শিরোনাম

আশুগঞ্জের তিন্নি আনোয়ার মহিলা কলেজ

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে শঙ্কা প্রকাশ করার পর শিক্ষককে অব্যাহতি দিলেন সভাপতি

আশুগঞ্জ প্রতিনিধি | বুধবার, ০৬ নভেম্বর ২০১৯ | পড়া হয়েছে 255 বার

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে শঙ্কা প্রকাশ করার পর শিক্ষককে অব্যাহতি দিলেন সভাপতি

নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার তিন্নি আনোয়ার মহিলা কলেজের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের প্রভাষক বিলকিস বেগমকে অব্যাহতি দিয়েছেন পরিচালনা কমিটির সভাপতি।
চাকুরিচ্যুত করার শঙ্কা প্রকাশ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) লিখিতভাবে জানানোর ১দিন পরই ওই শিক্ষককে অব্যাহতি দেয়া হয়।
কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আ. ফ. ম আনোয়ারুল হক অব্যাহতি পত্রে বিলকিস বেগমের যোগাযোগের দক্ষতা ও জ্ঞানের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। তবে অন্যকোনো গুরুতর অভিযোগের কথা এতে উল্লেখ নেই। কলেজ পরিচালনা কমিটির সভায় এ সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি-না সেটাও ওই অব্যাহতিপত্রে উল্লেখ নেই।

একটি সূত্র জানায়, বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ বিধি ১১ ধারা-উপধারায় বলা আছে, শিক্ষককে বরখাস্ত, অপসারন, অব্যাহতি করতে, অভিযুক্ত শিক্ষককে সাত দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য নোটিশ দিয়ে-আনীত অভিযোগে কেন তাকে (অভিযুক্ত শিক্ষক) নোটিশে বর্ণিত সাজা দেয়া হবেনা বা তিনি ব্যক্তিগত ভাবে শুনানী দিতে চান কিনা তাও তাকে জানাতে হয়।


অভিযুক্ত শিক্ষকের জবাব এবং ব্যক্তিগত শুনানীতে আগ্রহ আছে এটা জানার পর কর্তৃপক্ষ (নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ) সভাপতিসহ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট বোর্ডের আপীল ও সালিশি কমিটি কর্তৃক শাস্তির প্রস্তাব পরীক্ষা ও বোর্ড কর্তৃক অনুমোদন ছাড়া কোন শিক্ষকের উপর বরখাস্ত, অপসারন, অব্যহতির শাস্তি আরোপ করা যাবেনা’’

‘অযাচিত’ সিদ্ধান্তের শিকার বিলকিস বেগম সোমবার রাতে সাংবাদিকদের জানান, তিনি ছয় বছরের বেশি সময়ে ধরে কলেজটিতে আইসিটি শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা করে আসছেন। তিনি নিয়োগ পাওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে অন্যান্য বিষয়ে কিছু শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ না হতে পারলেও আইসিটিতে এমন হয় নি। তিনি বলেন, কলেজটি এম.পিও ভুক্তি হওয়ার পর পর তাকে অব্যাহতি দেয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলক। চাকরির সরকারি বয়সসীমা পার হয়ে যাওয়ায় এখন আর তিনি কোথাও আবেদনও করতে পারবেন না।

তিনি বলেন, অব্যাহতি দেয়া হতে পারে এমন শঙ্কা থেকে ইউএনও’র কাছে গত ৩১ অক্টোবর আবেদন করেছিলাম। অব্যাহতির পর প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন করেছি।
তিনি জানান, ২০১৩ সালের ১ জুলাই থেকে আমি কলেজে আইসিটি বিভাগের প্রভাষক পদে কর্মরত থাকলেও সম্প্রতি হাজিরা খাতায় আমাকে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে দেখানো হয়। আমার দক্ষতা না থাকলে কলেজের আইসিটি শিক্ষার্থীদের ফলাফলে নিশ্চয় প্রভাব পড়তো। এ কলেজ থেকে আইসিটিতে কেউ ফেল করে নি।

এ ব্যাপারে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ডাঃ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ নজরুল জানান, ওই শিক্ষিকাকে অব্যাহতি প্রদানের বিষয়টি সম্পূর্ণ বে-আইনি। ১ অক্টোবর কমিটির সর্বশেষ সভায় এ নিয়ে আলোচনা হয়। আমিসহ দু’জন ওই শিক্ষককে অব্যাহতি প্রদানের আলোচনা হলে প্রতিবাদ করি। তখন সভাপতি জানায় তাঁর একক সিদ্ধান্তে এ অব্যাহতি দেয়া হবে। কিন্তু এটা নিয়মমাফিক হবে না বলেও আমি অবহিত করি।

এ ব্যাপারে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাছপিয়া জান্নাত চৌধুরী জানান, কলেজটি কোন সরকারি সহযোগীতা ছাড়াই প্রতিষ্ঠাতার একক অর্থায়নে চলছে। প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিলকিস বেগমকে তিন মাসের বেতন দিয়ে তাকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি আ. ফ. ম আনোয়ারুল হক সাংবাদিকদের জানান, ‘ওই শিক্ষককে দিয়ে আমাদের আইসিটি বিভাগ ভালোভাবে পরিচালনা করা যাচ্ছে না। দক্ষতা অর্জনের জন্য ওনাকে বারবার তাগাদা দেয়া হলেও তিনি সেটা পারেন নি। যে কারণে ওনাকে অব্যাহতি দেয়ার পাশাপাশি নতুন আরেকজনকে অস্থায়ীভাবে নেয়া হয়েছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পরিচালনা কমিটির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। তবে অব্যাহতির চিঠিতে এটা লেখা নেই। আগেও কোনো ধরণের কারণ দর্শানোর নোটিশ না দেয়ার বিষয়টি আমাদের অজ্ঞতা। বিষয়টি নিয়ে কি করা যায় তা ভাবছি।

এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাজিমুল হায়দার জানান, বিলকিস বেগমের অভিযোগের কপি আমরা পেয়েছি। কলেজের প্রভাষক ও অধ্যক্ষকে নোটিশ করা হয়েছে। তাদের সকল কাগজপত্র নিয়ে আসার জন্য বলা হয়েছে। সবকিছু দেখে পরবর্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১