শিরোনাম

জাল ভোটের মহোৎসব ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর ও আখাউড়ায়

প্রতিনিধি | রবিবার, ০৮ মে ২০১৬ | পড়া হয়েছে 732 বার

জাল ভোটের মহোৎসব ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর ও আখাউড়ায়

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর ও আখাউড়া উপজেলার ১৫ ইউনিয়নে জাল ভোটের মহোৎসব, ব্যালট পেপার ছিনতাই, কেন্দ্র দখল, নির্বাচন বর্জন, বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, গাড়ি ভাংচুর, পুলিশের কাঁদানো গ্যাস নিক্ষেপ, সাংবাদিকের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার মধ্য দিয়ে গত শনিবার ভোট হয়েছে। নৌকার ভোট প্রকাশ্যে নেয়া হয়। কোন কোন কেন্দ্রে পুলিশ ও ভোট গ্রহনের দায়িত্বপ্রাপ্তরা নিজেরাই দরজা বন্ধ করে সীল মারেন। অন্তত ১০টি ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থীরা নির্বাচন বর্জন করেন। এদিকে বিজয়নগরের পত্তন ইউনিয়নের আদমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই ইউপি সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় রনক্ষেত্রে পরিনত হয় ওই এলাকা। সংঘর্ষে আহত হয় ৩০ জন। একজনের পেটে তীর বিদ্ধ হয়। সংঘর্ষের সময় দাঙ্গাবাজরা ওই কেন্দ্রের ৬টি ব্যালট বই, ৯টি মার্কিং সিল নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর প্রায় ৪ ঘন্টা ভোট গ্রহণ বন্ধ ছিল। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান জেলা প্রশাসক ডঃ মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন ও পুলিশ সুপার মো: মিজানুর রহমান, ১২ বিজিবি’র কমান্ডিং অফিসার শেখ ফরহাদ উজ জামান। তারাও অবস্থান নেন প্রিজাইডিং অফিসারের কক্ষের সামনে। হামলাকারীরা কেন্দ্র থেকে ব্যালেট বই ও সীল ছিনিয়ে নিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল ১০টায় ওই কেন্দ্রে ভোট দিতে যায় ডালিম নামের এক যুবক। রতন ভাইকে নৌকায় ভোট দিন লেখা গেঞ্জি পরিহিত হারুন নামের এক লোক তাকে বাঁধা দেয়। এসময় উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একে কেন্দ্র করে দুই ইউপি সদস্য প্রার্থী আবদুল হাকিম ও শিশু মিয়ার সমর্থকরা ব্যাপক সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। কেন্দ্র সংলগ্ন চান্দুরা-আখাউড়া সড়কে চলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। সংঘর্ষে নিয়ন্ত্রনে পুলিশ বিপুল পরিমান রাবার বুলেট ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এসময় কেন্দ্র ও বাহিরে লোকজনের তীব্র আতংক ছড়িয়ে পড়ে। দেড় ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে তীরবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন মস্তু ভূইয়ার ছেলে জাকির ভূইয়া (৩২)। এ ছাড়া উভয় পক্ষের আরো ৩০ জন লোক আহত হন। এই সুযোগে নৌকার সমর্থকরা জোর করে ভোট দেয়া শুরু করে। এসময় ওই কেন্দ্রে ২১১৮ ভোটের মধ্যে ৯’শ ভোট কাষ্ট হয়েছিল। এদিকে সকাল ৮ টায় ভোট গ্রহন শুরুর ঘন্টা খানের মধ্যে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে একের পর এক বিএনপি প্রার্থীদের এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ আসতে শুরু করে। অভিযোগ আসে চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যালেট পেপার ভোটারদের হাতে না দেয়ার। বুধন্তি ইউনিয়নের বিএনপি প্রার্থী মোঃ জিয়াউদ্দিন খান নয়ন অভিযোগ করেন শশই, ইসলামপুর,আলীনগর,বারঘড়িয়া,বুধন্তি,সেমরা,কেনাসহ সবকটি কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে এবং চেয়ারম্যানের ব্যালেট কেড়ে নেয়া হচ্ছে। তিনি এই পরিস্থিতিতে সোয়া ১০ টার দিকে নির্বাচন বর্জনের ঘোষনা দেন। বিষ্ণপুর ইউনিয়নের দুলালপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে কয়েকজন আওয়ামীলীগ নেতা বিভিন্ন বুথে গিয়ে নৌকার ভোট প্রকাশ্যে নেয়ার কথা ঘোষনা করেন এবং সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারদের সহায়তা করার কথা বলেন। বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ঘনশ্যামপুর দারুল উলুম মাদ্রাসা কেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার মোনায়েম চৌধুরী ব্যালেট বই তার পকেটে রেখে দিয়েছেন। প্রিজাইডিং অফিসার তার ব্যালেট বই কই বলার পর সে পকেট থেকে তা বের করে। বিজয়নগর উপজেলার ১০ ইউনিয়নের বেশীরভাগ কেন্দ্রই ছিলো ভোটার শূন্য। ১১ টার মধ্যেই ভোট গ্রহন শেষ হয়ে যায়। বিজয়নগরে বিএনপি প্রার্থী বুধন্তি ইউনিয়নে জিয়াউদ্দিন খান নয়ন, পত্তন ইউনিয়নে কাহার ভূইয়া, সিঙ্গারবিল ইউনিয়নে মামুনুর রশিদ ও বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে মোঃ অলিউল-াহ ভোট বর্জন করেন।


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০