শিরোনাম

আশুগঞ্জ চরচারতলা গ্রামের চাঞ্চল্য তুর্ণা হত্যা মামলার আসামি পলাতক

তুর্ণা হত্যা মামলার প্রধান আসামী রণি দেশ ছেড়ে পালানোর অপচেষ্টায়

বার্তা প্রেরক | বুধবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | পড়া হয়েছে 452 বার

তুর্ণা হত্যা মামলার প্রধান আসামী রণি দেশ ছেড়ে পালানোর অপচেষ্টায়

বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগে আবেদনের প্রেক্ষিতে ২ বিচারপতির বেঞ্চের মঞ্জুরকৃত ৬ সপ্তাহের জামিন লাভ পরবর্তীতে জামিনের মেয়াদ শেষে জেলা দায়রা জজ আদালতে হাজিরা না দেয়ায় গ্রেফতারী পরোয়ানার আদেশ মাথায় নিয়ে সাজা থেকে রেহাই পাবার উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়ে বিদেশে পালানোর লক্ষ্যে ভিসা পাসপোর্ট সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাধীন আশুগঞ্জ উপজেলার চরচারতলা গ্রামে বিগত ২০১৭ সালের ২৪ এপ্রিল সংগঠিত চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী এক কন্যা সন্তানের জননী গৃহবধু কামরুন্নাহার তুর্ণা হত্যা মামলার প্রধান আসামী চরচারতলা গ্রামের খান মাহমুদ সরকার বাড়ি নিবাসী আমিরুল হক ছোট্টু’র ছেলে ও নির্মম হত্যার শিকার তুর্ণা’র স্বামী পলাতক মো: আরিফুল হক রণি।

উল্লেখ্য, আশুগঞ্জ উপজেলাধীন চরচারতলা গ্রামের খান মাহমুদ সরকার বাড়ি’র অধিবাসী আমিরুল হক ছোট্টু’র ছেলে নেশাখোর মো: আরিফুল হক রণি দাম্পত্য কলহ (ঝগড়া)র জেরে দিবা রাত শারিরীক মানসিক নির্যাতনের এক পর্যায়ে বিয়ের ৫ বছর পর গত ২০১৭ সালের ২৪ এপ্রিল দিবাগত রাতে নিজের পূর্ব পরিকল্পনা অনুসারে অজ্ঞাত পরিচয় আরও ২ জনের সহযোগিতায় নিজ স্ত্রী ও সহি নামক এক কন্যা সন্তানের জননী কামরুন্নাহার তুর্ণাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে বসত ভবনের ছাদের উপর রাখা পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের পানির ট্যাংকির ভিতর ফেলে রেখে পরদিন ২৫ এপ্রিল ভোর ৬টায় শ্বশুর একই বাড়ির অধিবাসী মফিজুল হক কে “আপনার মেয়ে তুর্ণাকে খঁজে পাওয় যাচ্ছে না” বলে পালিয়ে যায়। এ কথায় আতংকিত হয়ে মফিজুল হক সহ পরিবারের সদস্যরা সারাদিন খোঁজাখুঁজির পর বিকেল ৫টায় ছাদে পরিত্যক্ত পানির ট্যাংকির ভিতর উড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো ও শরীরের পিছনে দুই হাত বাঁধা এবং পলিথিন দিয়ে মুখমন্ডল মোড়ানো অবস্থায় কামরুন্নাহার তুর্ণার লাশ খুঁজে পায়। এতে সারা বাড়ি জুড়ে স্বজনদের মধ্যে কান্নার রোল পড়ে। আশুগঞ্জ থানায় খবর দেয়ার পর পুলিশ ঘটনা স্থলে পৌঁছে। পানির ট্যাংকি থেকে নিহত তুর্ণার লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে ময়নাতদন্ত করায়। একই দিন স্বামী কর্তৃক নির্মম হত্যার শিকার কামরুন্নাহার তুর্ণার পিতা মফিজুল হক বাদী হয়ে বাংলাদেশ পেনাল কোড ১৮৬০ এর ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় আশুগঞ্জ থানার তৎকালীন ওসি মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের নিকট হত্যা করে লাশ গুম করার মামলা নং-০৫ রুজু করেন। পুলিশ ময়নাতদন্ত শেষে তদন্ত রিপোর্টসহ জেলা দায়রা জজ আদালতে মামলাটি বিচারের জন্য স্থানান্তর করে। সেখানে এটি দায়রা ১০৭/১৮ জিআর ৪৭/১৭ রুপে নথিভুক্ত হয়। এহেন অবস্থায় পলাতক থেকে হত্যা মামলাটির প্রধান আসামী স্বামী মোঃ আরিফুল হক রণি বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগে জামিন আবেদন প্রার্থনা করলে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমান এর বেঞ্চ শুনানীর পর আবেদনকারীকে ৬ সপ্তাহের জামিন মঞ্জুর করে মেয়াদ শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা দায়রা জজ আদালতে হাজিরের নির্দেশ দিয়ে গত ২০১৮ সালের ১২ নভেম্বর এসিসটেন্ট রেজিষ্ট্রার মোঃ জাকির হোসাইন পাটওয়ারীর স্বাক্ষরিত আদেশ পত্র প্রেরণ করেন। কিন্তু জামিনের মেয়াদ শেষে আসামী মোঃ আরিফুল হক রণি আদালতে হাজির না হওয়ায় দায়রা জজ আদালত চলতি সালের গত ১৪ জানুয়ারি আসামী রণির বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেন। এহেন অবস্থায় সাজা থেকে রেহাই পাবার হীন উদ্দেশ্যে আসামী রণি গোপনে ভিসা পাসপোর্ট সংগ্রহ করে ভারত হয়ে অন্য দেশে পালিয়ে যাবার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে বাদী মফিজুল হক সূত্রে অভিযোগ পাওয়া গেছে।


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১