শিরোনাম

একজন ধাক্কা খাওয়া মানুষের গল্প

শামীম উন বাছির | সোমবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৭ | পড়া হয়েছে 1061 বার

একজন ধাক্কা খাওয়া মানুষের গল্প

নিজ মেধা-যোগ্যতা, প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা, সততা-নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রমে প্রতিষ্ঠিত সফল কলম যোদ্ধা মোঃ বাহারুল ইসলাম মোল্লা। মানুষের কাছে তিনি বাহার মোল্লা হিসেবেই পরিচিত। তিনি সরকারি কর্মকর্তা মরহুম মোঃ নজরুল ইসলামের ছেলে। পৈতৃক বাড়ি সরাইল উপজেলার ভাটি এলাকা বলে খ্যাত পানিশ্বরে হলেও বড় হয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের আলো-বাতাসে। পড়াশুনা করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। দাদা হাজী আবদুল কাদির ছিলেন এলাকার একজন নামকরা মানুষ।

সদা হাস্যোজ্জ্বল মোঃ বাহারুল ইসলাম মোল্লা একজন প্রগতিশীল লোক। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ একজন মানুষ। যার কাছে যে কেউ বসলে উঠতে চায় না, ঘন্টার পর ঘন্টা যেন মূহুর্তেই কেটে যায়। রসিক বাহার মোল্লার কথা বার্তা শুনে অনেকেই মুগ্ধ হন। তাঁর রয়েছে যে কোন মানুষকে খুব সহজেই আপন করে নেওয়ার চুম্বকময় দক্ষতা। তাঁর কথা বার্তায় দুঃশ্চিন্তাগ্রস্থ্য ও চরম হতাশায় থাকা মানুষরাও সাময়িক সময়ের জন্য ভুলে যায় তার দুঃখ-কষ্টের কথা। উপস্থিত সকলকে সারাক্ষন মাতিয়ে রাখেন হাসি-আনন্দে। তিনি একজন নবীন শালিশকারকও। মানুষকে অসম্ভব ভালোবাসেন তিনি। কারো কোন সাহায্য বা উপকার করতে পারলে তিনি তৃপ্ত হন। তার চিন্তা চেতনা সমাজ ও মানুষের কল্যাণেই।


নির্লোভ এই কলম সৈনিক সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে অন্যায়ের প্রতিবাদ ও উন্নয়ন সাংবাদিকতার মাধ্যমে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ সর্বস্তরের মানুষের কাছে ইতিমধ্যেই নিজেকে গ্রহণযোগ্য করতে পেরেছেন। দীর্ঘ সংগ্রাম আর চড়াই উৎরায় পেরিয়ে আজকে তার এই অবস্থান। নিজ পেশার মানুষসহ যেকোন মানুষের সমস্যায় এগিয়ে যান প্রিয় এই মানুষটি। তার সাধ্যের সর্বোচ্চ চেষ্টার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে দিতে চেষ্টা করেন। যার কারণে সংবাদ কর্মীদের কাছে তিনি কাছের মানুষ, আপন মানুষে পরিণত হয়েছেন।

কলম সৈনিক শ্রদ্ধেয় এই মানুষটি সাংবাদিক নেতা হিসেবে নেতৃত্ব দেওয়া ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

জীবনে চলার পথে দীর্ঘ সময় বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি তার নিজস্ব ফেসবুক আইডিতে মাঝে মধ্যে কিছু গল্প লিখেন। যার একটি সকল পাঠকের জন্য হুবহু নিচে দেওয়া হলোঃ-

ধাক্কা খেয়েই মহান আল্লাহতায়ালার কৃপায় এখনো বেঁচে আছি। কখনো কখনো ধাক্কা খেয়ে পেছনে গেছি, কিন্তু ছিটকে যাইনি। ধাক্কা খেয়ে আবার এগিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করেছি। এখনো অনেকে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করে। কেউ ধাক্কা দেয়ার সময় বুঝি, কিন্তু তাকে কিছু বুঝতে দেইনা। ধাক্কা যে খায়, সে-ই- শুধু টের পায়, সেই শুধু বুঝে।

ধাক্কা যে মানুষকে শুধু পেছনেই ফেলে, তা কিন্তু নয়। অনেক সময় ধাক্কা খেয়ে মানুষ এগিয়েও যায়। ধাক্কা খেয়ে মানুষ নিজেকে নিয়ে ভাবে। ভুল শুধরে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

সমাজে অনেক মানুষ আছেন, যারা মানুষকে অহেতুক ধাক্কা দিয়ে মজা পান। আবার অনেক মানুষ আছেন, যারা ধাক্কা খাওয়া মানুষকে টেনে তুলতে সাহায্য করেন।

তবে আমি দেখিছি, যারা অহেতুক মানুষকে নিয়ে ধাক্কা-ধাক্কি করে তারা ক্ষনিকের জন্য মজা পেলেও এক সময় নিজেরাই খাদের কিনারে চলে যান।

দীর্ঘ চলার পথে আমিও বহুবার ধাক্কা খেয়েছি। ধাক্কা খেয়ে হৃদয়ে রক্তক্ষরন হয়েছে, তবু কাউকে বুঝতে দেইনি। ঘুরে দাঁড়াতে যদিও কষ্ট হয়েছে, তবু হাসি মুখে মেনে নিয়েছি। ধাক্কা খেয়ে কখনো বিচলিত হইনি, আশাহত হইনি। বুকে সাহস নিয়ে নতুন উদ্যমে পুনরায় শুরু করেছি। ধাক্কা মানুষকে শুধু পেছনে ফেলে না, অনেক সময় এগিয়ে যেতেও সাহায্য করে। নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে অনুপ্রেরনা যোগায়। আমি ধাক্কা খেতে খেতেই এ পর্যন্ত কোন রকমে টিকে আছি। তবে জানিনা কতদিন পারব। এখনো আমাকে অনেকেই ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। ধাক্কা খেয়ে মনোবল ভেঙ্গে যায়, স্বাভাবিক জীবনের ছন্দ হারিয়ে ফেলি।

