শিরোনাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতি তান্ডব

খেলাফতে মজলিস সভাপতিসহ আরো ১০জন গ্রেপ্তার

সরাইল প্রতিনিধি | শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১ | পড়া হয়েছে 125 বার

খেলাফতে মজলিস সভাপতিসহ আরো ১০জন গ্রেপ্তার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের কর্মসূচী চলাকালে শহরজুড়ে ব্যাপক ভাংচুর ও অগ্নিকান্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, সরাইল উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মোঃ আবু তাহেরসহ আরো ১০জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত বুধবার রাতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এনিয়ে তান্ডবের ঘটনায় জেলার বিভিন্ন থানায় দায়েরকৃত ৫৬টি মামলায় মোট ৪৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রেপ্তারকৃত মাওলানা মোঃ আবু তাহের গত ২৬,২৭ ও ২৮ মার্চ হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ ও হরতাল চলাকালে তান্ডবের ঘটনার অন্যতম হোতা। তিনি তান্ডবের ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন।


প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, গত ২৬, ২৭ ও ২৮ মার্চ হেফাজতের কর্মসূচী চলাকালে কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে সরকার উৎখাতের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি বিভিন্ন মাদরাসার ছাত্র- শিক্ষককে নিয়ে ব্যাপক তান্ডবলীলা চালান।

গত ২৭ মার্চ তিনি দেশীয় অস্ত্র, কোচ, টেটা, বল্লম, লাঠি, ইট পাটকেল নিয়ে সরাইল উপজেলার অরুয়াইল অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প ঘেরাও করে ক্যাম্পে অবস্থানরত পুলিশ সদস্যদের উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ,পুলিশ সদস্যদের হত্যা করার লক্ষে অস্ত্র,গুলি ক্যাম্প লুটসহ সরকারী সম্পত্তি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে ক্যাম্পের সামনের গেইট ভেঙ্গে ক্যাম্পের ভিতরে প্রবেশ করে পুলিশের কাছ থেকে অস্ত্র ও গুলি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাওলানা মোঃ আবু তাহের ছাড়াও বুধবার রাতে তান্ডবের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরো ৯ জন হেফাজত কর্মী-সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, হেফাজতের তান্ডবের ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন থানায় এ পর্যন্ত ৫৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর মডেল থানায় ৪৯টি, আশুগঞ্জ থানায় ৪টি, সরাইল থানায় ২টি এবং আখাউড়া রেলওয়ে থানায় ১টি মামলা দায়ের করা হয়।

এ সকল মামলায় ৪১৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৩০/৩৫ হাজার লোককে আসামী করা হয়। পুলিশ এ পর্যন্ত ৪৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করে।

উল্লেখ্য মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তির অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমনের প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীরা গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ চালায়।

এসময় হামলাকারীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন, পৌরসভা কার্যালয়, সুর সম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন, এসিল্যান্ডের কার্যালয়সহ, সুর সম্রাট আলাউদ্দিন খাঁ পৌর মিলনায়তন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যালয়, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, সিভিল সার্জনের কার্যালয়, জেলা মৎস্য অফিস, সার্কিট হাউজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব, মাতৃ সদন, সরকারি গণগ্রন্থাগার, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকারের বাসভবন, জেলা শিল্পকলা একাডেমী, বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর দুটি ম্যুরালসহ তিনটি ম্যুরাল, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরে উন্নয়ন মেলার প্যান্ডেল, একই চত্বরে থাকা শহর সমাজসেবা প্রকল্পের অফিস, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের অফিস, পৌর মেয়রের বাসভবন, সার্কিট হাউজ, হাইওয়ে থানা ভবন, ইউনিভার্সিটি অব ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ক্যাম্পাস, হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দক্ষিণ কালীবাড়ি, বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির ব্যক্তিগত চেম্বার, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির বাসভবন, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের বাসভবন, আশুগঞ্জ টোলপ্লাজা, সুহিলপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়সহ সরকারি, বেসরকারি প্রায় অর্ধশতাধিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ করে পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে মৃত্যুপুরিতে পরিনত করে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০