শিরোনাম

জেসিয়ার ইতিবৃত্ত মিস ওয়ার্ল্ডে

বিনোদন ডেস্ক : | মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭ | পড়া হয়েছে 197 বার

জেসিয়ার ইতিবৃত্ত মিস ওয়ার্ল্ডে

ফাইনাল ফোর্টিতে যাওয়ার সুবাদে মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতার ৬৭তম আসরের চূড়ান্ত আয়োজনে থাকতে পেরেছেন জেসিয়া। বিভিন্ন দেশের সুন্দরীদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নেচেছেন। মঞ্চে দাঁড়িয়েই দেখেছেন সেরা ৪০ থেকে মানুষীসহ অন্যরা শীর্ষ ১৫তে, তারপর সেরা দশে স্থান পাচ্ছেন। তবে সেরা ৪০-এ আসা পর্যন্তই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে ঢাকার মেয়েকে।
04
বিশ্বসুন্দরীর মুকুট না জিতলেও চীনে জেসিয়ার অর্জন কম নয়। গত ১৮ নভেম্বর দেশটির সানাইয়া শহরে মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতার ফাইনালে এসে শেষ হয় তার মিশন। ১১৮ দেশের প্রতিযোগীদের মধ্য থেকে সেরা ৪০-এ স্থান পাওয়াও কিন্তু কম নয় এক হিসেবে। তাছাড়া এ প্রতিযোগিতায় এবারই প্রথম যুক্ত হওয়া ‘হেড টু হেড চ্যালেঞ্জ’ বিভাগে গ্রুপ সিক্সে সেরা হয়েছেন তিনিই।
যে স্বপ্ন নিয়ে জেসিয়া চীনে গিয়েছিলেন তা পূরণ না হওয়ায় কিছুটা মন খারাপ তো হয়েছেই। তবে ভেঙে পড়ছেন না তিনি। ফেসবুকে নিজের অফিসিয়াল পেজে ১৭ বছরের এই তরুণী লিখেছেন, ‘বাস্তবতাকে মেনে নিতেই হবে। এখন পর্যন্ত যা অর্জন করেছি তা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই। আমার পাশে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।’
সেরা ৪০ পর্যন্ত গিয়ে থেমে যেতে হলেও ফাইনালে জেসিয়া বিবেচিত হচ্ছিলেন পিপল’স চয়েস অ্যাওয়ার্ডের জন্য। এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত শীর্ষ দশে ছিলেন তিনি। ছিলেন বিশ্বসুন্দরীর মুকুটজয়ী মানুষীও। তবে তাদের হতাশ করে পিপল’স চয়েস অ্যাওয়ার্ড পান মিস মঙ্গোলিয়া।
একদিক দিয়ে দেখলে জেসিয়ার চীনে যাওয়ারই কথা ছিল না! পূর্বঘোষিত ‘মিস বাংলাদেশ ২০১৭’ জান্নাতুল নাঈম এভ্রিলের বিয়ের খবর যদি না ফাঁস হতো, তাহলে তারই যাওয়ার কথা ছিল বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চে। শেষ পর্যন্ত জেসিয়ার সামনে খুলে গেলো সেই দুয়ার। পুরো পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছিল, একেই বলে কপাল!
চীনে জেসিয়ার মিশন শুরু হয় মিস ওয়ার্ল্ড অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে অন্যান্য প্রতিযোগীর পাশাপাশি তার ছবি যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে। গত ২০ অক্টোবর চীনের গুয়াংজু বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। এরপর থেকেই ‘ড্যান্সেস অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ সেগমেন্টের মহড়া শুরু করতে হয়েছে তাকে। এই বিভাগে প্রতিযোগীরা পোশাক ও নাচে নিজেদের সংস্কৃতি তুলে ধরার সুযোগ পান। এরই অংশ হিসেবে ফাইনালে জেসিয়াকে দেখা গেছে পাহাড়ি পোশাকে।
সৌন্দর্য আর ফ্যাশনে মোড়ানো হলেও মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় আরও অনেক বিষয়ে পারদর্শী হতে হয় সুন্দরীদের। তাই হরেক রকম অভিজ্ঞতা হয়েছে জেসিয়ার। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সুন্দরীদের পাশাপাশি তাকে লড়তে হয়েছে কয়েকটি বিভাগে। এর মধ্যে ছিল টপ মডেল, ট্যালেন্ট, মাল্টিমিডিয়া, বিউটি উইথ অ্যা পারপাস ও ‘হেড টু হেড চ্যালেঞ্জ’। এবার কাউকেই বিকিনি পরতে হয়নি। মিস ওয়ার্ল্ডের সভাপতি জুলিয়া মোর্লে বলেছেন, ‘মেয়েরা বিকিনি পরে প্যারেড করবে আমি তা চাই না। বরং তাদের মনন ও শোভার দিকে আমরা বেশি আগ্রহী।’
বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতার অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে জেসিয়া ইসলামের পরিচিতি ভিডিও নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। অন্য দেশের প্রতিযোগীরা নিজ নিজ দেশের গুণের কথা বললেও বাংলাদেশের মেয়ে এড়িয়ে গেছেন সেটা। এজন্য তাকে নয়, দায়ী করা উচিত ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার আয়োজক অন্তর শোবিজকে। কারণ জেসিয়ার এ বিষয়ে পূর্ব কোনও অভিজ্ঞতাই ছিল না। তাছাড়া তার আগে ১৬ বছর লাল-সবুজের কোনও প্রতিনিধি যাননি বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চে।
৫৪ সেকেন্ড ব্যাপ্তির ওই পরিচিতি ভিডিওতে জেসিয়া বলেছেন, ‘নারীর ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখতে চাই।’ তাই হেড টু হেড চ্যালেঞ্জে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল— নারীর ক্ষমতায়নে কী করার পরিকল্পনা আছে? উত্তরে তিনি বলেন, ‘নারীদের জন্য বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে একটি ইনস্টিটিউট গড়ার পরিকল্পনা আছে আমার। কারণ প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীরা অবহেলিত। তাদের কর্মদক্ষতা বাড়ানোর শিক্ষাদানই হবে এর মূল উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে তারা স্বনির্ভর হতে পারবে ও তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জন্মাবে। কারণ স্বনির্ভরতা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’
গত ৬ নভেম্বর এ পর্বের শুটিং হয়েছে নয়নাভিরাম শিমেলং ওশান কিংডম অ্যাকুয়ারিয়ামে। উত্তর দেওয়ার জন্য বরাদ্দ ছিল ৩০ সেকেন্ড। এ সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক নিয়েও কথা বলেন জেসিয়া। তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে চাইলে চমৎকারভাবে ব্যবহার করা যায়। তবে এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের অনেকে এর অপব্যবহার করে।’
হেড টু হেড চ্যালেঞ্জে কে কোন গ্রুপে থাকবেন তা ৩১ অক্টোবর ওভারসিস চাইনিজ টাউন ইস্ট শেনজেনে নির্ধারিত হয়েছে ড্রয়ের মাধ্যমে। গ্রুপ সিক্সে জেসিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, কানাডা, ইথিওপিয়া ও বটসওয়ানার সুন্দরীরা। ভোটে তাদের টপকে সেরা হন ঢাকার মেয়ে।
গত ২৩ অক্টোবর জেসিয়াসহ সব প্রতিযোগী ঘুরে বেড়িয়েছেন শেনজেন শহরের পূর্বাঞ্চলে ওভারসিস চাইনিজ টাউনে। ঘোরাঘুরির পর ওসিস ও. সিটির মঞ্চে শেনজেন থিয়েটারের পরিবেশনায় চীনের বৈচিত্রময় সংস্কৃতি উপভোগ করেন তারা। ২৪ অক্টোবর শেনজেন শহরের পিপল’স কংগ্রেস ও নারী উদ্যোক্তাদের সঙ্গে একদিন কেটেছে জেসিয়ার। শেনজেন নারী উদ্যোক্তা ফোরামের কার্যালয়ে হয়েছে আড্ডাও।
এরপর ১২০ দেশের প্রতিযোগী লাল, হলুদ, নীল দলে ভাগ হয়ে ঘুরেছেন শেনজেন শহরের পূর্বাঞ্চলে ওভারসিস চাইনিজ টাউনে। ঘোরাঘুরির পর ওসিস ও. সিটির মঞ্চে শেনজেন থিয়েটারে পরিবেশনায় চীনের বৈচিত্রময় সংস্কৃতি উপভোগ করেন তারা। এরপর রাতে প্রতিযোগীদের জন্য নয়নাভিরাম শেনজেন গলফ ক্লাবে বারবিকিউ নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।
২৬ অক্টোবর চীনের শেনজেন শহরে মিস ওয়ার্ল্ড দাতব্য নিলাম অনুষ্ঠানে জেসিয়াসহ সব প্রতিযোগীকে মঞ্চে স্বাগত জানান বর্তমান বিশ্বসুন্দরী পুয়ের্তোরিকোর স্টেফানি দেল ভালে। তারা সম্মিলিত কণ্ঠে গেয়েছেন মিস ওয়ার্ল্ডের থিম সং ‘লাইট দ্য প্যাশন, শেয়ার দ্য ড্রিম’। নিলামের জন্য নিজ নিজ দেশের একটি করে উপহার নিয়ে যান প্রত্যেক প্রতিযোগী।
