শিরোনাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী মাহমুদুল হক ভূইয়া

তান্ডবের ঘটনায় হেফাজত-বিএনপি ও জামাত জড়িত

স্টাফ রিপোর্টার | শনিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২১ | পড়া হয়েছে 157 বার

তান্ডবের ঘটনায় হেফাজত-বিএনপি ও জামাত জড়িত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের হরতাল চলাকালে প্রায় অর্ধশতাধিক সরকারি, বেসরকারি স্থাপনায় হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিকান্ডের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সদ্য সমাপ্ত পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের “বহিষ্কৃত সদস্য” মাহমুদুল হক ভূইয়া।

গত শুক্রবার ২রা এপ্রিল, ২০২১ বেলা ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুল হক ভূইয়া বলেন, গত রোববার হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালের সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া নারকীয় তান্ডবের ঘটনায় হেফাজত, বিএনপি, জামাত ও একদল স্বাধীনতা বিরোধী উশৃংখল জনতা জড়িত। এছাড়া তান্ডব ঠেকাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগও ব্যর্থ ছিলো। তিনি বলেন, দলের একজন সদস্য হিসেবে এই ব্যর্থতার দায় তার (মাহমুদ) উপরও পড়েছে।


তিনি বলেন, গত পৌর নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে গিয়ে মেয়র পদে নির্বাচন করায় জেলা আওয়ামী লীগের সুপারিশে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তিনি এখনো কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ থেকে পাঠানো বহিস্কারের কোনো চিঠি পাননি।

সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুল হক ভূইয়া বলেন, গত ২৯ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের তাণ্ডব চালানোর ঘটনায় তিনি ( মাহমুদুল হক ভূইয়া) ও তাঁর সমর্থকরা জড়িত বলে যে অভিযোগ করেছেন তা সম্পূর্ন অসত্য। আমি মনে করি বঙ্গবন্ধুর কোন সৈনিক নারকীয় কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকতে পারেনা।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার জন্যই তাকে (মাহমুদুল হক ভূইয়া) ও তার অনুসারীদেরকে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় আছে। কিন্তু তাণ্ডব ঠেকাতে জেলা আওয়ামী লীগ ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোকতাদির চৌধুরী এমপি এবং সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকারের নেতৃত্বে যে মিছিল হয়েছিল সেই মিছিলের পেছন থেকে যারা উস্কানি দিয়েছিল মাদারাসা ছাত্রদেরকে, ভিডিও ফুটেজগুলো ভালো করে পর্যালোচনা করলে দেখবেন- তারা আওয়ামী লীগ নামধারী ছদ্মবেশী এবং অনুপ্রবেশকারী, তারা কেউই বঙ্গবন্ধুর সৈনিক না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সুবাদে বিভিন্ন সুযোগ নেওয়ার জন্য তারা আওয়ামী লীগের লেবাস ধারণ করে আওয়ামী লীগের সাথে আছে। তারাই এই ঘটনার মূল ইন্ধনদাতা বলে আমি মনে করি।

তিনি আরো বলেন, শহরের ‘কান্দিপাড়া এবং শিমরাইলকান্দি বিএনপি-ছাত্রদল অধ্যুষিত এলাকা। বড় মাদরাসাটাও ওই এলাকায়। ঘটনার দিন হুজুরদের সাথে কান্দিপাড়া ও শিমরাইলকান্দির বহু সংখ্যক ছাত্রদলের উশৃঙ্খল যুবক ঘটনার সাথে জড়িত ছিলো। আমি তাদের নাম বলতে পারবনা, কিন্তু ভিডিও ফুটেজ দেখলে তাদেরকে চিহ্নিত করা যাবে’।

তিনি বলেন, ‘যারা সহিংসতা চালিয়েছে, তারা দেশের শত্রু ইসলামের শত্রু। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নারকীয় ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে এ ধরণের সহিংসতা চলতেই থাকবে। ঘটনার সাথে আমাকে এবং আমার সমর্থকদের জড়িয়ে এমপি মহোদয় যে মিথ্যা বক্তব্য দিয়েছেন, তা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, জেলা কৃষকলীগ নেতা ফরিদ উদ্দিন দুলাল, আতাউর রহমান জাকির, আবুল কালাম সর্দার, ফরিদ আহমেদ দানা, সোহেল আহমেদ, সারোয়ার আলম, নাজমুল হাসান প্রমুখ।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০