শিরোনাম

ফলোআপঃ-কসবায় সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে অটোরিকশা চালকের লাশ উদ্ধার

ছিনিয়ে নেয়া ফোনে সিমকার্ড ঢুকিয়ে ধরা খেলেন খুনী

শামীম-উন-বাছির | মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২০ | পড়া হয়েছে 131 বার

ছিনিয়ে নেয়া ফোনে সিমকার্ড ঢুকিয়ে ধরা খেলেন খুনী

টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কাঞ্চনমুড়ি গ্রামের অটোরিকশা চালক মোঃ সাইদুর রহমানকে (১৯) পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর ছিনিয়ে নেয়া মোবাইল ফোনে সিমকার্ড ঢুকিয়ে কথা বলে ‘খুনী’ মোঃ রানা-(২০) ধরা খেয়েছেন।

অভিযুক্ত মোঃ রানা গত সোমবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ লাইনে হাজির করে সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকান্ড সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান।


সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা সাইদুর ও রানা একসাথে সিগারেট খেত ও জুয়া খেলতো।
গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর বাড়ি নিখোঁজ হওয়ার পর ২ জানুয়ারি কাঞ্চনমুড়ি এলাকার একটি বাথরুমের সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে সাইদুরের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সাইদুরের মা হনুফা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে কসবা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

গত রোববার পুলিশ কাঞ্চনমুড়ি এলাকার দানু মিয়ার ছেলে রানাকে গ্রেপ্তার করে হত্যাকান্ড সম্পর্কে নিশ্চিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান জানান, সাইদুরকে হত্যার সময় তার প্রেমিকা ফোনে কথা বলছিল। মারার সময় সাইদুর বলতে থাকে চাচা আমাকে মেরো না। হত্যার পর রানা ফোনের সংযোগ কেটে দেয়। পরে সেই ফোনে তার সিমকার্ড ঢুকিয়ে একটি নাম্বারে ৩০ সেকেন্ড কথা বলে রানা। প্রেমিকার কথা ও সেই ৩০ সেকেন্ডের কথার সূত্র ধরে পুলিশ রানাকে সনাক্ত করে।
পুলিশ সুপার আরো জানান, রানা ও সাইদুর সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা। দুইজনের বাড়িও একই এলাকায়। প্রায় সমবয়সী হওয়ায় তাদের চলাফেরাও ছিলো একসঙ্গে। গত ২৯ ডিসেম্বর কসবা সীমান্ত কমপ্লেক্সের সামনে সাইদুরের সঙ্গে রানার দেখা হয়। তখন সাইদুর মানিব্যাগে থাকা বেশ কিছু টাকা ও একটি দামি মোবাইল ফোন দেখে রানার লোভ হয়। রানা তখন ফন্দি আঁটতে তাকে টাকা ও মোবাইল ফোন হাতিয়ে নেয়ার জন্য। ফন্দির অংশ হিসেবে ‘রাতে এক লোক ইয়াবা নিয়ে আসবে, অটোরিকশায় করে সেই ইয়াবা পৌঁছে দিলে চার হাজার টাকা দিবে’ বলে সাইদুরকে প্রলোভন দেখায়। তখন সাইদুর জানায় অটোরিকশা লাগবে না, রাতে সে কাঞ্চনমুড়ি ড্রেজার মাঠ ধরে হেঁটে ইয়াবাগুলো পৌঁছে দিবে।

কথা অনুযায়ি রাত সাড়ে সাতটায় ড্রেজারের মাঠে হাজির হয় সাইদুর। এরপর মাঠে দাঁড়িয়ে সাইদুর একই এলাকার দশম শ্রেণির এক ছাত্রী ও তার প্রেমিকার সঙ্গে ১৫-২০ মিনিট ধরে মোবাইল ফোনে কথা বলতে থাকে। এ সময় রানা লাউয়ের মাচা থেকে বাঁশের খুঁটি এনে পেছন থেকে সাইদুরের মাথায় আঘাত করলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এরপর সাইদুরকে ঝাপটে ধরে ও মাফলার দিয়ে গলায় পেচিয়ে ধরে রানা। পরে ধারালো ক্ষুর দিয়ে সাইদুরকে গলাকেটে হত্যা করে তার মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোন রেখে মাঠের পাশের বাথরুমের সেপটিক ট্যাংকে লাশ ফেলে পালিয়ে যায় রানা।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মোঃ আলমগীর হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ রেজাউল কবির, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর দফতর) মোঃ আবু সাঈদ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কসবা সার্কেল) মোঃ আব্দুল করিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তাঁরা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১