আব্বার স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া শেষ করে একদিন আমি সরকারি চাকুরী করব, সমাজে প্রতিষ্ঠিত হব। আমার অন্যান্য ভাই- বোনেরা আব্বার স্বপ্ন পূরণ করতে পারলেও আমি পারিনি। আমি ব্যর্থ হয়েছি। আমি আব্বার স্বপ্ন পূরন করতে পারিনি।

খ্রীষ্টিয়ান মিশন স্কুল থেকে প্রাইমারী পাশ করেছি। তারপর লেখাপড়া করেছি অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে। ১৯৮৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে ভর্তি হয়ে ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ি। জেলা কমিটিতে সম্মানজনক পদও পাই। দাপটের সাথে করেছি ছাত্র রাজনীতি। ১৯৯০ সালে বিএসএস (গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রী) পাশ করার পর ছাত্র রাজনীতি ছেড়ে যুব রাজনীতিতে যোগ দেই। সেখানেও জেলা কমিটিতে সম্মানজনক পদ লাভ করি।

রাজনীতি করতে গিয়ে এক সময় মূল দলের প্রভাবশালী একজন নেতার সাথে বিভিন্ন বিষয়ে মত বিরোধ হওয়ায় শ্রদ্ধেয় নেতার চরম বিরাগভাজন হই। পরে ওই নেতার সজোরে ধাক্কায় রাজনীতির মাঠ থেকে আউট হয়ে যাই। রাজনৈতিকভাবে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারিনি। নেতার ভয়ে আমার বন্ধুরা কেউ সাহায্য করেনি। এক পর্যায়ে ছেড়ে দেই রাজনীতি।

তারপর জীবন-জীবিকার তাগিদে শুরু করি ঠিকাদারী ব্যবসা। প্রথম কয়েক বছর ব্যবসায় সফলতা আসলেও একটি বড় কাজে (প্রকল্প) সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে “খুশী” করতে না পারার কারনে ওই কাজে বিরাট অংকের টাকা লোকসান দেই। প্রকৌশলীর ধাক্কা খেয়ে ছেড়ে দেই ঠিকাদারী ব্যবসা। আমার নামে থাকা “মেসার্স এন.ইসলাম কন্সট্রাকশন” নামক ঠিকাদারী ফার্মের লাইসেন্সটা আর নবায়ন করিনি।

ঠিকাদারী ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে মামার সহায়তায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মাদ্রাসা রোডের জমিলা ম্যানশনের দোতলায় “ক্যাপিটেল কম্পিউটার্স” নামক একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সেন্টার গড়ে তুলি। সেখানে কয়েক বছর ব্যবসা করার পর নেশা চেপে বসে সাংবাদিকতার। আমার ঘরনীসহ পরিবারের লোকজনও এতে সায় দেয়।

২০০১ সালের প্রথম দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংবাদপত্র জগতের জীবন্ত কিংবদন্তি আলহাজ্ব নূরুল হোসেন সম্পাদিত “দৈনিক ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাব-এডিটর হিসেবে যোগদান করি।

সেখানে বছর দু’য়েক কাজ করার পর জাতীয় পত্রিকায় কাজ করার সুযোগ খুঁজতে থাকি। এখানেও ধাক্কা!

পরে অনেক দৌড়-ঝাপ করে “দৈনিক খবর” পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করি। দৈনিক খবরে বছর দু’য়েক কাজ করার পর যোগ দেই দেশের পাঠকপ্রিয় পত্রিকা “দৈনিক যায়যায়দিন” পত্রিকায়। বর্তমানে আমি দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকায় জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। পাশাপাশি দৈনিক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করছি। এছাড়াও আমি বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইউনিটের কার্যকরী কমিটির সদস্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা শিক্ষা কমিটির সদস্য, দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। তাছাড়া আমি জেলা পাবলিক লাইব্রেরী, জেলা শিল্পকলা একাডেমী, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইউনিট ও জেলা সদর হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির আজীবন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন সামাজিক- সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত আছি।

সাংবাদিকতা পেশায় এসে অদৃশ্য কারনে যেমন অনেকের ধাক্কা খেয়েছি, আবার অনেকে এগিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করেছেন।

জীবনে যাদের কাছে ধাক্কা খেয়েছি, আমি তাদের সকলের জন্য দোয়া করি, তাদের সু-স্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি। তারা সমাজে প্রতিষ্ঠিত ও ক্ষমতাবান হউক সেই দোয়া করি।

যে সকল বন্ধু ও কাছের মানুষ আমাকে এগিয়ে যেতে পদে পদে সাহায্য-সহযোগীতা করেছেন, এখনো করছেন, তাদের প্রতি রইল আমার কৃতজ্ঞতা ও হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা।

যদি জীবনে কোনদিন সুযোগ আসে, সুযোগ পাই, তাহলে ওইসব বন্ধু ও কাছের মানুষদের সাহায্য-সহযোগীতার প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করবো। যদি কোনদিন পারি তাহলে নিজেকে স্বার্থক মনে করবো। ঋনের বোঝাটাও কিছুটা হালকা হবে বলে মনে করি।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১