শিরোনাম

জৌলুস হারাচ্ছে বাঞ্ছারামপুরস্থ রূপসদী জমিদার বাড়ি

বাঞ্ছারামপুর প্রতিনিধি : | বুধবার, ২৮ মার্চ ২০১৮ | পড়া হয়েছে 214 বার

বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রূপসদী গ্রামের শতবর্ষের জমিদার বাড়িটি ধ্বংস হতে বসেছে। ১৯১৫ সালে ভারত থেকে নকসা ও রাজমিস্ত্রী এনে তীর্থবাসী চন্দ্র রায় ৫ একর জমির উপর বিশাল অট্টালিকা নির্মাণ করেন। এ বাড়িতে তিনটি পুকুর ছিল। বড় বড় মাছ ছিল এসব পুকুরে। এক সময় বৈশাখী মেলা বসতো এ জমিদার বাড়িতে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার লোক বৈশাখী উৎসব উদযাপন করার জন্য জমিদার বাড়িতে ভিড় জমাতো। প্রতিবছর হতো কীর্তন নামযষ্ণসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান। একটি বড় পূজা মন্ডপ ছিল পূর্ব দিকে। ২০১৭ সালের জমিদার বাড়ির পুকুর বালি দিয়ে ভরাট করে দখল করে স্থানীয় কিছু ভূমিদস্যূ। দখলে দখলে বেহাত জমিদার বাড়ির বেশ কিছু ভূমি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জমিদার তীর্থবাসী চন্দ্র রায় রাজকীয় ভঙ্গিতে ঘোড়ায় চড়ে বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করতেন। তার ছেলে মহিষ চন্দ্র রায় এলাকায় শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে ১৯১৫ সালে সাড়ে চার একর জমির উপর নির্মাণ করেন রূপসদী বৃন্দাবন উচ্চ বিদ্যালয়। একই সালে তীর্থবাসীর স্মৃতি রক্ষায় নির্মাণ করা হয় একটি বিরাট মঠ। জমিদার বাড়িতে এখন আর পূজা হয় না, কীর্তনের আসর বসে না, হয় না বৈশাখী মেলা, নহবতের সুর আর বাতাস মাতিয়ে তোলে না। জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পর ধীরে ধীরে জৌলুস হারাতে থাকে জমিদার বাড়ি। কালের বিবর্তনে জমিদার বাড়িটি এখন অন্ধকারে নিমজ্জিত।


সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সংস্কারের অভাবে বাড়িটির প্লাষ্টার ধসে যাচ্ছে। পূজা মন্ডপের ছাদ ভেঙ্গে গেছে। শুধু দেয়ালগুলো দাঁড়িয়ে আছে কালের সাক্ষী হয়ে। ভাঙ্গা কক্ষগুলো নোংরা আবর্জনাতে ভর্তি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রতিবেশী জানান, ‘রাত হলে এখানে নেশার আড্ডা জমে। চলে আরো অনৈতিক কর্মকান্ড।’

বাঞ্ছারামপুর মাদকবিরোধী আন্দোলনের আহ্বায়ক, রূপসদীর স্থানীয় বাসিন্দা ও সরকারি কর্মকর্তা মো. ওমর আলী, প্রবাস ফেরত যুবক মো. তুহিনুল ইসলাম দাবি জানিয়ে বলেন, ‘জমিদারবাড়ির এই মহাসম্পদ যদি সরকার লোকজন দিয়ে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করে ও পর্যটনের মতো গড়ে তুলে তবে আবারো ফিরে পেতে পারে জমিদার বাড়ির হারানো গৌরব।’

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০