শিরোনাম

খুঁড়িয়ে চলা এক হাসপাতাল

সরাইল প্রতিনিধি : | মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | পড়া হয়েছে 142 বার

খুঁড়িয়ে চলা এক হাসপাতাল

ঝুঁকিপূর্ণ ভবন আর মাদকসেবীদের দৌরাত্ম্যে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন রোগী, চিকিৎসকসহ সবাই। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ নেই। যা আছে তাও নষ্ট। চিকিৎসক-সংকট প্রকট। ২৫জন চিকিৎসকের জায়গায় কাগজপত্রে আছেন ১৮জন। তাঁদের মধ্যে আবার প্রেষণ, প্রশিক্ষণ আর ছুটিতে আছেন ১৩জন। অর্থাৎ বাস্তবে কর্মরত চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র ৫জন। এ চিত্রটি জেলার সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। অথচ এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি উপজেলার ৯ ইউনিয়নের ৪ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান। এছাড়া সদর উপজেলার বুধল, মজলিশপুর ও নাসিরনগর উপজেলার কুণ্ডা ইউনিয়নের রোগীরাও এখানে চিকিৎসা নিতে আসে।

তিনদিনের সরজমিনের প্রতিবেদনে দেখা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে কোন দিনই তিনজনের বেশি চিকিৎসক পাওয়া যায়নি। অথচ এখানে বহির্বিভাগে প্রতিদিন দুই শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিতে আসে।


বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা অপেক্ষারত একজন জানান, প্রায় দেড় ঘন্টা ধরে অপেক্ষা করছেন। কিন্তু চিকিৎসক দেখাতে পারেননি।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও), নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ, অবেদনবিদ, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, দন্ত বিশেষজ্ঞ, চক্ষু বিশেষজ্ঞ, শল্যচিকিৎসক ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ নেই। ২৪ জন নার্গের জায়গায় কর্মরত আছেন ১৯ জন নার্স।

হাসপাতালের প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরএমও, অবেদনবিদ, শল্যচিকিৎসক, নাক কান গলা বিশেজ্ঞসহ হৃদরোগ, দন্ত, চক্ষু ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ নেই। ২৪জন নার্গের জায়গায় কর্মরত আছে ১৯ জন। একটি আধুনিক অস্ত্রোপচার কক্ষ ও ব্লাড ব্যাং থাকলেও অবেদনবিদ, শল্যচিকিৎসক ও ব্লাড ব্যাংক টেকনিশিয়ানের অভাবে পাঁচ বছর ধরে প্রসূতি অস্ত্রোপচার (সিজার) হচ্ছে না। পড়ে থেকে থেকে নষ্ট হচ্ছে অস্ত্রোপচার ও ব্লাড ব্যাংক কক্ষের যন্ত্রপাতি। এদেিক, ৪২ বছরের পুরোনো এক্স-রে যন্ত্রটি বছরের অধিকাংশ সময় বিকল থাকে। নেই একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম যন্ত্র। রোগনির্ণয় কেন্দ্রের (প্যাথলজি) যন্ত্রপাতিগুলোও ত্রুটিমুক্ত নয়। ফরে সারা বছর দরিদ্র রোগীদের বেশি টাকা ব্যয় করে বেসরকারি ক্লিনিক থেকে রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হচ্ছে। ১১ বছর পর গত ২ জানুয়ারি অর্ধ কোটি টাকা মূল্যের একটি অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া গেলেও কাগজপত্রের অভাবে এটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্র জানায়, দুটি ভবরেন মধ্যে ১৯৭৪ সালের নির্মিত পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলচে চিকিৎসা কার্যক্রম। রোগীদের কক্ষগুলোর দরজা-জানালা ভাঙ্গা। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। নারী ও শিশুদের মেঝে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। বিদ্যুতের জেনারেটর নেই। তাই বিদ্যুৎ চলে গেলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি অন্ধকারে ডুবে যায়।

হাসপাতালে ভর্তি থাকা একাধিক রোগী অভিযোগ করেন, রাতে এখনো ঠান্ডা পড়ে। কিন্তু জানালার কাচ না থাকায় শীতে কষ্ট করতে হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক নার্স জানান, জানালা দিয়ে হু হু করে বাতাস আসায় শীতের সময় ঠান্ডায় টিকতে না পেরে একাধিক রোগী সুস্থ হওয়ার আগেই হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান।

অন্যদিকে চিকিৎসক সংকটে পড়ে আছে ২০১০ সালে নির্মিত নতুন ভবনটি। নতুন ভবনে অস্ত্রোপচার ও ব্লাড ব্যাংক কক্ষ থাকলেও লাভ হচ্ছে না।
হাসপাতালের নার্সরা জানান, সন্ধ্যার পর পাশের আবাসিক এলাকায় মাদকসেবী আর বিক্রেতাদের আনাগোনা বেড়ে যায়। তখন এই হাসপাতাল এলাকায় পরিবার নিয়ে থাকা চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ স্টাফ নার্স কামরুন্নাহার জানান, বাসার আশপাশে দিনে রাতে বখাটেরা মাদক সেবন করে, আড্ডা দেয়। কিছু বললেই ওরা বাজে ব্যবহার করে।

সিভিল সার্জন নিশিত নন্দী মজুমদার জানান, এসব সমস্যার কথা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন। হাসপাতালের উত্তরের ফটকটি বন্ধ করে দিলে মাদকসেবীদের দৌরাত্ম কিছুটা কমবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের সাংসদ অ্যাডঃ জিয়াউল হক মৃধা জানান, প্রেষণ নামের ব্যাধি হচ্ছে এই হাসপাতালের প্রধান সমস্যা। আপাতত জরুরি ভিত্তিতে এখানে চিকিৎসক সংঙ্কট দূর করার চেষ্টা চলছে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১