[count_down]

শিরোনাম

কসবায় বিদ্যালয়ের মাঠে গ্যাস উদগিরণ

ঝুঁকিপূর্ন বিদ্যালয় ভবন, দেবে গেছে শহীদ মিনার

কসবা প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | পড়া হয়েছে 320 বার

ঝুঁকিপূর্ন বিদ্যালয় ভবন, দেবে গেছে শহীদ মিনার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বিদ্যানগর শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি নলক‚প বসানোর সময় পাইপ দিয়ে তীব্র গতিতে ও বিকট শব্দে গ্যাস পানি ও বালি বের হয়ে আসার ঘটনায় গত বুধবার থেকে ওই বিদ্যালয়ে ছুটি ঘোষনা করেছেন কর্তৃপক্ষ।

এদিকে পাইপ দিয়ে তীব্র বেগে গ্যাস ও বালি হওয়ার পর বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারটি দেবে গেছে। দেবে গেছে বিদ্যালয়ে থাকা দুটি নারকেল গাছ ও একটি নলক‚প। এতে ঝুঁকির মুখে পড়েছে বিদ্যালয়ের দুটি ভবনসহ আশপাশের এলাকা।


গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা থেকে বাপেক্স, পেট্রোবাংলা এবং কসবার সালদা গ্যাসক্ষেত্রের জিওলজিক্যাল বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন।
গত বুধবার সকাল থেকে বিদ্যালয়ের মাঠে বসানো নলক‚পের পাইপ দিয়ে হঠাৎ করে তীব্র গতিতে ও বিকট শব্দে গ্যাস, পানি ও বালি বের হয়ে আসতে থাকে। এতে আতঙ্কিত হয়ে বিদ্যালয় সাময়িকভাবে ছুটি ঘোষনা করা হয়েছে। আশেপাশের লোকজনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারি কমিশনার (ভ‚মি) মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ লোকমান হোসেনসহ সালদা গ্যাস ক্ষেত্র সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে সেখানে পুলিশ মোতায়েন ও সতর্কতা হিসেবে বিদ্যালয়ের চারিদিকে লাল নিশান টানিয়ে দেয়া হয়।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমান বলেন, গত সোমবার থেকে বিদ্যালয়ের মাঠে একটি গভীর নলকূপ বসানোর কাজ চলছিল। নলকূপের পাইপ ৫৪০ মিটার গভীরে প্রবেশ করার পর গত বুধবার সকাল থেকে হঠাৎ করে তীব্র গতিতে ও বিকট শব্দে পাইপ দিয়ে গ্যাস, পানি ও বালি বের হতে থাকে। এতে করে পুরো বিদ্যালয়ের মাঠ মহুর্তেই বালি এবং কাঁদাযুক্ত পানিতে ডুবে যায়। পরে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ করে বিদ্যালয়টি সাময়িকভাবে ছুটি ঘোষনা করা হয়।

শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বায়েক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আল মামুন ভূঁইয়া জানান, বুধবার সকাল থেকে গভীর নলক‚পের পাইপ দিয়ে তীব্র বেগে ও বিকট শব্দে গ্যাস, পানি ও বালি বেরুনো শুরু হলে বিদ্যালয় সাময়িকভাবে ছুটি ঘোষনা করা হয়।
তিনি বলেন, এ ঘটনার পর গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারটি মাটির নীচে অনেকটা দেবে যায়। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলটিও অনেকটা দেবে গেছে। বিদ্যালয়ের দুটি নারিকেল গাছের নীচের মাটি সরে গেছে। এতে করে বিদ্যালয়ের ভবন দুটিসহ আশপাশ এলাকা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। তিনি বলেন, বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক সহ সংশি¬ষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে।

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার (০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০) সকালে ঢাকা থেকে বাপেক্স, পেট্রোবাংলার এবং কসবা সালদা গ্যাসক্ষেত্রের জিওলজিক্যাল বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন।

এ ব্যাপারে বাপেক্সের জিওলজিক্যাল বিভাগের জিএম আলমগীর হোসেন জানান, ৭২ ঘন্টা পর্যবেক্ষন করবেন জিওলজিক্যাল বিশেজ্ঞরা। পরে তারা এই গ্যাস পকেট গ্যাস, নাকি স্থায়ী গ্যাসের অস্তিত্ব এ সর্ম্পকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারি কমিশনার (ভ‚মি) মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, নলক‚পের পাইপ দিয়ে এখনো গ্যাস ও বালি আসা বন্ধ হচ্ছেনা। ইতিমধ্যেই পাইপ দিয়ে আসা বালি পড়ে বিদ্যালয়ের মাঠ ৩ ফুট উঁচু হয়েছে। বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারটি দেবে গেছে। এছাড়াও বিদ্যালয়ের টিউবওয়েল, দুটি নারকেল গাছ অনেকটা দেবে গেছে। ঝুঁকিতে রয়েছে স্কুল ভবন। তিনি বলেন, আমরা ইচ্ছে করলেই এই গ্যাস বন্ধ করতে পারছিনা। তিনি বলেন, ঢাকা থেকে পেট্রো বাংলা ও বাপেক্সের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এদিকে উৎসুক জনতার ভীড় ঠেকাতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

কসবা থানার উপ-পরিদর্শক জিহাদ দেওয়ান জানান, উৎসুক জনতার ভীড় ঠেকাতে তারা হিমসিম খাচ্ছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ পুরো এলাকাটি ঘিরে রেখেছেন।
উল্লেখ্য, শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের গ্যাস উদগিরিত স্থান থেকে কসবা সালদা গ্যাস ক্ষেত্রের দূরত্ব মাত্র ১ কিলোমিটার।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১