শিরোনাম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

কসবা-আখাউড়ায় প্রায় এক ডজন প্রার্থী মাঠে : এলাকায় গণসংযোগ বাড়িয়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা

বিশেষ প্রতিনিধি : | বৃহস্পতিবার, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | পড়া হয়েছে 339 বার

কসবা-আখাউড়ায় প্রায় এক ডজন প্রার্থী মাঠে : এলাকায় গণসংযোগ বাড়িয়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন-তারিখ নির্ধারিত না হলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে বইছে নির্বাচনী হাওয়া।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ, মাঠের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যেই নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ বাড়িয়েছেন। অঘোষিতভাবে শুরু করেছেন প্রচার-প্রচারণা। এ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক প্রার্থী থাকলেও জাতীয় পার্টির মাত্র একজন প্রার্থী প্রচারে আছেন। আওয়ামী লীগে একাধিক প্রার্থী থাকলেও যিনিই দলীয় মনোনয়ন পাবেন মূল লড়াইটা হবে বিএনপির প্রার্থীর সাথে।


বিভিন্ন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা দলীয় নেতা কর্মীদের সাথে ব্যক্তিগত যোগাযোগ বাড়ানোসহ নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের পক্ষে তাদের অনুসারীরা এলাকায় পোস্টার, ব্যানার ও বিলবোর্ড টানিয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে ৪ জন প্রার্থী মাঠে কাজ করছেন। তারা হলো কসবা উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক, বর্তমান সংসদ সদস্য, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডঃ আনিসুল হক, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শাহআলম, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ সাহা মনি, যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা শ্যামল কুমার রায়। তাদের মধ্যে অ্যাডভোকেট আনিসুল হকের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

বিশিষ্ট আইনজীবী আনিসুল হক রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। তার পিতা অ্যাডভোকেট মরহুম সিরাজুল ইসলাম ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কসবা-আখাউড়া আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। আনিসুল হক বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি ছিলেন।

গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অ্যাডভোকেট আনিসুল হক আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে প্রথমবারের মতো এ আসনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। পরে তিনি আইনমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় স্থান পান। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই অ্যাডভোকেট আনিসুল হক তার নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড করে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠন তৃণমূল পর্যায়ে বেশ সংগঠিত। তিনি নিয়মিত এলাকায় উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডসহ দলীয় সভা-সমাবেশে যোগদান করছেন।

আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শাহআলম এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি ১৯৯৬ সালে এবং ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন লাভে ব্যর্থ হন। তিনিও নির্বাচনী এলাকায় নিয়মিত যোগাযোগ করছেন। বিভিন্ন ইউনিয়নে তার অনুসারীদের সাথে মতবিনিময় করেন। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সম্পাদক নারায়ণ সাহা মনিও নিয়মিত এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগাযোগসহ প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তরুণ ভোটারদের কাছে তার বেশ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটাররা তার ব্যাপারে একাট্টা।

কসবা-আখাউড়া আসনে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থাও বেশ শক্ত। এ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেনÑ বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক সচিব মুশফিকুর রহমান এবং বিশিষ্ট শিল্পপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি নাসিরউদ্দিন হাজারী।

মুশফিকুর রহমান এ আসন থেকে ২০০১ সালে নির্বাচিত হয়েছিলেন। আগামী নির্বাচনেও তিনি দলের কাছে মনোনয়ন চাইবেন বলে শোনা যাচ্ছে। তবে তিনি এলাকায় তেমন আসেন না। এলাকায় তার কোনো কর্মকান্ডও নেই। দলীয় নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন, বছরখানেক আগে তিনি সর্বশেষ আখাউড়া উপজেলায় দলীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে যোগদান করেছিলেন। এর পর আর এলাকায় আসেননি। বেশিরভাগ সময়ই বিদেশে অবস্থান করেন।

অপরদিকে দশম সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই দলের দুর্দিনে নেতা-কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন নাসিরউদ্দিন হাজারী। তিনি ঢাকা থেকে নিয়মিতভাবে এলাকায় এসে তার অনুসারীদের নিয়ে কসবা ও আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ ও দলীয় কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছেন। কসবা ও আখাউড়া উপজেলায় তার সমর্থনে বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন টানিয়েছেন তার অনুসারীরা। ইতোমধ্যে এলাকায় তিনি একটা অবস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে সাংঠনিকভাবে জাতীয় পার্টির অবস্থান নাজুক হলেও একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কসবা উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক ও ঢাকা মহানগর জাতীয় পার্টির নেতা তারেক এ আদেল প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন। তিনি এ আসনে জাতীয় পার্টির একমাত্র প্রার্থী। তার পিতা মরহুম জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ আদেল ঢাকা সিটি করপোরেশনের ডেপুটি মেয়র, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ছিলেন। তারেক আদেল মাঝেমধ্যে কসবা এলাকায় এসে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। তবে তিনি এখনো আখাউড়া উপজেলায় প্রচার-প্রচারণা শুরু করেননি বলে জানিয়েছেন এলাকার লোকজন। জাতীয় পার্টির (জাফর) প্রার্থী হিসেবে আলহাজ্ব সেলিম মাস্টার ২০ দলীয় জোটের মনোনয়ন চাইবেন বলে তার সমর্থকরা জানিয়েছেন। তিনিও এলাকায় রাজনৈতিক ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১