শিরোনাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা পরিষদ আয়োজিত বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে হামলা

জেলা আওয়ামীলীগের মতবিনিময়, চেয়ারম্যানের কটাক্ষপূর্ণ বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ

শফিকুল ইসলাম সোহেল | বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | পড়া হয়েছে 532 বার

জেলা আওয়ামীলীগের মতবিনিময়, চেয়ারম্যানের কটাক্ষপূর্ণ বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মহান বিজয় দিবসের দিনে জেলা পরিষদ আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মঞ্চ ভাংচুর ও হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেছে জেলা আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতারা।

গত মঙ্গলবার (১৭ডিসেম্বর ২০১৯) রাত আটটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে তিন সংগঠনের নেতারা সাংবাদিকদের সাথে পৃথক পৃথকভাবে মতবিনিময় করেন।


মত বিনিময় সভায় হামলার ঘটনার পর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে জড়িয়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কটাক্ষপূর্ণ বক্তব্যের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে ওয়াসেল সিদ্দিকি ও সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার ও বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম ভূইয়া, জেলা ছাত্রলীগের পক্ষে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন মতবিনিময় করেন।

মতবিনিময়কালে ছাত্রলীগ সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল ও সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন বলেন, হামলার ঘটনাটি আয়োজক সংশ্লিষ্টদের আভ্যন্তরীন কোন্দলের ফসল। সামনে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুল আলম এবং সাবেক পৌর মেয়র হেলাল উদ্দিন-দুজনই সম্মেলনে সভাপতি প্রার্থী। এই দুই নেতার বিরোধের কারণে তাদের অনুসারীরা এ হামলা ঘটিয়েছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এঘটনায় ছাত্রলীগের কেউ জড়িত নয়। আর কারও জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিস্কার করা হবে।

জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার বলেন, বিজয় দিবসের দিন রাতেই জেলা প্রশাসনের অনুষ্ঠানে এঘটনার নিন্দা জানিয়েছি। যদি অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি যুক্ত ব্যানার-ফেস্টুন কেউ ছিঁড়ে থাকে সেটি অবশ্যই নিন্দনীয় এবং আমরা এর প্রতিবাদ জানাই। আমরা চাই ঘটনাটি সুষ্ঠ তদন্ত করে জড়িতদের বের করা হোক। আর হামলার ঘটনার সাথে আওয়ামী লীগের কেউ জড়িত নন। এর সাথে আওয়ামী লীগের কোনো ধরণের সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি বলেন, আয়োজক সংগঠনের দাওয়াত দেয়া নিয়ে অথবা তাদের নিজেদের মধ্যকার বিরোধের কারনে এই হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। তবে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শফিকুল আলম ও আমানুল হক সেন্টু যে কটাক্ষপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন, আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
তিনি বলেন, হামলার ঘটনায় আয়োজকদের পক্ষ থেকে থানায় যে মামলা দেয়া হয়েছে, তাতে কারো নাম উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি ঠিক কতজন হামলায় অংশ নেয় সেটাও উল্লেখ করা হয়নি।

মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুর রহমান জানান, সিসি টিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবে।

জানা গেছে, গত ১৬ ডিসেম্বর সকাল নয়টার দিকে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে বিজয় দিবসের মুখোশধারী ৮-১০ জন যুবক জেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে গিয়ে মঞ্চ ও চেয়ার ভাঙচুর এবং বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবিযুক্ত ব্যানার-পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে। হামলার ঘটনার পর জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা আমানুল হক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুল আলম স্থানীয় সাংসদ ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোকতাদির চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকারকে কটাক্ষ করে বক্তব্য দেন। জেলা আওয়ামীলীগের এক শীর্ষ নেতা এই হামলা ও ভাঙচুর করিয়েছেন বলেও তারা অভিযোগ করেন।
এ ঘটনায় ১৬ ডিসেম্বর রাতেই জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রতীশ চন্দ্র রায় বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামী করে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

প্রসঙ্গত, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুল আলম আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে পরিচিত। তাঁকে কেন্দ্র করে জেলা আওয়ামী লীগে একটি পক্ষ রয়েছে। ইতিমধ্যেই ওই পক্ষের কয়েকজনকে বহিস্কারের জন্য সুপারিশ করেছে জেলা আওয়ামী লীগ।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১