শিরোনাম

উপজেলা অখণ্ডতার বিধান রেখে হচ্ছে সীমানা পুনর্নির্ধারণ আইন

বিশেষ প্রতিনিধি : | সোমবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৭ | পড়া হয়েছে 85 বার

উপজেলা অখণ্ডতার বিধান রেখে হচ্ছে সীমানা পুনর্নির্ধারণ আইন

উপজেলাকে একক ইউনিট ধরে এবং অখণ্ডতার বিধান রেখে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণে নতুন খসড়া তৈরি করা হয়েছে। আইনের খসড়ায় সিটি করপোরেশন এলাকায় জনসংখ্যা ও ভোটার বাড়লেও আসন যাতে না বাড়ে, সে লক্ষ্যে নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

প্রায় তিন মাস ধরে নানা আলোচনা ও পর্যালোচনা করে কমিশনার কবিতা খানমের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আইন সংস্কার সংক্রান্ত কমিটি ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ আইন’ এর খসড়া তৈরি করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। শিগগিরই এই আইনের খসড়া কমিশনের অনুমোদের জন্য তোলা হবে।


নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, খসড়া আইনে একটি উপজেলাকে বিভক্ত করে একাধিক সংসদীয় আসনে রাখার বিদ্যমান সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে অন্তত ২৬টি জেলার ৫৮টি সংসদীয় আসনে পরিবর্তন আসবে। এর বাইরে বিলুপ্ত ছিটমহলগুলো লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত করা এবং সম্প্রতি কুমিল্লা-৯ সংসদীয় আসনের সীমানা উচ্চ আদালত অবৈধ ঘোষণা করায়, তা পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। সব মিলিয়ে কমপক্ষে ২৯টি জেলার ৬০টি আসনের বর্তমান সীমানা হেরফের হতে পারে বলে জানা গেছে।

তবে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বেশ কিছু রাজনৈতিক দলের একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে সীমানা পুনর্নির্ধারণে আপত্তি থাকায় সংসদ নির্বাচনের আগে এই আইন পাস ও তা কার্যকর করা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আইন সংস্কার কমিটির প্রধান ও নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেন, ‘সীমানা নির্ধারণ আইনের খসড়া তৈরি করতে কমিটি কাজ করছে। তবে, এখনও বিষয়টি নিয়ে বলার মতো অবস্থা আসেনি। সংলাপ শেষ হলে এ বিষয়ে কথা বলবো। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশনের চলমান সংলাপ শেষ হতে যাচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন বলেন, ‘আইনের খসড়া তৈরিতে কমিটি কাজ করছে। এটি কোন পর্যায়ে রয়েছে, সেই তথ্য এই মুহূর্তে তার কাছে নেই। সংলাপ শেষ হওয়ার পরে হয়তো এর অবস্থা জানানো যাবে।’

আইন সংস্কার সংক্রান্ত কমিটির একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সীমানা নির্ধারণ আইনের খসড়া নতুন করে প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। নতুন খসড়া তৈরিতে একজন আইন পরামর্শকের মতামত নেওয়া হয়েছে। তারা বলেন, খুব শিগগিরই খসড়া আইন কমিশন সভায় তোলা হবে। ওই সভায় অনুমোদন করা হলে পরবর্তী করণীয়-এর জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

জানা গেছে, এর আগে আইনের খসড়া তৈরি করে আগস্ট মাসের শেষ দিকে কমিশনে তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা অনুমোদন না করে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং নতুন কিছু পরামর্শ দিয়ে সেই আলোকে তৈরি করতে বলেছিল। যার প্রেক্ষিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে নতুন খসড়া তৈরি করা হলো। কমিশনের পরামর্শে যতদূর সম্ভব প্রশাসনিক অখণ্ডতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে এ খসড়া তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সীমানা নির্ধারণের বিদ্যমান আইনটিতে কেবল ‘জনসংখ্যার ভিত্তিতে সীমানা পুনর্নির্ধারণ’-এর কথা রয়েছে। তবে, জনসংখ্যার পাশাপাশি নির্বাচনি এলাকার ভোটার সংখ্যাকেও আমলে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

জানা গেছে, বিদ্যমান আইনে স্থানীয় সরকারের ইউনিট হিসেবে সিটি করপোরেশনে ওয়ার্ড এবং অন্যান্য স্থানে ইউনিয়ন পরিষদকে একক ইউনিট ধরে সেগুলোর অখণ্ডতা রাখার কথা বিবেচনা রা হয়। কিন্তু আইনের নতুন খসড়ায় উপজেলাকে একক ইউনিট ধরে তার অখণ্ডতা বিধানের কথা বলা হয়েছে। খসড়া আইনে নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত ৬(খ) নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট জেলার স্থানীয় অধিক্ষেত্রের আওতাভুক্ত প্রশাসনিক একাংশের ভৌগলিক সীমানা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। কোনও প্রশাসনিক একাংশকে (প্রশাসনিক একাংশের সংজ্ঞা হচ্ছে ‘উপজেলা’ বা সিটি করপোরেশনের ‘ওয়ার্ড’) বিভক্ত করে একাধিক নির্বাচনি এলাকায় অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না।

এটা বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্ধশতাধিক আসনে পরিবর্তন আসবে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে।

ছয় পৃষ্ঠার খসড়া আইনে দুই ধাপে আসন বণ্টনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ আইনের ৪ ধারায় বলা হয়েছে, প্রথমে জেলা পর্যায়ে আসন বণ্টন করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে জেলার জন্য বণ্টনকৃত আসনভিত্তিক নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ করা হবে। জাতীয় সংসদের আসন বণ্টন প্রসঙ্গে খসড়া আইনের ৫ ধারায় বলা হয়েছে, জাতীয় জনসংখ্যা কোটার প্রাপ্যতা অনুযায়ী প্রত্যেক জেলার অনুকূলে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসন বণ্টন করা হবে।

জেলা পর্যায়ের আসন সংখ্যার কোটা বণ্টন প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, সর্বশেষ প্রকাশিত ২০১১ সালের আদম শুমারি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট জেলার জনসংখ্যা এবং সর্বশেষ প্রকাশিত ভোটার তালিকার ভোটার সংখ্যা যোগ করে যোগফলকে দুই দিয়ে ভাগ করা হবে। ওই হারে জেলা পর্যায়ে কোটা নির্ধারণ করা হবে। এতে কম জনসংখ্যা ও কম ভোটারসংখ্যা বিশিষ্ট জেলার আসন কমতে পারে। এগুলো জনবহুল জেলাগুলোতে যুক্ত হতে পারে। তবে সিটি করপোরেশন এলাকায় এ বিধান কার্যকর হবে ভিন্নভাবে। সেখানে জনসংখ্যা ও ভোটার সংখ্যা বেশি থাকায় যোগফলের ৬৬.৬ শতাংশ ধরা হবে। বাকি ৩৩.৪ শতাংশ হিসাবে ধরা হবে না। সিটি করপোরেশন এলাকার আসন সীমিত রাখার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১