শিরোনাম

এক ব্যাগের দুই ক্রেতা, অতঃপর…

বিশেষ প্রতিনিধি : | মঙ্গলবার, ০৭ নভেম্বর ২০১৭ | পড়া হয়েছে 110 বার

এক ব্যাগের দুই ক্রেতা, অতঃপর…

মেলায় এসে দক্ষিণ আফ্রিকার এক নারী সাংসদ একটি চামড়ার তৈরি ব্যাগ পছন্দ করলেন। তবে দামের চেয়ে কিছু অর্থ কম রয়েছে তাঁর কাছে। তিনি বিক্রয়কর্মীকে বললেন, ব্যাগটি যেন তাঁর জন্য রেখে দেওয়া হয়, কিছুক্ষণ পরে এসে নেবেন।

ওই নারী চলে যাওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকার আরেক নারী সাংসদ লিডিয়া জনসন এসে ব্যাগটি হাতে নিলেন। এই নারী দেশটির একটি প্রদেশের আইনসভার স্পিকার। তিনিও ব্যাগটি নিতে চান। নিরুপায় বিক্রয়কর্মী জানালেন, তাঁদের কাছে একটিই ব্যাগ আছে। আর তা অন্য একজন নেবেন বলে জানিয়ে গেছেন। এটি দেওয়া যাবে না।


কিন্তু লিডিয়া নাছোড়বান্দা। এক রকম জোর করেই তিনি ব্যাগটি নিয়ে গেলেন। তিনি যাওয়ার দুই মিনিট পরেই আগের সেই নারী এসে হাজির। বিক্রয়কর্মী অসহায়ের মতো তাঁকে বললেন, সেটি বিক্রি হয়ে গেছে। এতে খুব রেগে গেলেন ওই নারী। রীতিমতো চেঁচামেচি করে জটলা পাকিয়ে ফেললেন। কেন তাঁকে কথা দিয়ে তা রাখা হলো না—এমন প্রশ্ন তাঁর। শেষ পর্যন্ত অন্য একটি ব্যাগ ৮০ শতাংশ ছাড়ে বিক্রির প্রস্তাব দিলে তিনি শান্ত হন।

আজ মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে গুজ লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের স্টলে দেখা গেল এমন একটি দৃশ্য। সেখানে চলছে কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) সম্মেলন। এ উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে বাংলাদেশি পণ্যের মেলা। মোট ২২টি স্টলে বসেছে পাট ও চামড়ার পণ্য, শাড়ি, হস্ত ও কুটির শিল্প পণ্যের পসরা। বিক্রিও হচ্ছে দেদার। গত রোববার শুরু হওয়া এই মেলার শেষ দিন আজ।

জানতে চাইলে সিপিএ নির্বাহী কমিটির চেয়ারপারসন ও জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘সম্মেলনে যাঁরা আসেন, তাঁরা সাধারণত ব্যস্ততার কারণে বাইরে গিয়ে কেনাকাটার সুযোগ পান না। সে কারণে ছোট পরিসের রপ্তানিযোগ্য পণ্যের এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

শিরীন শারমিন আরো বলেন, বাংলাদেশি পণ্যকে বিশ্বের কাছে পরিচিত করাই এই মেলার অন্যতম উদ্দেশ্য। সম্মেলনে আসা বিদেশি প্রতিনিধিদের এসব পণ্য কেনার মাধ্যমে বিদেশের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা তৈরি হবে।

মেলা প্যাভিলিয়নে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’। এতে স্থান পেয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুর্লভ সব আলোকচিত্র।

মেলায় অংশ নিয়েছে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির সঙ্গে সম্পৃক্ত এসএমই ফাউন্ডেশন। সংস্থাটি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের তৈরি বিভিন্ন পণ্য একত্র করে মেলায় প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। এসএমই ফাউন্ডেশনের সহকারী ব্যবস্থাপক আবু মনজুর সাইফ বলেন, ‘এসএমই ফাউন্ডেশন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের নিয়ে কাজ করে। তাদের জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ ও স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা উদ্যোক্তাদের তৈরি করা পণ্য মেলায় নিয়ে আসা হয়েছে। এসএমই ফাউন্ডেশন বিষয়টির সমন্বয় করছে।’

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য ইলিয়েনর স্মিথ তো মেলায় ঢুকে বেশ উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন। স্টলে ঢুকে সিল্কের একটি শাড়ি জড়িয়ে ঝটপট অনেকগুলো ছবি তুললেন তিনি। পরে শাড়িটি কিনেই মেলাপ্রাঙ্গণ ছাড়েন তিনি।

মেলা সম্পর্কে জানতে চাইলে গুজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিতা বসু জানান, বাংলাদেশি পণ্যকে বিশ্বের কাছে পরিচিত করে তুলতে মেলায় অংশ নিয়েছে তাঁর প্রতিষ্ঠান। তিনি বলেন, তাঁদের চামড়াজাত পণ্যের সামান্য কিছু উপকরণ বাদে পুরোটাই দেশীয়। প্রতিষ্ঠান থেকে যে পরিমাণ পণ্য আনা হয়েছে তার প্রায় ৮০ ভাগই বিক্রি হয়ে গেছে। পণ্যের মজুতের তুলনায় ক্রেতা অনেক বেশি।

মেলায় মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জয়িতা ফাউন্ডেশন, জয়িতা মহিলা পরিষদ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০