শিরোনাম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

একাধিক প্রার্থী নিয়ে বেকায়দায় বিএনপি : ফুরফুরে আওয়ামীলীগ

| শুক্রবার, ৩০ নভেম্বর ২০১৮ | পড়া হয়েছে 137 বার

একাধিক প্রার্থী নিয়ে বেকায়দায় বিএনপি : ফুরফুরে আওয়ামীলীগ

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি আসনের ৫টিতে একাধিক প্রার্থী থাকায় বেকায়দাতে আছে বিএনপি। অন্যদিকে প্রার্থী বাছাইয়ে মুন্সিয়ানা দেখিয়ে বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছে আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে একটি আসনে জাতীয় পার্টির বিরোধ চরমে।

এদিকে জেলার ছয়টি আসনে ৮৬ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে সবচেয়ে কম আটজন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে সবচেয়ে বেশি ২৭ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনে ১৬ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে ১০ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে ১৫ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে ১০ জন মনোনয়পত্র জমা দিয়েছেন।


এসব আসনে বিএনপি’র দুই থেকে নয়জন পর্যন্ত প্রার্থী রয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এছাড়া ইসলামী ঐক্যজোট, ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জমিয়েতে ওলামায়ে ইসলাম, জাতীয় পার্টি (জেপি), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, বিকল্পধারা, জাকের পার্টি, গণফোরাম, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট এর প্রার্থীরা মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১-(নাসিরনগর) আসনঃ- এই আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ৮জন প্রার্থী। এরা হলেন, আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী বি.এম. ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ এ.কে একরামুজ্জামান, বিএনএফ’র মোঃ মঞ্জু মিয়া, ইসলামিক ফ্রন্টের অ্যাডভোকেট ইসলাম উদ্দিন, ইসলামী ঐক্যজোটের আবুল কাশেম মোহাম্মদ আশরাফুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হোসাইন আহমদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) মনোনীত মোঃ ফায়েজুল হক এবং নির্দলীয় সৈয়দ নজরুল ইসলাম।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২-(সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনঃ- এই আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ২৭জন প্রার্থী। এই আসনে আওয়ামীলীগ প্রার্থীরা মনোনয়ন দাখিল করেন নি। আসনটি মহাজোটের শরীক দল জাতীয় পার্টিকে দেয়া হয়েছে। এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন দাখিল করেছেন ৯জন। মনোনয়নপত্র দাখিলকারীরা হলেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া, ব্যারিষ্টার রুমিন ফারহানা, মোঃ আনোয়ার হোসেন, আবু আসিফ আহমেদ, শেখ মোহাম্মদ শামীম, তরুন দে, আক্তার হোসেন, মোবারক হোসেন এবং আহসান উদ্দিন খান, জাকের পার্টির জহিরুল ইসলাম জুয়েল, মহাজোটের (জাতীয় পার্টি) অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, ইসলামী ফ্রন্টের মহিউদ্দিন মোল্লা, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ মোঃ জাকির হোসেন, নির্দলীয় প্রার্থী মোঃ মুখলেছুর রহমান, বর্তমান সাংসদ অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা, জাতীয় পার্টি (জেপি) জামিলুল হক বকুল, জমিয়তে ওলামার মাওলানা জুনাঈদ আল হাবীব, কমিউনিষ্ট পার্টির মোঃ ঈসা খান, গণফোরোমের শাহ মফিজ, নির্দলীয় আওয়ামীলীগ নেতা মঈন উদ্দিন মঈন, হাজী, মোঃ ছফি উল্লাহ মিয়া, অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু, মোঃ আনিছুর রহমান, অ্যাডভোকেট সৈয়দ তানবির হোসেন, যুবলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আশরাফ উদ্দিন, ও জেএসডির অ্যাডভোকেট তৈমুর রেজা শাহজাদ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩-(সদর-বিজয়নগর) আসন :- এই আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ১৬জন প্রার্থী। এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন ২জন। মনোনয়নপত্র দাখিলকারীরা হলেন আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খালেদ হোসেন মাহবুব ও ডঃ তৌফিকুল ইসলাম, জাতীয় পার্টি (এরশাদ) আব্দুল্লাহ আল-হেলাল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সৈয়দ আনোয়ার আহমেদ লিটন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, সিপিবিরি শাহরিয়ার মোঃ ফিরোজ, জমিয়েতে ওলামার জুনায়েদ আল হাবীব, বিএনএফ’র সৈয়দ মাহমুদুল আক্কাস, গন ফোরামের তারিকুর রউফ, জাকের পার্টির সেলিম কবির, নির্দলীয় বশির উল্লাহ জরু, ওমর ইউসুফ খান, মোঃ মাঈনুদ্দিন, মোঃ আবু হানিফ ও জামাল