শিরোনাম

খুনের জেরে বাড়ি ঘরে তান্ডব : সুনসান নীরবতা নবীনগরের লক্ষ্মীপুর গ্রামে

নবীনগর প্রতিনিধি : | রবিবার, ১১ মার্চ ২০১৮ | পড়া হয়েছে 160 বার

খুনের জেরে বাড়ি ঘরে তান্ডব : সুনসান নীরবতা নবীনগরের লক্ষ্মীপুর গ্রামে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামে এখন সুনসান নীরবতা। একটি হত্যাকান্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে তান্ডবের পর প্রায় পুরুষশূণ্য হয়ে পড়েছে ওই গ্রামটি। বসানো হয়েছে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, গ্রামটির অর্ধশতাধিক বাড়িতে ক্ষত চিহ্ন। গ্রামের কাতাইরা বাড়ি, লাড্ডু বাড়ি, খান বাড়ি, হোরা গাজী বাড়িসহ বিভিন্ন বাড়িতে ভাঙচুরের দৃশ্য। ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন বাড়ির পুরুষ সদস্যরা। নারী ও শিশু সদস্যরা বাড়িতে থাকলেও আছেন চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায়।


কথা হলে কাতাইরা বাড়ির নুরুন্নাহার জানান, বাড়ি ঘরে শুধু হামলাই নয়, লুটপাটও হয়েছে। এসব ঘরে কোনো জিনিসপত্র নেই। বেশিরভাগ বাড়িই এখন তালাবদ্ধ। কিছু কিছু বাড়িতে নারী ও শিশুরাও থাকলেও আছে আতঙ্কে। সাবেক চেয়ারম্যান ইদ্রিস মিয়ার বাড়ির হিরামনি নামে এক নারী জানান, তারা আতঙ্কে আছেন। ঘটনার সঙ্গে তাদের পরিবারের কেউ জড়িত না থাকলেও আক্রান্ত হয়েছেন। একজনকে পুলিশ ধরেও নিয়ে গেছে।

গ্রামে ঢুকতেই চোখে পড়ে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প। সেখানে কর্মরত পুলিশ সদস্যরা জানান,গ্রামে মোট ৩২ জন পুলিশ রয়েছে। দিনরাত তারা গ্রামজুড়ে পাহারা দেন। এলাকার পরিস্থিতি শান্ত আছে। তবে মামলায় নাম থাকা পুরুষ সদস্যরা এলাকায় আসছেন না।

দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়–য়া আজিজুল ও পারভেজ জানায়, স্কুলে যেতে ভয় হয়। পুলিশ ও প্রতিপক্ষের লোকজন সমস্যা করতে পারে ভেবে তারা বাড়ি থেকে খুব একটা বের হয় না। পুলিশও তাদেরকে ঘুরাঘুরি করতে দেয় না।

কাতাইরাবাড়ির জহর মিয়ার স্ত্রী হাসনা বেগম জানান, তার স্বামী চলাফেরা করতে পারেন না। এক ছেলে দেশের বাইরে থাকে। খুনের ঘটনার সাথে তারা কেউ জড়িত নয়। এরপরও তাদের বাড়িতে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়েছে।

অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা নবীনগর থানার এস.আই মো. মাহবুবুর রহমান জানান, এলাকায় এখন আর কোনো সমস্যা নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। তবে মামলা থাকায় গ্রামের পুরুষ সদস্যদের বেশিরভাগই এখন এলাকায় নেই বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, লক্ষ্মীপুর গ্রামের আরশ আলীর গোষ্ঠী ও কাতাইরা বাড়ির গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে গত ৩ মার্চ বৈঠক হওয়ার কথা। এরই মধ্যে ২ মার্চ দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এরই জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় আরশ আলীর গোষ্ঠীর দুলাল মিয়া নিহত হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাতাইরাবাড়ি গোষ্ঠীর অর্ধ শতাধিক বাড়িঘরে হামলা হয়।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১