শিরোনাম

এখন খোঁজও নেয় না সিআইডি: তনুর মা

বিশেষ প্রতিনিধি : | বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | পড়া হয়েছে 118 বার

এখন খোঁজও নেয় না সিআইডি: তনুর মা

বহুল আলোচিত তনু হত্যা কান্ড। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার ২৩ মাস পার হয়ে গেলো। আগামী ২০ মার্চ পূর্ণ হবে এই হত্যাকাণ্ডের দুই বছর। এতদিনেও তনুর খুনিরা শনাক্ত হয়নি, মামলারও উল্লেখযোগ্য কোনও অগ্রগতি নেই। খুনি চিহ্নিত না হওয়ায় ক্ষুব্ধ তনুর পরিবার ও কুমিল্লার বিশিষ্টজনেরা।

তনুর পরিবার সন্দেহভাজন আসামিদের গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়ে আসছেন। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, দফায় দফায় অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আস্তে আস্তে জিজ্ঞাসাবাদের পরিসর ছোট করে আনা হচ্ছে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই রহস্য উদঘাটন করে অপরাধীদের শনাক্ত করা হবে।


২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেনি তনু। পরে তার স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করে রাতে বাসার কাছেই সেনানিবাসের ভেতরে একটি জঙ্গলে তনুর মরদেহ পায় স্বজনরা। পরদিন তার বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। থানা পুলিশ ও ডিবি’র পর ২০১৬ সালের পয়লা এপ্রিল থেকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি।

এদিকে, তনুর দুই দফা ময়নাতদন্তের পরও কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ মৃত্যুর সুস্পষ্ট কারণ উল্লেখ করেনি। শেষ ভরসা ছিল ডিএনএ রিপোর্ট। গত বছরের মে মাসে সিআইডি তনুর জামা-কাপড় থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রানু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল। পরে সন্দেহ ভাজনদের ডিএনএ ম্যাচিং করার কথা থাকলেও তা করা হয়েছে কিনা- এ নিয়েও সিআইডি বিস্তারিত কিছু বলছে না। সর্বশেষ সন্দেহভাজন হিসেবে তিনজনকে ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত সিআইডির একটি দল ঢাকা সেনানিবাসে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদ করা ব্যক্তিরা তনুর মায়ের সন্দেহ করা আসামি বলেও সিআইডি জানায়। তবে তাদের নাম জানানো হয়নি।

সর্বশেষ ২০১৭ সালের ২২ নভেম্বর ঢাকা সিআইডি কার্যালয়ে বাবা ইয়ার হোসেন, মা আনোয়ারা বেগম, চাচাতো বোন লাইজু ও চাচাতো ভাই মিনহাজকে দিনভর পুরানো বিষয়গুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন ঢাকা সিআইডির কর্মকর্তারা।

গণজাগরণ মঞ্চ কুমিল্লার সংগঠক খায়রুল আনাম রায়হান বলেন, ‘তনু হত্যা মামলাটি দীর্ঘদিন সিআইডিতে পড়ে আছে। মামলার কোনও অগ্রগতি নেই। সিআইডির গা-ছাড়া ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।’

তনুর মা আনোয়ারা বেগম জানান, ‘সিআইডি এখন আমাদের খোঁজও নেয় না। সার্জেন্ট জাহিদ ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকারী কে জানা যাবে। কারণ সার্জেন্ট জাহিদের বাসায় টিউশনি করতে যাওয়ার পর জঙ্গলে তনুর মরদেহ পাওয়া যায়। সিআইডি একে ওকে জিজ্ঞাসার নামে শুধু শুধু সময় ক্ষেপণ করছে।’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডি কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। দুই মাস আগেও তনুর মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের পরে মামলার স্বার্থে পুনরায় আরো অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আস্তে আস্তে জিজ্ঞাসাবাদের পরিসর ছোট করে আনা হচ্ছে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে খুব অল্প সময়ের মধ্যে রহস্য উদঘাটন করে অপরাধীদের শনাক্ত করা হবে।’

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১