শিরোনাম

কেন নবজাতকসহ ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন সীমা?

বিশেষ প্রতিনিধি : | রবিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৮ | পড়া হয়েছে 347 বার

কেন নবজাতকসহ ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন সীমা?

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাসপাতালের ছাদ থেকে ফেলে নবজাতক সন্তানকে হত্যার পর ঝাঁপ দিয়ে মায়ের আত্মহত্যার ঘটনায় জনমনে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই সর্বত্র একই আলোচনা, কী কারণে নবজাতককে হত্যার পর সীমা আত্মহত্যা করলো? ১৯ অক্টোবর শুক্রবার সকালে জেলা শহরের পুরাতন জেল রোডের দি ল্যাব এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালের ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে সীমা আক্তার (২৫) নামের এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেন। আত্মহত্যার আগে ৪ দিন আগে জন্ম নেওয়া তার ছেলে শিশু সন্তানকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করেন তিনি।

সীমা আক্তার সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের ঘাটিয়ারা গ্রামের লেবানন প্রবাসী মনির মিয়ার স্ত্রী। এ ঘটনায় সদর মডেল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।


গত ১৬ অক্টোবর প্রসব বেদনা নিয়ে সীমা জেলরোডস্থ লাইফ কেয়ার হাসপাতালের ৩০২ নম্বর বেডে ভর্তি হন। ঐ দিন সন্ধ্যায় সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে ছেলে সন্তানের জন্ম দেন সীমা। শুক্রবার সকালে হাসপাতাল থেকে তাদের ছাড় পাওয়ার কথা ছিল।

এ ঘটনার পর কারো কাছ থেকে বক্তব্য না পাওয়ায় আত্মহত্যার সঠিক কারণ জানা যায়নি। তবে আত্মহত্যার পর লোক মুখে ছড়িয়ে পরে হাসপাতালের বিল অতিরিক্ত হওয়ায় দিতে না পারায় সন্তান নিয়ে সীমা আত্মহত্যা করেছেন। এ কথা ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠে।

তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সেবার মান ও বিল নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। সেই সাথে দোষীদের শাস্তি দাবি করেন তারা।

আবার কানাঘুষা চলে, স্ত্রীর প্রসব করা সন্তানকে প্রবাসী মনির অস্বীকার করাতে আত্মহত্যা করেছেন সীমা।

প্রবাসী মনিরের ভাই শামীম মিয়া ও প্রতিবেশীরা জানায়, প্রথমবার সন্তান হওয়ায় মনির খুশিতে প্রবাসে বন্ধু-বান্ধবদের খাওয়া-দাওয়া করিয়েছে। দেশে আত্মীয়-স্বজনদের মিষ্টি খাওয়াতে বলেছে। আর হাসপাতালের বিলের যে গুজব ছড়িয়েছে, তা অবান্তর। কারণ মনির প্রবাসে থাকে ও পারিবারিকভাবে অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল। বুঝতে পারছি না কী কারণে সন্তানটি নিয়ে সে আত্মহত্যা করলো।

তবে ফরিদা খাতুন নামে সীমার পাশের বেডের (৩০৩) এক রোগীর স্বজন বলেন, সারারাত বাচ্চাটি দুধের জন্য কান্নাকাটি করছিল। সীমা ফোনে কারো সঙ্গে ঝগড়া করছিল। ফোনে সে বলছিল, ‘বাচ্চাকে দুধ দিতে হবে না, সকালে দেখবা আমি কী করি’।

হাসপাতালে সীমার সাথে থাকা তার মা রেহেনা বেগম জানান, ঘটনার সময় তিনি সকালের নাস্তা আনতে দোকানে গিয়েছিলেন। এই ঘটনায় তিনিও হতভম্ব।

লাইফ কেয়ার হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৯ তারিখ সীমাসহ নবজাতককে ছাড়পত্র দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ছাড়পত্র বা বিল কোনোটাই তাদের দেওয়া হয়নি। তাহলে কীভাবে বিল বেশি আসার কথা উঠবে?

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম বাবু জানান, এই ঘটনার তদন্ত চলছে। আমরা মোবাইল কল লিস্টসহ সকল বিষয় তদন্ত করব। তদন্ত ছাড়া কী কারণে ঘটনাটি ঘটলো তা বলা যাচ্ছে না।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০