শিরোনাম

কসবায় নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম কোরআন শরীফের ভাস্কর্য

কসবা প্রতিনিধি : | বুধবার, ০৩ জানুয়ারি ২০১৮ | পড়া হয়েছে 362 বার

কসবায় নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম কোরআন শরীফের ভাস্কর্য

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা পৌর শহরের সংযোগ সড়কের মাঝে নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম কোরআন শরীফের ভাস্কর্য। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এর নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনেরও চেষ্টা করা হচ্ছে। পৌর শহরের কদমতলার মোড়ে স্থাপন করা এই কোরআন শরীফের প্রথম ভাস্কর্য দেখতে প্রতিদিন সেখানে ভীড় জমায় বিভিন্ন এলাকার মানুষ।
কসবা পৌরসভা সূত্র জানায়, পৌরসভার উদ্যোগে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) এর অর্থায়ণে এই ভাস্কর্য নির্মাণ হচ্ছে। এর ব্যয় ধরা হয়েছে সাত লাখ ৬৮ হাজার ৫১৬ টাকা। ঢাকার চারুকলা ইনস্টিটিউটের ছাত্র কামরুল হাসান শিপন এ ভাস্কর্যের নকশা তৈরি করেন। ভাস্কর্যটির উচ্চতা ১৬ ফুট ও প্রস্থ আট ফুট। মেসার্স সান কমিউনিকেশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এটির নির্মাণ কাজ করছে।
এ ব্যাপারে ইসলামী ঐক্যজোট আখাউড়া শাখার যুগ্ম আহবায়ক হাজী বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের পার্শ্ববর্তী উপজেলাতে এমন একটা উদ্যোগ নেয়ায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মাঝে আনন্দ বিরাজ করছে। উদ্যোগটি সত্যিই খুব প্রশংসনীয়। দেশের কোথাও কোরআন নিয়ে এমন নিদর্শন আছে কি-না আমার জানা নেই। এ ধরণের উদ্যোগ নেয়ায় আইনমন্ত্রী ও কসবার মেয়রের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এমন একটি নিদর্শন করার জন্য আখাউড়ার মেয়রের প্রতি দাবি রইল।’
এলাকাবাসী জানান, কুটি-কসবা, নয়নপুর-কসবা, কসবা-সৈয়দাবাদ সড়কের সংযোগস্থলে ভাস্কর্যটি নির্মাণ হচ্ছে। এর নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের দিকে। শেষ মুহুর্তে এর নীচের অংশে টাইলস লাগানোর কাজ চলছে। নীচের দিকে একটি গম্ভুজের উপরে রাখা পবিত্র কোরআন শরীফ নজর কাড়ছে সবার। পথচারিরা এতটুকু সময়ের জন্য হলেও দাঁড়িয়ে দেখছেন এর নির্মাণ কাজ। কেউ আবার ছবি তুলে নিচ্ছেন। সবার মুখেই প্রশংসার বাণী। জেদ্দা বিমানবন্দর থেকে মক্কা নগরীতে প্রবেশদ্বারে পবিত্র কুরআনের আদলে তৈরি তোরণের আদলেই এ ভাস্কর্য নির্মাণ হচ্ছে বলে অভিমত অনেকের।
এ ব্যাপারে কসবা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. মনির হোসেন বলেন, ‘বর্তমান সরকার ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী। ধর্মের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ ও আনুগত্য থেকেই পবিত্র কোরআন শরীফের এ ভাস্কর্য নির্মাণ করা হচ্ছে। আমার জানামতে দেশের কোথাও কোরআন শরীফের ভাস্কর্য নেই। এ ধরণের ভাস্কর্য নির্মাণ সকলের প্রশংসা কুড়াচ্ছে।’
এ ব্যাপারে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা ও কসবার বাসিন্দা গাজী মাওলানা ইয়াকুব ওসমানী বলেন, ‘দেশের প্রথম কোরআনের ভাস্কর্য কসবাতে হওয়ায় এখানকার নাগরিক হিসেবে আমরা গৌরবান্বিত। এ জন্য সকল উদ্যোক্তাদের প্রতি আমাদের অভিনন্দন। প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ও কসবার মেয়রকে এ জন্য কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। একই সাথে সারাদেশে ইসলামের ঐতিহ্যের ভাস্কর্য নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।’
কসবা পৌরসভার মেয়র মোঃ এমরান উদ্দিন জুয়েল বলেন, ‘ধর্মীয় অনুভূতি থেকেই কোরআনের ভাস্কর্য নির্মাণ করা হচ্ছে। সারাদেশে বিভিন্ন ধরণের ভাস্কর্য নির্মাণ হলেও কোথাও কোরআনের ভাস্কর্য নেই। এটিই দেশের প্রথম কোরআনের ভাস্কর্য। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আইনমন্ত্রী অ্যাডঃ আনিসুল হক এর অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতায় ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনি এ ভাস্কর্যের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে আশা করছি। ভাস্কর্যটি কসবার আড়াইবাড়ি মাদ্রাসার ঐতিহ্যকে আরো সমৃদ্ধ করবে। কোরআনের আলো মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া লক্ষ্যেই এটি নির্মাণ করা হচ্ছে।


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১