শিরোনাম

ভালো নেই গ্রামের মানুষ

এনজিও কিস্তি আর মহাজনের লাভ দিতে গিয়ে নি:স্ব বাঞ্ছারামপুরের খেটে খাওয়া মানুষ

বাঞ্ছারামপুর প্রতিনিধি : | সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮ | পড়া হয়েছে 407 বার

এনজিও কিস্তি আর মহাজনের লাভ দিতে গিয়ে নি:স্ব বাঞ্ছারামপুরের খেটে খাওয়া মানুষ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদীর কোলঘেঁষা উপজেলা বাঞ্ছারামপুর। উপজেলা সদরের দূর্গারামপুরে ধান ভাঙার কল ছিল মোস্তফা মিয়ার, ছিল আইসক্রীম কলও। তার এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিলীন হয়ে গেছে ব্যবসায়িক লোকসানে। ঋণের জালে বন্দি হয়ে এখন তিনি পরের জমিতে দিনমজুর এর কাজ করছেন। মোস্তফা বলেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালাতে সুদের কারবারি মহাজন আর ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান এনজিও থেকে দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলাম। আকষ্মিক ব্যবসায়িক লোকসানে সব হারালেও ঋণের কিস্তি থেকে মুক্তি মেলেনি। ‘আশা’ নামে বেসরকারি একটি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানকে প্রতি সপ্তাহে ১ হাজার ৩৫০ টাকা কিস্তি দিতে হয়। কিস্তি নিতে তারা ঘাড়ের ওপর বসে থাকায় বাধ্য হয়ে দিনমজুরের কাজে নেমেছি। কিন্তু তাতেও সংসার চালিয়ে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

‘বাজার সমিতি’ নামে একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান থেকে ৪০ হাজার টাকার ঋণ নিয়েছেন সাহিদা বেগম। এই নারী জানালেন, জমিতে সব্জী চাষ করে লোকসান হয়েছে ব্যাপক। বর্তমানে ভবঘুরের মতো আছেন। কিন্তু মহাজন পিছু ছাড়ছে না। ধার করে, নতুন ঋণ করে, মহাজনের টাকা শোধ করছেন।


সাহিদা বেগম, মোস্তফা মিয়ার মতো একই অবস্থা ওই এলাকায় ব্যবসায়িক লোকসানের শিকার অন্য ব্যবসায়ী ও কৃষকদেরও। এক সময় যারা বাজারের বড় ব্যবসায়ী ছিলেন, তারা এখন নিঃস্ব হয়ে পথে পথে ঘুরেন, ঘরবাড়ি আর নিজের ফসলের জমি হারিয়ে পরের জমিতে গতর খাটেন। এক সময়ের বিত্তবান এ মানুষগুলো বেঁচে থাকার জন্য অন্য এলাকায় গিয়ে দিনমজুরি করেন। লোকলজ্জায় এটা বলতেও চান না তারা।

গত ৪-৫ বছর ধরে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও ১ শত ২৮টি গ্রামে জলবায়ূ পরিবর্তনের কারণে শুষ্ক মৌসুমে খরা আর বর্ষায় পরিমিত পানির অভাবে কৃৃষি উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। ব্যবসায়ীদের বেচাকেনার অবস্থা বেশ নাজুক। এতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে স্থানীয় অর্থনীতিতেও।

এদিকে, ব্যাংকগুলো গত এক বছর ধরে কোন প্রকার সিসি লোন দেয়া থেকে বিরত রয়েছে অদৃশ্য কারনেণ। এ ব্যাপারে কোন ব্যাংক কর্মকর্তা মুখ খুলছেন না। বলছেন, উপর থেকে নিষেধ আছে। আগামী অর্থ বছরে ব্যবসায়িক লোন দেয়া যাবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সহজ শর্তে ঋণ, সুদ মওকুফ এবং সিসি লোন কর্মসূচির আওতায় তাদের পাশে ব্যাংকগুলোর দাঁড়ানোর কথা থাকলেও এসব সুযোগ মেলেনি এখনও।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম¥দ শরীফুল ইসলম বলেন, এই উপজেলায় আমি নতুন যোগদান করেছি। এনজিও এবং ব্যাংক ম্যানেজারদের নিয়ে এখনো বসা হয়নি। যখন বসবো, তখন ব্যবসায়ীদের স্বার্থরক্ষার বিষয়টি দেখার জন্য বলে দেবো।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০