার মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেন। বর্তমানে তারা কারাগারে আছেন। চান মিয়ার দায়েরকৃত মামলায় কারাগারে থাকা একপক্ষের দলনেতা কাউসার মোল্লাকে ২নং আসামী করা হয়। কিন্তু এই হত্যা মামলায় প্রধান আসামী করা হয়েছে পাশ্ববর্তী বীরগাও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির আহমেদকে ও তার ভাই আলমগীরকে ২৬ নং আসামী করা হয়েছে।

এক ইউনিয়নের হত্যা মামলায় পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও তার ভাইকে আসামী করায় এই হত্যাকান্ডের ন্যায় বিচার নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক কারনেই চেয়ারম্যান কবির ও তার ভাই আলমগীরকে আসামী করা হয়েছে বলে অভিমত এলাকাবাসীর।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কৃষ্ণনগর ইউপির চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান ও একই ইউনিয়নের কাউসার মোল্লার বিরোধ দীর্ঘদিনের। এই বিরোধের জেরে জোড়া খুন সহ একাধিক হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। বেশ কয়েকটি মামলাও চলমান উভয়পক্ষের মধ্যে। রাজনৈতিক ও আধিপত্যকে কেন্দ্র করে এর রেশ চলে যায় পাশের ইউনিয়ন বীরগাঁওয়ে।

গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন বর্তমান এমপি ও তার অনুসারীরা। ইউপি চেয়ারম্যান কবির আহমেদ সাবেক সাংসদ ফয়জুর রহমান বাদলের অনুসারী। বীরগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান কবির আহমেদ সমর্থন দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীকে। ওই ইউপিতে চেয়ারম্যান ও এমপির অনুসারীদের বিরোধ চরমে।

এলাকাবাসী জানান, বর্তমান এমপির অনুসারী কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান, বীরগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি হোসেন সরকার, জহির ও আফজাল হোসেন বীরগাঁওয়ে বাইশমৌজা বাজার নিয়ন্ত্রন করতে চান। গত ১২ এপ্রিল সংঘর্ষে নিহত হওয়া মোবারক চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমানের অনুসারী। এ বিষয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামী বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির আহমেদ মুঠোফোনে বলেন, সংঘর্ষের দিন আমি আমার এলাকায় ত্রাণ কাজে ব্যস্ত ছিলাম।

এ ব্যাপারে বীরগাঁও ইউপি আওয়ামী লীগের সভাপতি হোসেন সরকার বলেন, এখানে আমাদের কোন হাত নেই। কবির চেয়ারম্যান দুই তিন বছর আগে নিজেই একটি মিটিংয়ে বলেছেন, তিনি কৃষ্ণনগরের ওই ঘটনার একপক্ষের দলনেতা কাউসার মোল্লার পক্ষের লোক। এই মামলার বিষয়ে আমাদের কোন হাত নেই।

এদিকে, এই হত্যাকান্ডের পর কাউসার মোল্লার সমর্থকদের বাড়িঘর পুরুষ শুন্য হয়ে পড়েছে। এই সুযোগে তাদের বাড়িতে প্রতিপক্ষ জিল্লুর রহমানের লোকজন কাউছার মোল্লার সমর্থকদের বাড়ি-ঘরে লুটপাট করছেন। তাদের ঘর-বাড়ি-বিল্ডিং ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাদেরকে প্রতিনিয়ত হুমকি-ধামকী দেয়া হচ্ছে।

বাড়িতে থাকা হেনা বেগম জানান, আমরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে ছিলাম। শুধু ধান কাটার সময়ের কারণে আমরা ঝুঁকি নিয়ে থাকছি। দিনের বেলায় প্রতিপক্ষের লোকজন এসে আমাদেরকে হুমকি দিচ্ছে, যেন নিজ বাড়ি ছেড়ে চলে যাই।

গ্রামের ভেতরে দেখা যায় কয়েকটি আগুনে পুড়া ঘর। পাশাপাশি দুইটি বাড়ির বিল্ডিং ঘুড়িয়ে দেওয়া ধ্বংসস্তুপ।
হাজেরা বেগম নামের এক নারী বলেন, এই পাকা ভবনের মালিক বজলু মিয়া। পা কেটে নেওয়া মোবারক মারা যাওয়ার একদিন পর মধ্যরাতে জিল্লুর রহমান চেয়ারম্যানের লোকজন বড় বড় হেমার দিয়ে বিল্ডিংটি ভেঙে ফেলে। তারপর ঘরে থাকা প্রায় ৫লক্ষ টাকার মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়। এই বাড়ির মালিক এখন এলাকা ছাড়া।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) মকবুল হোসেন বলেন, তদন্তে এজাহারভুক্ত সম্পৃক্ততা না পাওয়া গেলে, কাউকেই নুন্যতম হয়রানি করা হবে না। তিনি আরো জানান, এর মধ্যে ২ নম্বর আসামিসহ এ মামলার এজাহারভুক্ত ৯ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১