শিরোনাম

ফলোআপঃ- আইনমন্ত্রীর উপস্থিতিতে দুই মেয়র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ

কসবায় আড়াইশ জনকে আসামী করে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের ॥ গ্রেপ্তার-৬

কসবা প্রতিনিধি | রবিবার, ০৭ মার্চ ২০২১ | পড়া হয়েছে 164 বার

কসবায় আড়াইশ জনকে আসামী করে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের ॥ গ্রেপ্তার-৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক এমপির উপস্থিতিতে গত শুক্রবার বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদের সামনে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বর্তমান পৌর ও আগামী নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী এমরান উদ্দিন জুয়েল এবং উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও আগামী পৌর নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী এম.এ. আজিজের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

কসবা থানার এস.আই মোঃ আনোয়ার হোসাইন বাদি হয়ে শনিবার রাতে দ্রুত বিচার আইনে ২৮ জনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাতনামা ২০০/২৫০ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। (মামলা নং-০৬, তারিখ-০৬/০৩/২০২১ইং)।
মামলা দায়েরের পর রাতেই পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মামলার ৬ আসামীকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, হৃদয় খাঁন-(২২), মোঃ রাসেল-(৩০), মোঃ কাইয়ুম-(২২), মোঃ রবিন- সালাউদ্দিন-(২৭) ও রবিউল্লাহ-(৩২)।


এ ব্যাপারে কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) আলমগীর ভূইয়ার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, মামলার এজহারনামীয় ৬ আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, রোববার সকালে গ্রেপ্তারকৃতদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারনে প্রায় ১ বছর পর আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক গত শুক্রবার সকালে কসবা উপজেলা অডিটোরিয়ামে স্মার্ট কার্ড বিতরণ ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুর‌্যাল উদ্বোধন করার জন্য তার নির্বাচনী এলাকার (কসবা-আখাউড়া) কসবায় আসেন।

মন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে পৌর মেয়র এমরান উদ্দিন জুয়েল ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি এবং আগামী পৌর নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী এম.এ. আজিজের সমর্থকরা খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে অডিটোরিয়ামের দিকে আসতে থাকে।

এ সময় দুই মেয়র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে পাল্টা-পাল্টি শ্লোগান ও ধাক্কা-ধাক্কি শুরু হয়। এক পর্যায়ে দুই মেয়র প্রার্থীর সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। হামলাকারীরা প্রতিপক্ষের ১০টি মোটর সাইকেল ভাংচুর ও ৪ মোটর সাইকেল পুড়িয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

বেলা সোয়া ১১টার দিকে মন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌছলে মন্ত্রীর উপস্থিতিতেই দুই মেয়র প্রার্থীর সমর্থকরা পুনরায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পরে মন্ত্রী তাঁর বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করে দুপুর ১২টার দিকে পুলিশী নিরাপত্তায় উপজেলার পানিয়ারুপ নিজ বাড়িতে চলে যান। পুলিশ সংর্ঘষে জড়িতদের লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে। পরে থেমে থেমে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে দুদলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। হামলাকারীরা কসবা পুরাতন বাজারে অবস্থিত ব্যাংক এশিয়া , সীমান্ত কমপ্লেক্সের বিভিন্ন দোকানে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে, জানালার গ্লাস ভাংচুর করে। কসবা উপজেলা কমপ্লেক্সের গেইট থেকে টি.আলী কলেজ মোড় পর্যন্ত রাস্তায় উভয় পাশের বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ছিড়ে ফেলে।

এ ব্যাপারে পৌর মেয়র এমরান উদ্দিন জুয়েল বলেন, প্রায় ১ বছর পরম মন্ত্রী মহোদয় শুক্রবার এলাকায় আসেন। মন্ত্রীকে বরণ করার জন্য বেলা ১১টার দিকে আমি আমার সমর্থকদের নিয়ে রাস্তার দু’পাশে দাড়িয়ে ছিলাম। এমন সময় উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও মেয়র প্রার্থী এম.এ. আজিজের ছোট ভাই যুবদল নেতা শিশুর নেতৃত্বে তার সমর্থকরা আমার সমর্থকদের উপর মোটর সাইকেল তুলে দেয়। পরে আমার ও আজিজের সমর্থকদের মধ্যে অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে ধস্তাধস্তি হয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও মেয়র প্রার্থী এম.এ আজিজ বলেন, মন্ত্রী মহোদয়কে বরণ করার জন্য টিআলীর বাড়ির মোড় থেকে উপজেলা পরিষদ পর্যন্ত রাস্তার দুপাশে আমার সমর্থকরা দাঁড়িয়েছিলো। এক পর্যায়ে আমার কয়েকজন সমর্থক মোটর সাইকেল নিয়ে উপজেলা পরিষদের সামনে দিয়ে আসার সময় প্রতিপক্ষের লোকেরা মোটর সাইকেলে হামলা করে। পরে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয়পক্ষের ১০টি মোটর সাইকেল ভাংচুর করা হয় ও উভয়পক্ষের কমপক্ষে ১৫জন আহত হন।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১