রানা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪-(কসবা-আখাউড়া) আসন :- এই আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ১০জন প্রার্থী এর মধ্যে বিএনপির মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ৪জন। মনোনয়নপত্র দাখিলকারীরা প্রার্থীরা হলেন আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মুশফিকুর রহমান, নাছির উদ্দিন হাজারী, মোঃ মুসলিম উদ্দিন ও আলহাজ্ব সেলিম মাস্টার, জাতীয় পার্টি (এরশাদ) তারেক এ আদেল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি মোঃ জসিম উদ্দিন এবং এনপিপির দোলোয়ার হোসেন, নির্দলীয় ফেরদৌস আক্তার ও আহমেদ শাহ মোরশেদ শাহীন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫-(নবীনগর) আসনঃ- এই আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ১৫জন প্রার্থী। এর মধ্যে বিএনপির মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ৩জন প্রার্থী। মনোনয়নপত্র দাখিলকারীরা হলেন, আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী এবাদুল করিম বুলবুল, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তকদীর হোসেন মোহাম্মদ জসিম, কাজী নাজমুল হোসেন তাপস ও সালাহউদ্দিন ভূইয়া শিশির, জাসদের শাহ জিকরুল আহমেদ খোকন, জাতীয় পার্টি (এরশাদ) মনোনীত কাজী মামুনুর রশিদ, সিপিবির মোঃ শাহীন খান, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা মেহেদী হাসান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ওসমান গনি রাসেল, বাংলাদেশ মুসলিমলীগের আশরাফুল আলম ও নির্দলীয় প্রার্থী মোঃ সাঈদুল হক সাঈদ ও একেএম মমিনুল হক সাঈদ, নজরুল ইসলাম ভূইয়া, জাকের পার্টির মোঃ রশিদ উল্লাহ ও বিকল্পধারার মোঃ তানভীর মনিরুল ইসলাম।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬-(নবীনগর) আসনঃ- এই আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ১০জন। এর মধ্যে বিএনপির মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ৪জন প্রার্থী। মনোনয়নপত্র দাখিলকারীরা হলেন, আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী ক্যাপ্টেন (অবঃ) এ.বি তাজুল ইসলাম, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবদুল খালেক, মেহেদী হাসান, অ্যাডভোকেট জিয়াউদ্দিন ও রফিকুল ইসলাম সিকদার, জাতীয় পার্টি (এরশাদ) মনোনীত জেসমিন নূর প্রিয়াংকা, ঐক্যফ্রন্টের (জেএসডি) কে.এম জাবির, সিপিবির অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোঃ জামাল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের, রেজুয়ান ইসলাম খান ও নির্দলীয় প্রার্থী মোঃ কবির হোসেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছয়টি আসনের মধ্যে ৫টি আসনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। যে কারণে অনেকটাই নির্ভার আওয়ামী লীগ। পাঁচটি আসনেই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা একট্টা হয়ে কাজে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এদিকে মহাজোটগত কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে মহাজোটের প্রার্থী হবেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের যুব বিষয়ক উপদেষ্টা রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া টিপু। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য হলেন, জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান জিয়াউল হক মৃধা। ওই দুইজন সম্পর্কে শশুর-জামাই। শশুরের বদলে জামাই মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে সেখানে তোলপাড় চলছে। জিয়াউল হক মৃধাকে মনোনয়ন দেয়ার দাবিতে সড়ক অবরোধও করা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসন থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়া সদর উপজেলার কোড্ডা গ্রামের রেজাউল ইসলামকে বহিরাগত প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করে তাকে মেনে নেয়া হবে না বলে ঘোষণা দেয়া হয়। এ নিয়ে পারিবারিকভাবেও চলছে অশান্তি।
আসনটিতে আওয়ামী লীগের ছয় মনোনয়ন প্রত্যাশী স¦তন্ত্র হিসেবে ওই আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত মহাজোটের সিদ্ধান্তের সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা একমত হবে বলে আশা করছে জেলা আওয়ামী লীগ।

এদিকে প্রতিটি আসনেই বেকায়দায় আছে বিএনপি। শুরুর দিকে কোনো কোনো আসনে দুই-তিনজন করে প্রার্থী দেয়া হলে শেষ পর্যন্ত একটি আসনে নয়জন প্রার্থীকেও মনোনয়ন দেয়া হয়। এ অবস্থায় বিভ্রান্তিতে পড়েন দলের নেতা-কর্মীরা। শেষ পর্যন্ত কে পাচ্ছেন মনোনয়ন সেটা নিশ্চিত হতে পারছেন না বলে মাঠে নামতে চাইছেন না সাধারন নেতা-কর্মীরা। যদিও তারা এ বিষয়ে এখনই মুখ খুলতে চাইছেন না।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১