শিরোনাম

তিতাস নদীতে অবৈধ বাঁশের ঘের, যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে

স্টাফ রিপোর্টার : | মঙ্গলবার, ০৭ নভেম্বর ২০১৭ | পড়া হয়েছে 133 বার

তিতাস নদীতে অবৈধ বাঁশের ঘের, যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে

জেলার নবীনগর ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় তিতাস নদের অন্তত ২০০শতাধিক স্থানে বাঁশের বেড়া দিয়ে জাল পেতে অবৈধভাবে মাছ ধরা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন নদীর চলাচলের পথে আকৃতি কমছে অন্যদিকে নৌপথে যানবাহন চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, ‘নদীতে জালের বেড়া দিয়ে মাছ শিকার অবৈধ। তিতাস নদের অনেক জায়গায় অবৈধভাবে বেড়া দিয়ে মাছ শিকার করছে কিছু লোকজন। অতীতে আমরা অভিযান চালিয়ে জাল উচ্ছেদ করেছি। এবারও শীঘ্রই অভিযান চালানো হবে।’


নবীনগর উপজেলার গোসাইপুর, জালশুকা, বাঈশমোজা, কৃষ্ণনগর ও রসুলপুরসহ নদীর তীরবর্তী বেশ কয়েকটি এলাকায় অন্তত ৬০/৭০ স্হানে নদীতে অবৈধ ভাবে বাশেঁর বেড়া দিয়ে কচুরিপানা আটকিয়ে মাছ ধরা হচ্ছে। এতে করে নদী নির্ভর ইঞ্জিনচালিত যাত্রীর নৌকা, ইস্পিট বোর্ড, লঞ্চসহ ইট বালুর বোঝাই বড় নৌকা চলাচলের অনেকটাই নিরূপায় হয়ে পড়েছে। সন্ধ্যার পর নদীতে চলাচলরত এসব নৌযান একটা আরেকটাকে পাস দিয়ে প্রায় ঘটছে দুর্ঘটনা।

অন্যদিকে জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার জয়কালীপুর এলাকায় মেঘনা নদী থেকে তিতাস নদের উৎপত্তি। এটি উপজেলার তেজখালী, ফরদাবাদ, ছলিমাবাদ, দরিয়াদৌলত, ও উজানচরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের অনেকগুলির গ্রাম তিতাস নদীর বয়ে গেছে। এতে অন্তত ৮০/৯০টি স্থানে বাঁশের বেড়া দিয়ে জাল বেঁধে পোনাসহ ছোট-বড় মাছ শিকার করছেন এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।
এতে এ নৌপথে চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটছে।

সুভাষ ও রনজিৎত দাস, আলী মিয়া, কুদ্দুস, কামাল মিয়ার সাথে কথা হলে তারা জানান, প্রতি বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর এই তিন মাস নদ থেকে বর্ষার পানি নেমে যায়। এ সময়ে নদের বিভিন্ন স্থানে বাঁশের বেড়া দিয়ে জাল ফেলা হয়। নদীতে আড়াআড়িভাবে ২০০-৩০০ ফুট লম্বা বেড়ায় জাল পাতা হয়। এই বেড়ার এক প্রান্তে ১৫-২০ ফুট পরপর বাঁশের মাচা করে লম্বা বাঁশ দিয়ে নদের তলদেশে জাল পাতা হয়। প্রতিটি জালে ১৫-২০ জন শ্রমিক মাছ ধরার কাজ করেন। তারা জানান, এসব ঘের ইউনিয়ন ভিওিক জনপ্রতিনিধি ও প্রভাব শালীদের করা। আমরা শুধু কাজের বিনিময়ে মজুরি পাই। তবে নদীতে নৌযান চলাচলের ব্যাঘাত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন তারা।

নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহহীন গাজী তানবীর জানান, আমরা ইতিমধ্যে অনেকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুরোপুরি উচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বাঞ্ছারাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: শরিফুল ইসলাম জানান, নদী অবৈধ বাশের ঘের উচ্ছেদে আমরা অভিযান শুরু করেছি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্হা নেওয়া হবে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১