শিরোনাম

ফলোআপঃ- সরাইলে বন্দুক যুদ্ধে ডাকাত নিহত

ডাকাত ছেলে রতনের লাশ গ্রহণ করেননি পিতা বাড়িতে শোকের মাতম

প্রতিনিধি | মঙ্গলবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ | পড়া হয়েছে 725 বার

ডাকাত ছেলে রতনের লাশ গ্রহণ করেননি পিতা বাড়িতে শোকের মাতম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত ডাকাত রতন-(২৮) এর লাশ গ্রহন করেননি তার পিতা গোলাপ মিয়া। ফলে তার লাশ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পড়ে ছিল ৩৩ ঘন্টা।
ক্ষোভ আর লজ্জায় তার লাশ গ্রহণ করতে  রতনের বাবার বাড়ির কেউ হাসপাতালে যায়নি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর পুলিশ বেওয়ারিশ হিসাবে লাশ দাফনে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামকে মৌখিক নির্দেশ দেয়। অবশেষে গতকাল সোমবার দুপুর ২টায় প্রতিবেশী মুশকত আলী জেলা সদর হাসপাতালের মর্গ থেকে বন্দুক যুদ্ধে নিহত ডাকাত রতনের লাশ গ্রহণ করে।
এদিকে রতনের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। স্ত্রী, বাবা সহ গোটা পরিবার রয়েছে আতঙ্কে।  লজ্জায় কেউ মুখ খুলতে চায়না। সরজমিনে উপজেলার চুন্টায় রতনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকের মাতম। অজোরে কাঁদছেন রতনের মা শাহেনা খাতুন-(৪৪)।  আরেকটি কক্ষে বসে বার বার চোখের জল মুছছেন পিতা গোলাপ মিয়া (৪৮)।  লজ্জায় তিনি কারো সাথে কথা বলতে চাননি।
এক পর্যায়ে বলেন, আমার তিন ছেলের মধ্যে রতন দ্বিতীয়। বড় ছেলে আক্তার হোসেন (৩০) সৌদি আরব প্রবাসী। তিনি বলেন, ঘটনা শুনেই আমি লজ্জায় বাড়ি থেকে চলে যাই। গতকাল সোমবার সকালে আমি বাড়িতে আসি। তিনি বলেন, প্রায় আট বছর আগে পরিবারের অগোচরে রতন গ্রামের উত্তর পাড়ায় বিয়ে করে। এ কারনে তাকে আমি বাড়িতে আসতে দেই না। বিয়ের পর থেকে আমার সাথে তার যোগাযোগও নেই। শ্বশুর বাড়ির এক আত্মীয়ের বাড়িতেই সে বসবাস করতো।
তিনি বলেন, পুলিশ গত দু’দিন ধরে হাসপাতাল থেকে রতনের লাশ আনতে আমাকে বলছে। লজ্জা ও ভয়ে আমি তার লাশ গ্রহণ করিনি।
রতনের স্ত্রী ময়না বেগম-(২৪) বলেন, তাদের দুই সন্তান আছে। ফাহিম-(০৫) ও সুরাইয়া- (০৪)। পিতা হারানোর বিষয়টি এখনো শিশু দুটো বুঝতে পারছেনা। তিনি বলেন, তার স্বামী রতন অনেক আগে  খারাপ কাজ করতো। বর্তমানে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুরের একটি ইটভাটায় কাজ করে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাড়িতে এসে বুধবার সন্ধ্যায় চলে যায়। তিনি বলেন, গত শনিবার সন্ধ্যায় রতনের সাথে তার মোবাইল ফোনে শেষ কথা হয়। রতন তখন তাকে বলে আমি ইটভাটায় আছি। গত রবিবার সকালে শুনি সে পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে মারা গেছে।
উল্লেখ্যঃ- গত রবিবার ভোর রাতে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক সড়কের সরাইলের বড্ডাপাড়া এলাকায় গণপরিবহনে  ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হয়ে রতন নিহত হয়। এ ঘটনায় সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলী আরশাদসহ ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়।


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০