শিরোনাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তান্ডব

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও ডিআইজির ঘটনাস্থল পরিদর্শন ॥ দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস

স্টাফ রিপোর্টার | মঙ্গলবার, ৩০ মার্চ ২০২১ | পড়া হয়েছে 60 বার

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও ডিআইজির ঘটনাস্থল পরিদর্শন ॥ দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাততে ইসলামের হরতাল চলাকালে রোববার দিনভর শহরের সরকারি, বেসরকারি প্রায় অর্ধশত প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগে ধ্বংসযজ্ঞ সরজমিনে পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এ.বি.এম আজাদ এনডিসি এবং পুলিশের চট্টগ্রাম বিভাগের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন।

সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এ.বি.এম আজাদ এনডিসি এবং সোমবার বেলা ১১টার পর পুলিশের চট্টগ্রাম বিভাগের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।


এছাড়া সোমবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য ও বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী ক্ষতিগ্রস্থ স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করেন।

সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এ.বি. এম. আজাদ এনডিসি সরেজমিনে শহরের পুড়িয়ে দেয়া বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানান, ক্ষয়-ক্ষতি নিরুপন করা হচ্ছে। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে ক্ষয়-ক্ষতি নিরুপন করার জন্য বলা হয়েছে। তিনি বলেন, ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণের পর সরকারি সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে। তিনি জানান, ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থা করা হবে। অপরদিকে বেলা ১১ টার দিকে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন আগুনে পুড়িয়ে দেয়া সকল প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত করে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হবে। প্রতিটি ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে গত ২৬ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত হামলা ভাংচুরের ঘটনায় সোমবার পর্যন্ত ৫টি মামলা রজু হয়েছে। এ সব মামলায় নামপরিচয়হীন পাঁচ হাজার লোককে আসামী করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৪ জনকে। এসব ঘটনায় একাধিক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

সোমবার দুপুরে ধ্বংস যজ্ঞ পরিদর্শন শেষে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য ও বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী।

তিনি বলেন, পূর্ব ঘোষনা অনুযায়ী হেফাজতের হরতাল চলাকাল রোববার সকাল থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকারি, বেসরকারি অর্ধশতাধিক স্থাপনা ভাংচুর ও পুড়িয়ে দেয়া হয়। বাদ যায়নি জেলা আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ-সহযোগী নেতাদের বাড়ি ও হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আইন-শৃংখলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা ও র্নিলিপ্ততায় হামলাকারীরা অনায়াসে এসব স্থাপনায় হামলা করেও পুড়িয়ে দেয়।

এদিকে সোমবার দিনব্যাপী ধ্বংসযজ্ঞ দেখার জন্যে শহরে উৎসুক মানুষের ভীড় জমে। সচেতন মহল সহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এসব ঘটনার নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধ্যান করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

হামলার ঘটনায় উদীচী সংসদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সভাপতি জহিরুল ইসলাম স্বপন বলেন, অতীতেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মৌলবাদী হামলা হয়েছে। তবে এবারের হামলটি ছিল ভয়াবহ। তারা বেছে বেছে মুক্তবুদ্ধি চর্চার কেন্দ্রগুলোতে হামলা-তান্ডব চালিয়েছে। হামলার সময় পুরো শহর ছিল তাদের দখলে। আইন-শৃংখলা বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের কাউকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি। তিনি বলেন, এটা জনগনের বিরুদ্ধে মৌলবাদীদের এক ধরনের জিহাদ বলে আমরা মনে করি। অতীতের বিচারহীনতার কারনেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এ ব্যাপারে জেলা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি কবি জয়দুল হোসেন বলেন, ১৯৯৯ সালে হামলা হয়েছে, গত ২০০৪ সালে হামলা হয়েছে, ২০১৬ সালের ১২ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে হামলা করা হয়েছে। একই বছরের ৩০ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হামলা হয়েছে। প্রতিটি হামলার ধরন ছিল একই কায়দার। কোনটির বিচার হয়নি। যার কারণে আবার হামলা হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি, সেই বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় এ ধরনের সাম্প্রদায়িক হামলা বন্ধ হবেনা।

এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকার বলেন, রোববারের তান্ডবের ঘটনায় আমার নিজ কার্যালয় ও বাসভবনে হামলা করেছে। আমার অফিসে থাকা আওয়ামী লীগের মূল্যবান সকল নথিপত্র পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার অফিস থেকে মাত্র ১০গজ দূরে বিজিবি সদস্যরা ছিল। কেউ আওয়ামী লীগের অফিসটিকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন নি। আমরা পুলিশের সহযোগীতা পাইনি। ফায়ার সার্ভিস ছিল সম্পূর্ণ নিরব। হামলার ঘটনাটিকে তিনি ৭১এর পরাজিত শক্তির দোসরদের পরিকল্পিত ঘটনা বলে আখ্যায়িত করেন।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী বলেন, আমি আমার এই বয়সে এ ধরনের হরতাল দেখিনি। হেফাজত নেতাদেরকে বলতে হবে তারা কেন রাজনৈতিক নেতাদের বাড়িতে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে হামলা করলেন। এই ব্যাখ্যা তাদেরকেই দিতে হবে। তিনি বলেন, এ ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা আমার নেই। তারা দানবের মতো আচরণ করেছে। এই ধরনের দানবীয় কার্যক্রমের দায়ভার হরতাল আহবানকারী সংগঠনকে হেফাজতকেই নিতে হবে। তিনি বলেন, তান্ডব চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো কার্যক্রম কিংবা কোনধরনের তৎপরতা দেখা যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাখ্যা দিক কেন তারা কোন ধরনের অ্যাকশনে যাননি।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০