শিরোনাম

বাঞ্ছারামপুরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি

ডিলারের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের অভিযোগ তদন্ত কমিটি গঠন

বাঞ্ছারামপুর প্রতিনিধি : | সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৬ | পড়া হয়েছে 366 বার

ডিলারের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের অভিযোগ  তদন্ত কমিটি গঠন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ ইউনিয়নের এক ডিলারের বিরুদ্ধে ১০ টাকা কেজির চাল দুস্থদের মধ্যে বিতরণ না করে আত্মসাতের লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। গত রবিবার উপজেলার ফরদাবাদ ইউনিয়নের ফরদাবাদ এলাকার ৭ দুস্থ ব্যক্তি ডিলার উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর একটি লিখিত এ অভিযোগ দিয়েছেন। উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে প্রধান করে একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়নে ১০ টাক কেজি দরে চাল বিক্রি করতে গত ৬ সেপ্টেম্বর ২৬ জন ডিলার নিয়োগ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এদের মধ্যে ফরদাবাদ ইউনিয়নে ফরদাবদ গ্রামের উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, অভিযোগকারীগন উপজেলার ফরদাবদ ইউনিয়নের পাঁচ, ছয় ও নয় নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং দুস্থ ও খেটে খাওয়া মানুষ। এদের মধ্যে বিতরণের জন্য ৩৫৪ জন দুস্থদের মাঝে কার্ড প্রদান করা হয়। গত অক্টোবর মাসের ২৫ তারিখ থেকে  ২৯ অক্টোবর ওই তিন ওয়ার্ডের ডিলার দেলোয়ার হোসেন প্রথম ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ করেন। এতে ৭ জন দুস্থব্যক্তি একাধিকবার চাউল আনতে ডিলারের কাছে গেলেও তাদের চাল দেয়নি। চাউল না দিয়ে তাদের নামে স্বাক্ষর করে মাস্টাররুল জমা দেন উপজেলা খাদ্য অফিসে। এ বিষয়ে তদন্ত করে ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গতকাল রবিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ওই এলাকার কার্ডধারী দুস্থ ৭ জন।
মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মোতালিব জানান, দেশের জন্য যুদ্ধ করছি জীবন বাজি রাইখা কিন্তু স্বাধীন দেশে অবহেলার পাত্র হইলাম ১০ টাকা কেজি চালের কার্ডধারী হলেও আমাকে চাল দেয়নি ডিলার। নিজেকে খুব অসহায় মনে হচ্ছে। কি আর করমু ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইউএনও স্যারকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানাইছি।
ফরদাবাদ গ্রামের হাছেনা বেগম বলেন, মেম্বার ইব্রাহীম কইছে আমার কার্ড হইছে, চাইল আনতে শান্তির বাজারে গেলে দেলোয়ার (ডিলার) আমারে কয় আপনার কার্ড হয় নাই, তারপরও তালিকায় দেহি দুই ঘন্টা বয়ায় রাখছে, পরে কইছে আপনে জানগা আপনার নাম তালিকায় নাই। পরে শুনছি তালিকায় আমার নাম আছে। বুড়া বয়সে অন্যের বাড়িতে কাম কইরা খাই, আমরা চাইল না পাইলে কেরা পাইবো।
ডিলার দেলোয়ার হোসেনের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি, ( ০১৭১৬৫১৭৪৪৯)
উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা আনারুল হক জানান, এখনও অভিযোগের কাগজ আমার হাতে আসেনি আসলে বিষটি তদন্ত করব। অভিযোগ সত্যত্যা পেলে ডিলার বাতিলের জন্য সুপারিশ করব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত ওসমান বলেন, ফরদাবাদ ইউনিয়নের ফরদাবাদ গ্রামে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির অনিয়মের বিষয়ে লিখিত একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খাদ্য কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তদন্ত করার জন্য।


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০