শিরোনাম

নিজের মাথা গোঁজার জন্য একটি বাড়ি এবং নাতি-নাতনিদের জন্য

চাকুরী চান বীরঙ্গনা রেজিয়া বেগম

স্টাফ রিপোর্টার : | মঙ্গলবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭ | পড়া হয়েছে 170 বার

চাকুরী চান বীরঙ্গনা রেজিয়া বেগম

নিজের মাথা গোঁজার জন্য একটি বাড়ি এবং নাতি-নাতনিদের জন্য চাকুরী চান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একমাত্র বীরঙ্গনা রেজিয়া বেগম। বর্তমানে ৭৫ বছর বয়সী রেজিয়া বেগম ঢাকার তেজগাঁওয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।
রেজিয়া বেগমের বাড়ি নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের গৌরনগর গ্রামে। স্বামী মরহুম আবু মিয়া সরকার। সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের বিজেশ্বর গ্রামে শ্বশুর বাড়ি। রেজিয়া বেগম জানান, বিয়ের পরই স্বামী আবু মিয়ার সাথে তিনি ঢাকায় চলে যান। বাংলা মোটর এলাকায় ভাড়া থাকতেন। স্বামী বিভিন্ন ধরনের কাজ করতেন আর তিনি একটি মার্কেটের ঝাড়ুদার ছিলেন। তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বিজয়ের মাত্র দুদিন আগে ১৪ ডিসেম্বর দুপুরে বাংলা মোটর এলাকা থেকে রাজাকারদের সহায়তায় পাকিস্তানী সৈন্যরা তাকে তুলে নিয়ে যায়। এর পর চলে তার উপর অমানুষিক নির্যাতন। তাদের নির্যাতনে তিনি অচেতন হয়ে গেলে তাকে বাংলা মোটর এলাকায় একটি ঝোঁপের মধ্যে ফেলে দিয়ে যায় পাকিস্তানী সৈন্যরা। দেশ স্বাধীন হওয়ার দিন ঝোঁপের মধ্যে তার গোঙ্গানী শুনে এক রিকসা চালক তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। পরে তিনি সুস্থ্য হলে তাকে অন্যান্য নারীদের সাথে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে নারায়নগঞ্জের একটি লঙ্করখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় তিন মাস পর লোকমুখে শুনতে পেয়ে তার স্বামী তাকে সেখান থেকে নিয়ে আসেন। তিনি বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর স্বামীকে নিয়ে তিনি ঢাকাতেই থাকতেন। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুই কন্যা আছে। দু’জনকেই বিয়ে দিয়েছেন। গত ৪ বছর আগে তার স্বামী আবু মিয়া মারা গেছেন। দুই কন্যার স্বামীও মারা গেছেন ৫/৬ বছর আগে।

রেজিয়া বেগম বলেন, তাঁরা হাইকোর্টে মামলা করে বীরঙ্গনার স্বীকৃতি লাভ করেছেন। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সিদ্ধান্তক্রমে তাদেরকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। গত ২০১৬ সালের ২৫ মে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মোঃ দোলোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে রেজিয়া বেগমকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। তালিকা নং-১৮০০১৫৭৫১। রেজিয়া বেগম বলেন, মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি লাভের পর তিনি এককালীন ৬০ হাজার টাকা পেয়েছিলেন। বর্তমানে মাসে ১০ হাজার টাকা ভাতা পান। তিনি বলেন, তার কোন বাড়ি নেই। কন্যাদের স্বামী মারা যাওয়ার পর ৬ নাতি-নাতনি নিয়ে তারাও কষ্টে আছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে তিনি ছোট মেয়ের সাথে ঢাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। ছোট মেয়ে সেলাইয়ের কাজ করে সংসারের ভরনপোষন করেন।
তিনি বলেন, বয়স হয়েছে। আর হয়তো বেশীদিন বাঁচবনা। নিজের মাথা গোঁজার জন্য একটি বাড়ি ও ৬ নাতি-নাতনির জন্য চাকুরির ব্যবস্থা করতে তিনি সরকারের কাছে দাবি জানান।


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১