শিরোনাম

ছয় জনের পরিবারে পাঁচজন বাক প্রতিবন্ধী

বিজয়নগর প্রতিনিধি : | বুধবার, ২৫ অক্টোবর ২০১৭ | পড়া হয়েছে 121 বার

ছয় জনের পরিবারে পাঁচজন বাক প্রতিবন্ধী

অরুনা রানী সরকারের স্বামী ও চার সন্তানই বাক প্রতিবন্ধী। তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার ইছাপুরা উত্তর ইউনিয়নের সহদেবপুর গ্রামের বাসিন্দা।
e97569c357542b9c0bcb0c9ea94765b6-59f08fda42f20
অরুনা রানী জানান, স্বামী রঞ্জিত সরকার (৪৩), বড় ছেলে বিপুল সরকার (১৮), মেয়ে ববিতা রানী সরকার (১৫), ছোট ছেলে শিমুল সরকার (১১) ও ছোট মেয়ে কবিতা রানী সরকার (০৬) জন্ম থেকেই বাক প্রতিবন্ধী।

কৃষিকাজ ও বাঁশ-বেত দিয়ে নিজ বাড়িতে বসে বেড়া বাঁধার কাজ করতে পারে তারা। কিন্তু কথা বলতে না পারায় প্রতিদিনকার কাজ থেকে শুরু করে সংসার সামলানো সব কিছুই করতে হয় গৃহবধূ অরুনাকে।


অরুনা রানী সরকার বলেন, ‘এমন কপাল হইব চিন্তা করতে পারিনি। পরিবারের হগলে (সবাই) বোবা (বাক প্রতিবন্ধী), অহন আর কি করব? সৃষ্টিকর্তা যেমন রেখেছেন, তেমনিভাবে দিন কাটাচ্ছি। ভবিষৎ চিন্তা করলে, চোখে-মুখে কেবল অন্ধকার দেখছি। নামমাত্র এক খন্ড জমি (১৫ শতাংশ) চাষ করে কোনও রকমে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দিন যাপন করছি।’

অরুনা জানান, সরকার থেকে পাঁচশ’ টাকা হারে ভাতা পাচ্ছেন সবাই। এই ভাতার টাকা পরিবারের চাহিদার তুলনায় কম।

দেবর পন্ডিত লাল সরকার পরিবারটির একমাত্র অবলম্বন। সেই পরিবারটিকে দেখভাল করতো। তবে সম্প্রতি সে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নৈশপ্রহরীর চাকরি পায়। যার কারণে সে আগের মতো পরিবারে নিয়মিত সময় দিতে পারছে না।

দেবর পন্ডিত সরকারকে নিজ উপজেলায় বদলির আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

পন্ডিত লাল সরকার জানান, আখাউড়া থেকে প্রতিদিন নিজ উপজেলা বিজয়নগরে যাওয়া-আসা অনেক কষ্টের। বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে আমাকে বদলি করা হলে সুবিধা হতো। দিনের বেলায় পরিবারের সদস্যদের সময় দিতে পারতাম। এ জন্য তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।

ইছাপুরা (উত্তর) ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউল হক বকুল বলেন, ‘বোবা পরিবারটিকে আমি চিনি। পরিবারটি অসহায়। আমি পরিবারের সদস্যদের বলেছি যেকোনও প্রয়োজন পড়লে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে।’

স্বামীসহ অরুনার চার সন্তান
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দীপক চৌধুরী বাপ্পী জানান, অরুনার পরিবার আমার গ্রামের প্রতিবেশী। আমি পরিবারটি সম্পর্কে জানি। আমিও ব্যক্তিগতভাবে পরিবারটির পাশে থাকার চেষ্টা করব।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক রেজুয়ানুর রহমান জানান, আমি ব্যক্তিগতভাবে পরিবারটির খোঁজ খবর নেব। আর ওই পরিবারের সদস্য যেহেতু আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের নৈশপ্রহরী। আমি ব্যক্তিগতভাবে খোঁজ নিয়ে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০