শিরোনাম

সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ওপর কালো থাবা

উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতসাধক উস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ স্মৃতি জাদুঘর শেষ হয়ে গেছে

ষ্টাফ রিপোর্টার | বৃহস্পতিবার, ১৪ জানুয়ারি ২০১৬ | পড়া হয়েছে 766 বার

উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতসাধক উস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ স্মৃতি জাদুঘর শেষ হয়ে গেছে

সুরের মূর্ছনায় জেগে উঠতো যে প্রতিষ্ঠান,পুড়িয়ে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর গর্বের প্রতিষ্ঠান ‘সুর সম্রাট দি আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গন’। শেষ হয়ে গেছে উস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ স্মৃতি জাদুঘর। জাদুঘরটি সব জিনিসপত্র ধ্বংস করে।
সহিংসতায় বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের আগুন দেওয়া হয় উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতসাধক উস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর নিজ হাতে গড়া এই প্রতিষ্ঠানেও। গত বুধবার বিকেলে সংগীতাঙ্গনে গিয়ে এমননই চিত্র দেখা গেছে।
জাদুঘরের সবকিছুই শেষ হয়ে গেছে। উস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর ব্যবহৃত জিনিসপত্র পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। তার ব্যবহৃত সরোদ, সেতার, তানপুঞ্জা, এসটাল, বেঞ্চসহ অন্যান্য জিনিসপত্রের কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। ভেঙে ফেলা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির দরজা জানালাও। তাছাড়া তার ব্যবহৃত নামাজের বিছানা, বিভিন্ন দ্রবাদি এবং পোট্রেট ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।
তিতাস সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদের সম্পাদক কবি আব্দুল বাছির দুলাল বলেন, এই অঞ্চলের সংস্কৃতিচর্চার অন্যতম এই প্রতিষ্ঠানটিতে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম লেগেই থাকতো। এই হামলার মাধ্যমে মুক্তচিন্তা এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।
জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আহ্বায়ক সাংবাদিক আব্দুর নূর বলেন, এই হামলা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ওপর কালো থাবা।আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।
আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গনের যুগ্ম সম্পাদক সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম বলেন, শিল্প-সংস্কৃতিচর্চার বাতিঘরে দানবীয় হামলা হয়েছে। আমরা হয়ত দালানটি সংস্কার করতে পারবো, কিন্তু উস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর অমূল্য স্মারকগুলো আর কখনই ফিরে পাব না।
এই বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ সম্পাদক কবি আব্দুল মান্নান সরকার ডুকরে কেঁদে ওঠেন। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, মঙ্গলবার মাদ্রাসার ছাত্ররা দুবার প্রতিষ্ঠানটিতে হামলা চালায়। সকালের দিকে প্রতিষ্ঠানের গেট এবং দরজা জানালা ভাঙচুর করলেও বড় ক্ষতি করতে পারেনি। দুপুরে দিকে সংঘবদ্ধ হয়ে আবারও হামলা চালায় তারা। আগুন দিয়ে সবকিছু জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা তিনি এ ঘটনায় দোষীদের গ্রেপ্তারের আওতায় আনার দাবি জানান। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি যাতে আবারো ঘুরে দাঁড়াতে পারে সে, ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে সরকারের কাছে আবেদন জানান।
তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত সোমবার মাদ্রাসাছাত্র-পুলিশ-ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষে অন্তত অর্ধশাতাধিক আহত হয়। পরের দিন এ ঘটনায় শহরের জামিয়া ইউনূসিয়া মাদরাসার এক ছাত্র নিহত হয়। এ ঘটনার পর হাজার হাজার মাদ্রসাছাত্র শহরে ব্যাপক তা-ব চালায়। তাদের আক্রমণ থেকে বাদ যায়নি জেলা আওয়ামী লীগ, মুক্তিযুদ্ধা সংসদ, শিল্পকলা একাডেমি, তিতাস ললিতকলা একাডেমি, সাহিত্য একাডেমি, প্রশিকা অফিস, তিতাস সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ, ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত পাঠাগার, ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্কুল, হাসপাতাল ও বাসা-বাড়ি।


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০