শিরোনাম

সেফটি পিনের চেইন তৈরি করে

গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান করেছেন নাসিরনগরের পার্থ চন্দ্র দেব

নাসিরনগর প্রতিনিধি | শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ | পড়া হয়েছে 208 বার

গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান করেছেন নাসিরনগরের পার্থ চন্দ্র দেব

সোনালী রঙের সেফটি পিন দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় চেইন তৈরি করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার পার্থ চন্দ্র দেব।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর ডাকযোগে তাঁর কাছে স্বীকৃতির সনদ এসে তার কাছে পৌছায়। এর মধ্য দিয়ে তিনি ২০১৮ সালে করা ভারতের হার্শা নান ও নাভা নামের দু’জনের তৈরি করা রেকর্ড ভাঙেন তিনি।


পার্থ চন্দ্র দেব নাসিরনগর উপজেলার ফান্দাউক ইউনিয়নের ফান্দাউক গ্রামের প্রয়াত জগদীশ দেবের ছেলে। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের বিএসএস (ডিগ্রি) শেষ বর্ষের ছাত্র। পাশাপাশি তিনি হবিগঞ্জ জেলার সাঙ্গবেদ সংস্কৃতি কলেজর ব্যাকরণ তীর্থ ও স্মৃতিতীর্থ (আদ্য) বিভাগে পড়াশোনা করছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি পার্থ চন্দ্র দেব ফান্দাউক বাজারে তার বাবার প্রতিষ্ঠানে বড় ভাইকে সহযোগিতা করেন।

পার্থ চন্দ্র দেবের তৈরী চেইনের দৈর্ঘ্য ২ হাজার ৪০১ দশমিক ৮৩ মিটার বা ৭ হাজার ৮৮০ ফুট শূন্য দশমিক ২ ইঞ্চি। নাসিরনগর উপজেলায় অবস্থিত শ্রী শ্রী পাগল শংকর মন্দিরে এই চেইন পরিমাপ করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে গত ২০১৯ সালের ২০ এপ্রিল পার্থ চন্দ্র দেব সেফটি পিনের দীর্ঘতম চেইন তৈরি করে বিশ্ব রেকর্ড গড়ার জন্য গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে আবেদন করেন। অনুমতি পাওয়ার পর গত বছরের ২৩ জুলাই থেকে টানা ৪৫ দিন তিনি সেফটি পিন দিয়ে চেইন তৈরির কাজ করেন।

এ ব্যাপারে পার্থ চন্দ্র দেব বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি বাবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বড় ভাইকে সহযোগীতা করি। ছোটবেলা থেকেই ব্যতিক্রম কিছু করার ইচ্ছে ছিল।

তিনি বলেন, “গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস ঘেঁটে দেখেছি ২০১৮ সালের ২৩ এপ্রিল ভারতের হার্শা নান ও নাভা নান যৌথভাবে সেফটি পিন দিয়ে সবচেয়ে দীর্ঘতম চেইন তৈরির রেকর্ড গড়েছিলেন। তাঁদের চেইনটির দৈর্ঘ্য ছিল ১ হাজার ৭৩৩ দশমিক ১ মিটার। তাই দোকানের ছোট ছোট ২ সেন্টিমিটার আকারের সোনালি রঙের সেফটি পিন দিয়ে সবচেয়ে বড় চেইন তৈরির পরিকল্পনা গ্রহন করি। ২০১৯ সালে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নিবন্ধিত হই। ওই বছরের ২০ এপ্রিল আবেদন করি। গত বছরের ১৯ জুলাই গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ আমাকে চেইন তৈরির অনুমতি ও পরামর্শ দেয়।

তিনি বলেন, এই চেইন তৈরিতে ব্যবহার করা হয় ১ লাখ ৮৭ হাজার ৮২৩টি সোনালি রঙের দুই সেন্টিমিটার আকারের সোনালি রঙের সেফটি পিন।

পার্থ বলেন, ‘দুজন সাক্ষী ও সার্ভেয়ারসহ ১৪ ধরনের ডকুমেন্ট জমা দিয়েছি। গত বছরের ২৩ জুলাই থেকে কাজ শুরু করি।
১৩ হাজার ৩৭০ টাকায় ১ লাখ ৮৭ হাজার ৮২৩টি সোনালি রঙের দুই সেন্টিমিটার আকারের সোনালি রঙের সেফটি পিন কিনে চেইন তৈরির কাজ শুরু করি। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা কাজ করি। এতে সময় লাগে ২৪১ ঘণ্টা ৪২ মিনিট।
তিনি বলেন, চেইনটির দৈর্ঘ্য পরিমাপের সময় হবিগঞ্জ জেলার লাখাই মুক্তিযোদ্ধার সরকারি ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক রাজীব কুমার আচার্য ও ফান্দাউক পন্ডিতরাম উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পল্লব হালদার সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

ফান্দাউকের অভিজ্ঞ জরিপকারক (সার্ভেয়ার) তোফাজ্জল শাহ মারজান এই চেইন পরিমাপ করেন।
তিনি বলেন, গ্রাম, উপজেলা ও জেলার অনেকেই হয়তো বিশ্ব রেকর্ড গড়ার জন্য ব্যতিক্রম কিছু করার চেষ্টা করবে। আমি আরেকটি বিশ্ব রেকর্ড গড়তে চাই। সেটি নিয়েও কাজ শুরু করেছি। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মন্দিরে এর দৈর্ঘ্য পরিমাপ করে ১৭জিবির ভিডিও ফুটেজ দুই জিবিতে রূপান্তর করে গিনেজ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি।

পার্থ জানান, তার এই কাজে মা স্বপ্না দেব, বড় ভাই জয়ন্ত কুমার দেব, তাঁর স্ত্রী, ভাগনি জয়শ্রী দেব সব সময় এই কাজে অনুপ্রেরনা যুগিয়েছেন।

পার্থ চন্দ্র দেবের বড় ভাই জয়ন্ত কুমার দেব বলেন, অনেকেই ফোন করে অভিবাদন জানাচ্ছে। ভালো লাগছে। তবে এখনো প্রশাসন বা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ধরণের অভিনন্দন জানানো হয়নি।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১