শিরোনাম

ঐতিহ্যবাহী কসবা টি.আলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ও আমার ভাবনাঃ

আফজাল হোসেন লিমন | রবিবার, ২০ মে ২০১৮ | পড়া হয়েছে 347 বার

ঐতিহ্যবাহী কসবা টি.আলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ও আমার ভাবনাঃ

আবেগ, ভালোলাগা এবং ভালোবাসার অনবদ্য ঠিকানা কসবা টি.আলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে। বছরের পর বছর বহু জ্ঞানী এবং গুনীজনের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে। বহু স্বনামধন্য ব্যক্তিবর্গ এই প্রতিষ্ঠান থেকেই শিক্ষা গ্রহণ করে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে সফল এবং ব্যক্তিজীবনে স্বার্থক হয়েছেন। কসবা উপজেলার ছাত্ররাজনীতির আতুরঘর হিসেবেও স্বীকৃত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।বহু জাঁদরেল রাজনীতিবিদ এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। আমার রাজনীতিতে বেড়ে ওঠা এই প্রিয় টি.আলী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস আঙ্গিনা থেকেই।

অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলতে হচ্ছে যতই দিন গত হচ্ছে ততই যেনো প্রাণের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি সুনাম হারিয়ে চলেছে। অর্জনের খাতা শূণ্য হতে হতে তলানিতে গিয়ে ঠেকে সকল ঐতিহ্য আজ যেনো বিলীন প্রায়। অথচ সুবিশাল ক্যাম্পাস, বিশাল মাঠ, স্বচ্ছ পানিতে পরিবেষ্টিত ক্যাম্পাসে যেনো প্রকৃতির নিবিড় ছোঁয়া প্রবাহমান। শিক্ষার্থীদের পাঠ গ্রহণ, খেলাধূলা, সাংস্কৃতিক চর্চা সবকিছুর জন্য একটি আদর্শ নয়নাভিরাম পরিবেশ এই কসবা টি.আলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ জুরে। এতো এতো কিছুর ভিড়ে তবুও যেনো কিছুই নেই। বহু কারনেই ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি আগের সুনাম হারিয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারন হলো অধিকাংশ শিক্ষক কসবার স্থায়ী বাসিন্দা যারা শিক্ষাদানের চেয়ে ব্যক্তিগত প্রভাব খাটানোতেই সন্তুষ্ট থাকছেন। স্থানীয় বেশিরভাগ শিক্ষকই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থেকে, তাদের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়ীক কর্মকান্ডে অধিকতর মনযোগী হয়েই যেনো তাদের মূল কক্ষপথ থেকেই সরে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা তাই এই প্রভাব খাটিয়ে জনে জনে গ্রুপিং সৃষ্টি করে পুরো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি গুমট পরিবেশ সৃষ্টি করে রেখেছেন যার প্রভাব পরছে শিক্ষার্থীদের ওপর। এমনকি প্রতিষ্ঠান প্রধান চাকরি শেষ হবার পরও অহেতু ২ বছরের এস্ট্রাকশন বহাল করে তবিয়তেই নিজের চেয়ারে বসে আছেন। যাহা কোন প্রয়োজন নেই।


যখন ছোট ছিলাম তখন বহু বড় ভাইদের মুখে শুনেছি টি.আলী কলেজে ভর্তি হবে আর এখন বড় হয়ে ছোট ভাইদের মুখে শুনে দূরের কলেজে পড়বে তবুও এখানে না।
একটা ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এভাবে খুড়িয়ে চলতে পারেনা। এভাবে চোখের সামনে প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যেতে পারেনা। এই প্রতিষ্ঠানের সাথে জমে মানুষের আবেগ, অনুভূতি আর ভালোবাসা। যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষাদান করেছে আজ সেই প্রিয় প্রতিষ্ঠানই ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহৃত হয়ে হতাশা ছড়াচ্ছে আর নিয়মিতই যেনো ফলাফল বিপর্যয় ঘটছে। বলতে দ্বিধা নেই একটা অন্ধকারের মধ্য দিয়েই আমাদের হৃদয়ে লালিত এই প্রতিষ্ঠান খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে।

এভাবেই যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলমান থাকে তবে নিকট ভবিষ্যতেই আমরা চূড়ান্ত ধ্বংস দেখবো। শিক্ষার শতভাগ পরিবেশ থাকার পরও যদি আমরা অন্ধকারে নিমজ্জিত হই তবে অবশ্যই হতাশার কারণ আছে।

আমরা এই অবস্থা থেকে মুক্তি চাই। প্রাণভরে চাই প্রাণের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাক। আবারো চাই প্রিয় প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরে আসুক, কলেজ মাঠে খেলাধূলা হোক, সাংস্কৃতিক চর্চা হোক। আর নয়তো শিক্ষা বঞ্চিত হয়ে বহু শিক্ষার্থীর আত্মার অভিশাপের ভার কিন্তু বইতে হবে।

ভালো থাকুক আমার ভালোবাসার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কসবা টি.আলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১