শিরোনাম

কোম্পানির প্ররোচনায় ডাক্তাররা ৫০ ভাগই অপ্রয়োজনীয় ওষুধ রোগীদের দেন

| বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৬ | পড়া হয়েছে 590 বার

কোম্পানির প্ররোচনায় ডাক্তাররা ৫০ ভাগই অপ্রয়োজনীয় ওষুধ রোগীদের দেন

ওষুধ কোম্পানির প্ররোচনায় বাংলাদেশের চিকিৎসকরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্রে অপ্রয়োজনীয় ওষুধ লিখেন। দেশের চিকিৎসায় ৫০% ওষুধই অপ্রয়োজনে প্রয়োগ করা হয়। যা রোগীকে বিভিন্নভাবে আরো অসুস্থ করে তুলছে।
ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি) ও আন্তর্জাতিক সংগঠন দি ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারের আলোচক ডাক্তার এইচ এম লেলিন চৌধুরী নিজেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে এ মন্তব্য করেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, ‘দেশের মোট আক্রান্ত রোগীর ৬০ ভাগ অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত এবং ৪০ ভাগ সংক্রামক রোগে আক্রান্ত। মানুষ শুধু মুনাফার পিছনে ছুটতে গিয়ে পরিবেশ ও প্রকৃতিকে ধ্বংস বা দূষিত করছে। ফলে মানুষ নানাভাবে আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া ডাক্তাররা যে ওষুধ লিখে, তার ৫০ ভাগই অপ্রয়োজনীয়। বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির মাধ্যমে প্রলুব্ধ হয়ে এই অপ্রয়োজনীয় ওষুধ ব্যবহারে রোগীদের বাধ্য করছে।’
তিনি বলেন, ‘দেশের রোগীদের অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগে কোনো প্রকার নির্দেশনা অনুসরণ করা হচ্ছে না। সকল ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। অ্যান্টিবায়োটিকগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ভয়াবহ হতে পারে। উন্নত বিশ্বে ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মৃত্যুর হার চতুর্থ স্থান অধিকার করে আছে। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ দরকার।’
অধ্যাপক ডা. রেজওয়ানুল হক বুলবুল বলেন, ‘বাংলাদেশে ৫৯ শতাংশ মানুষ হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যানসার, ডায়বেটিস, ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদী রোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে মারা যায়। অসংক্রামক রোগের প্রধান কারণ নেতিবাচক জীবনাচার, যেমন- তামাক ও বিভিন্ন ক্ষতিকর নেশা, ফাস্ট ফুড-জাংক ফুড ও কোমল পানীয়-মোড়কজাত কেমিক্যাল জুসের আধিক্য, অলসতা ও শারীরিক পরিশ্রমের ঘাটতি, মুটিয়ে যাওয়া ইত্যাদি। এসব ভয়াবহ রোগ প্রতিরোধ করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার। এক্ষেত্রে হেলথ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
ডিএইচইএন’র সভাপতি অধ্যাপক ডা. নাজমুন নাহারের সভাপতিত্বে এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. রেজওয়ানুল হক বুলবুল। আলোচনা করেন ডিএইচএনের সাধারণ সম্পাদক ডা. কাজী রকিবুল ইসলাম, দি ইউনিয়নের কারিগরি পরামর্শক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম প্রমুখ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী। মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন প্রত্যাশা মাদক বিরোধী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হেলাল আহমেদ, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রকল্প কর্মকর্তা আতিকুর রহমান প্রমুখ।


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০