শিরোনাম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে

জাপার আসনে নজর আওয়ামীলীগ-বিএনপির

স্টাফ রিপোর্টার | মঙ্গলবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৭ | পড়া হয়েছে 1714 বার

জাপার আসনে নজর আওয়ামীলীগ-বিএনপির

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন তারিখ নির্ধারিত না হলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২-(সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে বইছে নির্বাচনী হাওয়া।
ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ, প্রধান বিরোধীদল বিএনপি, জাতীয় পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট ও জাসদসহ বিভিন্ন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতিমধ্যেই নির্বাচনী এলাকায় গনসংযোগ বাড়িয়েছেন। অঘোষিতভাবে শুরু করেছেন প্রচার-প্রচারণা। প্রার্থীদের পক্ষে তাদের অনুসারীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এবং ব্যানার, বিলবোর্ড ও ফেস্টুন টানিয়ে প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার-প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এই আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয়পার্টিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের ১৫জন প্রার্থী প্রচার-প্রচারনা শুরু করেছেন। প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামীলীগের ৬জন, বিএনপির ৫জন, জাতীয় পার্টির ১জন, ইসলামী ঐক্যজোটের ১জন এবং জাসদ (আম্বিয়া-প্রধান) এর ১জন রয়েছেন।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে ব্যক্তিগত যোগাযোগ বাড়ানোসহ নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। নির্বাচনী এলাকায় শোভা পাচ্ছে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের পক্ষে তাদের অনুসারীদের টানিয়েছেন পোস্টার, ব্যানার ও বিলবোর্ড।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২-(সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে জাতীয় পার্র্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেন, জাতীয় পার্টির নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান, জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক ও বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা। তিনি নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে চারদলীয় জোটের প্রার্থী, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য মুফতি ফজলুল হক আমিনীকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামীলীগ প্রার্থী দলীয় নির্দেশে তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করলে তিনি জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এই আসনে জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক অবস্থা তেমন মজবুত না হলেও অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এলাকায় উন্নয়ন কর্মকান্ড করে জনগনের মধ্যে একটা অবস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন। এই আসনে জাতীয় পার্টির কর্মকান্ড এমপি কেন্দ্রিক। আগামী নির্বাচনে তিনি আবারো দলের কাছে মনোনয়ন চাইবেন। তিনি এলাকায় নিয়মিত দলীয় কর্মকান্ড ও উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২-(সরাইল-আশুগঞ্জ) আসন। সরাইল উপজেলায় আওয়ামীলীগে রয়েছে দলীয় কোন্দল। তবে আশুগঞ্জ উপজেলায় দল খুবই শক্তিশালী ও সু-সংগঠিত। এই আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে ৬জন প্রার্থী নির্বাচনী এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন বাংলাদেশ আওয়ামী সেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দিন মঈন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান আনসারী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য এবং সরাইল উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক অ্যাডভোকেট মোঃ নাজুমল হোসেন, জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও সরাইল উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম (শিউলী আজাদ), উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও সাবেক কাস্টমস কর্মকর্তা মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমান সাফি ও সরাইল উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট তানভীর হোসেন কাউছার।
সরাইল উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম (শিউলী আজাদ) সরাইল উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দলীয় কোন্দলের জের ধরে প্রতিপক্ষের হাতে খুন হওয়া এ.কে.এম ইকবাল আজাদের স্ত্রী। তিনি গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন। পরে দলীয় নির্দেশে তিনি জাতীয় পার্টির প্রার্থীর পক্ষে তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেন। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি এলাকায় গনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী সেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দিন মঈন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী এলাকার সরাইল ও আশুগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামে নিয়মিত গনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যেই এলাকায় তিনি একটা অবস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন। এই আসনের অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী অ্যাডভোকেট নাজমুল হোসেনও নির্বাচনী এলাকায় গন সংযোগ ও প্রচার-প্রচানরা চালাচ্ছেন। এই আসনের অপর প্রার্থীরাও সংযোগ-প্রচার-প্রচারনা করছেন। প্রার্থীদের মধ্যে অ্যাডঃ নাজমুল হোসেন সরাইল উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক । তিনি সরাইল উপজেলা ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও কৃষকলীগের সাবেক সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির দুইবার সাধারণ সম্পাদক ও দুইবার সভাপতি ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইউনিটের সাবেক সেক্রেটারী, সরাইল বিআরডিবির সাবেক চেয়ারম্যান। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত আছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২-(সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে বিএনপির রয়েছে শক্তিশালী অবস্থান। এই আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী উকিল আবদুস সাত্তার ভূইয়া, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি শেখ মোহাম্মদ শামীম, সরাইল উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান, আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু আসিফ আহমেদ, সরাইল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মাস্টার ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ডঃ আজিজ আহমেদ।
এই আসন থেকে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা উকিল আবদুস সাত্তার ভূইয়া চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। আগামী নির্বাচনেও তিনি দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে দলীয় নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন।
বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ মোহাম্মদ শামীম আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ৩/৪ বছর ধরে ঢাকা থেকে নিয়মিতভাবে এলাকায় এসে তার অনুসারীদের নিয়ে আশুগঞ্জ ও সরাইল উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গনসংযোগ ও দলীয় কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যেই তিনি এলাকায় একটা অবস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন।
এই আসনের অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনোয়ার হোসেনও নির্বাচনী এলাকায় প্রচার-প্রচারনা চালাচ্ছেন। দলের অন্যান্য প্রার্থীরাও প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২-(সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন ইসলামী ঐক্যজোটের ভাইস চেয়ারম্যান, খেলাফতে ইসলামী বাংলাদেশের আমীর ও হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী। তিনি এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও ইসলামী ঐক্যজোটের সাবেক চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনীর ছেলে।
এই আসনে জাসদ (আম্বিয়া-প্রধান) প্রার্থী হিসেবে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন জাসদ (আম্বিয়া-প্রধান) এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাসদ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি হোসাইন আহমেদ তফসির।
আসন্নœ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামীলীগের ১০জন প্রার্থী এলাকায় প্রচার-প্রচারনা চালালেও শেষ পর্যন্ত জোটের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে কে মনোনয়ন পাবেন। তবে জোট থেকে আওয়ামীলীগ বা জাতীয় পার্টির যাকে এই আসন থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয় তাকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে বিএনপির প্রার্থীর সাথে।


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১