শিরোনাম

ডিবি পুলিশ পরিচয়ে প্রবাসীকে অপহরণ : মুক্তিপণের টাকাসহ একজন গ্রেপ্তার : ছাত্রলীগ নেতাসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার : | রবিবার, ২১ জানুয়ারি ২০১৮ | পড়া হয়েছে 174 বার

ডিবি পুলিশ পরিচয়ে প্রবাসীকে অপহরণ : মুক্তিপণের টাকাসহ একজন গ্রেপ্তার : ছাত্রলীগ নেতাসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে এক সৌদি প্রবাসীকে অপহরণের পর মুক্তিপণের টাকা নেওয়ার সময় হাতেনাতে রেজাউল করিম ওরফে রানা (২৬) নামে এক অপহরণকারীকে আটক করেছে পুলিশ। গত শনিবার রাতে জেলা শহরের কাজীপাড়াস্থ জেলা ঈদগাহ মাঠ এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।

রেজাউল করিম দক্ষিণ মোড়াইল এলাকার মৃত মিজানুর রহমানের ছেলে। অপহৃত সফিকুল ইসলাম ও মামলা দায়েরকারী জহিরুল ইসলাম বলেন, রেজাউল করিম নিজেকে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি বলে দাবি করেন।


শনিবার (২০.০১.২০১৮) রাতে সরাইল উপজেলার বছিউড়া গ্রামের জহিরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। মামালায় ছাত্রলীগ কর্মী রেজাউল করিম (২৬), জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক শহরের পাইকপাড়ার বাসিন্দা অনিক পাল (২৬) ও পাভেল মিয়া (২৫) এবং মো. শান্ত (২৩) কে আসামী করা হয়।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সন্ধ্যায় সরাইল উপজেলা নোয়াগাও ইউনিয়নের বাছিউড়া সফিকুল ইসলাম জেলা শহরের কাউতলীর দিকে যাচ্ছিলেন। জেলা শহরের অবকাশ এলাকায় একটি মোটরসাইকেলে তিন অপহরণকারী সফিকুলের গতিরোধ করে নিজেদের ডিবির পুলিশের লোক বলে পরিচয় দেন। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে শফিকুকে গ্রেপ্তারের জন্য এসেছেন বলে জানান। কিছুক্ষণ পর অন্য একজন মোটরসাইকেলে আরেকজন ঘটনাস্থলে আসেন। তিনিও নিজেকে ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা বলে বলে পরিচয় দেন। পরে অপহরণকারীরা সফিকুলকে আবকাশের বিপরীতে একটি অজ্ঞাতস্থানের পরিত্যক্ত কক্ষে নিয়ে যান। সফিকুলের কাছে অস্ত্র আছে বলে অপহরণকারীরা অনিক পালকে বেধড়ক মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে সফিকুলের কাছে থাকা নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় রেজাউল করিম। এসময় অপহরণকারী সফিকুলের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। শফিকুল পাঁচ লাখ টাকা দিতে পারবে জানালে তারা এতে রাজী হয়। সফিকুল মুক্তিপণের টাকার জোগাড় করতে মুঠোফোনে চাচাতো ভাই মনিরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করেন। তিনি একসময় মনিরকে অপহরণকারীদের দেয়া বিকাশ নাম্বার টাকা পাঠাতে বলেন অথবা টাকা সরাসরি পৌঁছে দিতে বলেন। পরে আবার মুঠোফোনে মুক্তিপণের দুই লাখ টাকা নিয়ে জেলা শহরের কাজীপাড়া ঈদগাহ মাঠে আসতে বলে। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে মনিরুল ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার পুলিশের শরনাপন্ন হন। সদর থানা পুলিশ কাজীপাড়া ঈদগাহ মাঠ এলাকা থেকে মুক্তিপণের টাকা নেওয়ার সময় হাতেনাতে রেজাউল করিমকে আটক করে।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ বলেন, রেজাউল করিম ওরফে রানা নামে ছাত্রলীগের কোনো নেতা-কর্মী নেই। জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক পদে থাকা নেতার নাম অনিক পাল।

সদর থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, পুলিশের উপস্থিত টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় চারজনকে আসামী করে অপহৃত সফিকুলের পক্ষ থেকে মামলা দেয়া হয়েছে। মামলায় রেজাউল করিমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিকেলে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১