শিরোনাম

বর্ষার প্লাবিত স্রোতে

কালুখালীতে সাঁকো ভেঙে ভোগান্তিতে ২৫ গ্রামের মানুষ

| শনিবার, ১৩ অক্টোবর ২০১৮ | পড়া হয়েছে 92 বার

কালুখালীতে সাঁকো ভেঙে ভোগান্তিতে ২৫ গ্রামের মানুষ

বিশেষ প্রতিনিধি : পদ্মার চরাঞ্চল থেকে নদী পথ পাড়ি দিয়ে জেলা-উপজেলার হাট বাজারে আসার জন্য তৈরী করা হয়েছিলো বাঁশের সাঁকো।এ বছরের বর্ষার প্লাবিত স্রোতে সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছে কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের ২৫ গ্রামের কয়েক লাখ মানুষ।

রাজবাড়ী জেলার কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নে পদ্মা নদীর শাখা কোল বলে পরিচিত হিরু মোল্লার ঘাট।


উপজেলা শহর রক্ষা বাঁধের ওপারে প্রায় ২৫টি গ্রামের মানুষ কালুখালী উপজেলা ও জেলা শহরে আসার জন্য ২০১৩ সালে প্রায় ১’শ ফিট দৈর্ঘ্য বাঁশের সাঁকো তৈরি করে রতনদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ।
চলতি বছরের বর্ষার প্লাবিত স্রোতে তা ভেঙে গেছে। বাধ্য হয়ে তাই খেয়া নৌকায় হতে হচ্ছে পারাপার। সময়মত নৌকা না মেলায় পোহাতে হচ্ছে নানা ভোগান্তি। ব্যাহত হচ্ছে এসব এলাকার শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ও কৃষি পণ্যের বাজারজাত।

হিরু মোল্লার এই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার মানুষের যাতায়াত। শুষ্ক মৌসুমে বালুর চরে পায়ে হাঁটলেও বর্ষার পানিতে দুর্ভোগ বেড়ে যায় কয়েকগুণ।
ভুক্তভোগীদের দাবি, জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সাঁকো সংস্কার না করে দ্রুততার সাথে একটি ব্রিজ নির্মাণ।

রতনদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ৮নং ওয়ার্ড সদস্য মাসুদ সেখ বলেন, কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নে পদ্মা নদীর শাখা কোলে হিরু মোল্লার ঘাট। এখানে নদীর ওপাড়ে চলাচলের জন্য বাঁশের তৈরি একটি সাঁকো ছিলো যা এবারের বর্ষায় স্রোতে ভেঙে গেছে। চরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত খুব কষ্টকর হয়ে পড়েছে। একটি মাত্র নৌকা দিয়ে মানুষ পারাপার হচ্ছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোগান্তির শেষ নেই।
রতনদিয়া ইউনিয়নের হরিণবাড়িয়া, মাধবপুর, চাঁদপুর বাজার থেকে কালুখালী উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, হাট বাজারে মানুষ আসে। শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যাতায়াত করে।
চরাঞ্চলে অবস্থিত হরিণবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, সাঁকোটি ভেঙে গেছে। শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতের সমস্যা হচ্ছে। অনেক শিক্ষককে নদী পার দিয়ে ওপারে যেতে হয়। সময়মত নৌকা না পেলে সঠিক সময়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। লেখাপড়ার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ জন্য অত্র অঞ্চলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে অতি দ্রুত একটি ব্রিজ নির্মাণ করা প্রয়োজন।

কালুখালী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী চায়না খাতুন বলেন, আমাদের বাড়ি পদ্মার চরে। চর থেকে প্রতিদিন নদী পাড় দিয়ে কালুখালী উপজেলায় আসতে হয়। বাঁশের সাঁকোটি ভেঙেছে। খেয়া নৌকা সময়মত মেলে না। বিদ্যালয়ে সময়মত পৌঁছাতে পারি না।

মুদি দোকান ব্যবসায়ী করিম মোল্লা জানান, আমরা যারা নদীর ওপারে ছোট ছোট দোকান ব্যবসা করি কালুখালী শহরে গিয়ে কেনাকাটা করে আনতে হয়। নৌকা ফেল করলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। ব্রিজ হলে সবার কষ্ট লাঘব হবে।

রতনদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মেহেদী হাসিনা পারভীন নিলুফা জানান, কয়েক বছর আগে উপজেলা পরিষদ এই সাঁকোটি নির্মাণ করে দেয়। পরবর্তীতে আমি চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর ২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সাঁকোটি সংস্কার করে দিয়েছি। শুকনা মৌসুমে এই সাঁকোর উপর দিয়ে মানুষ চলাচল করতে পারলেও এখন পানি উঠে যাওয়ায় তারা আর চলাচল করতে পারছে না। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এসব অঞ্চলের সাধারণ হাজার হাজার মানুষ।

কালুখালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজী সাইফুল ইসলাম জানান, কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের ১০টি মৌজার হাজার হাজার মানুষ বেড়িবাঁধের ওপারে এই চরাঞ্চলে বসবাস করে। তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত অনুন্নত। বিশেষ করে বর্ষাকালে এদের নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

মাত্র ৭ কিলোমিটার উপজেলা সদর থেকে এই পদ্মা নদী। আপদে-বিপদে তাদের উপজেলায় আসতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে।

কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ তোফায়েল আহম্মেদ জানান, হিরু মোল্লার ঘাটটি চরাঞ্চলের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘাট। প্রতিবছর টিআরের মাধ্যমে সাঁকোটি সংস্কার করা হয়। বন্যায় সাঁকোটি ভেঙে গেছে। এটা সংস্কারের জন্য অতি দ্রুত ব্যবস্থা নিবো। চরাঞ্চলে বসবাসরত মানুষদের আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক সুবিধা গ্রহণের জন্য এখানে স্থায়ীভাবে একটি ব্রিজ হওয়া খুব জরুরি। ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রয়াজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০