গুয়াংজু থেকে ২৭ অক্টোবর ভোরে হংজো শহরে পাড়ি জমান জেসিয়া। এই শহরে ওয়েন্সলি সিল্ক কালচারাল মিউজিয়াম ঘুরে দেখেছেন তারা। বেসরকারি সিল্ক জাদুঘরটিতে তাদের প্রত্যেককে দেওয়া হয় সিল্কের তৈরি স্কার্ফ। এরপর তারা যান হুয়াংশানে। এখানে এসে বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীর সঙ্গে তোলা সেলফি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার ও ইনস্টাগ্রামে শেয়ার দেন জেসিয়া। এর মধ্যে হংজো শহরে সুন্দর একটি উপহার পাওয়ার কথাও তিনি জানান একটি সেলফিতে।
গত ২৯ অক্টোবর হুয়াংশানের পাহাড়ি এলাকা ইয়েলো মাউন্টেনে এবারের প্রতিযোগিতা উদ্বোধন করেন মিস ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান জুলিয়া মোরলে। এ সময় আরও ছিলেন হুয়াংশানের মেয়র ডেভিড লি ও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে প্রত্যেক প্রতিযোগী উচ্ছ্বাস ও গর্ব প্রকাশ করেন এখানে। ইয়েলো মাউন্টেনের ‘দ্য গ্রিটিং পাইন’-এ অনুষ্ঠান শুরুর আগে পাহাড়ের এক চূড়া থেকে অন্যটিতে তারের সাহায্যে চলা গাড়িতে চড়েছেন প্রতিযোগীরা। এ সময় পাহাড়ের নয়নাভিরাম দৃশ্যগুলো উপভোগ করেন তারা।
চীনের শিমেলং ওশানে গত ২ নভেম্বর পাহাড়ি পোশাকে হেঁটেছেন জেসিয়া। তিন কিলোমিটার পথজুড়ে এই প্যারেডের জন্য ১১৮ প্রতিযোগীকে ভাগ করে দেওয়া হয় মহাদেশ অনুযায়ী। স্বাভাবিকভাবে এশিয়া দলে ছিলেন জেসিয়া। তারা প্রত্যেকে পরেছিলেন নিজ নিজ দেশের ঐতিহ্যবাহী পোশাক। শেষ বিকালে নয়নাভিরাম শিমেলং অ্যাকুয়ারিয়াম ঘুরে দেখেন প্রতিযোগীরা।
ফাইনালের আগে আইবিসি ফ্যাশন পার্টিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন জেসিয়া। এছাড়া শেনজেনে নতুন গড়ে ওঠা ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস সেন্টার (আইবিসি) ঘুরে দেখেছেন তিনি। এরপর শিমেলং অ্যাকুয়া স্কুলে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশ নেন প্রতিযোগীরা। এখানে পশু সম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে মহাসাগর সংরক্ষণ প্রকল্প সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন তারা। পার্কে বেড়ানো ছাড়াও চতুর্থ চীন আন্তর্জাতিক সার্কাস উৎসবে যোগ দিয়েছেন জেসিয়াসহ সবাই।
জেসিয়ার টুকিটাকি
উচ্চতা ১৭২ সেন্টিমিটার। লক্ষ্য ফ্যাশন ডিজাইনার হওয়া। ভালো লাগে ক্রিকেট ও বাস্কেটবল। নাচের প্রতি আছে আলাদা আগ্রহ। ঘুরে বেড়ানো, ছবি দেখা ও গান শোনা পছন্দ। দ্য স্ক্রিপ্ট ব্যান্ডের ‘হল অব ফেম’ ও জর্জ মাইকেলের ‘কেয়ারলেস হুইসপার’ তার পছন্দের দুটি গান। ১৮ বছর বয়সী এই তরুণী থাকেন ঢাকার মহাখালীতে। ইংলিশ মিডিয়ামে ও-লেভেল করেছেন সাউথপয়েন্ট একাডেমিতে। এখন আইন বিষয়ে পড়ছেন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ফ্যাশন হাউজ এক্সটেসির মডেল হিসেবে কাজ করেছেন।
মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ
বাংলাদেশ থেকে সবশেষ ২০০১ সালের ১৬ নভেম্বর ৫১তম মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন তাবাসসুম ফেরদৌস শাওন। ওইবার এ আসর বসেছিল দক্ষিণ আফ্রিকার সান সিটিতে। ১৯৯৪ সালে প্রথম মিস বাংলাদেশ অংশ নেন বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতায়। তিনি ছিলেন আনিকা তাহের।
এরপর ইয়াসমিন বিলকিস সাথী (১৯৯৫), রেহনুমা দিলরুবা চিত্রা (১৯৯৬), শায়লা সিমি (১৯৯৮), তানিয়া রহমান তন্বী (১৯৯৯) ও সোনিয়া গাজী (২০০০) মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশর প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। ২০১৭ সালে অংশ নিয়ে ইতিহাসের পাতায় যুক্ত হলেন জেসিয়া ইসলাম।


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১