শিরোনাম

নির্মানের তিন বছর পরও

উদ্বোধন হয়নি সরাইল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স

সরাইল প্রতিনিধি | সোমবার, ০৩ জানুয়ারি ২০২২ | পড়া হয়েছে 78 বার

উদ্বোধন হয়নি সরাইল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে নির্মান হওয়ার তিন বছর পরেও উদ্বোধন করা হয়নি বহুতল বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন। একাধিক মুক্তিযোদ্ধা অভিযোগ করে বলেন, রাজনৈতিক মারপ্যাচে আটকে আছে ভবনটির উদ্বোধন।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে ভবনটি উদ্বোধন না করায় নষ্ট হচ্ছে ভবনের সৌন্দর্য। অযত্নে অবহেলায় পড়ে আছে লাখ লাখ টাকা মূল্যের আসবাবপত্র। ৬ মাস আগে পাওয়া কম্পিউটার সেট (প্রিন্টারসহ) পড়ে আছে এলজিইডি অফিসে।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের সহায়তায় সরাইলের প্রাণ কেন্দ্রে ৮ শতক জায়গার উপর ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকায় চারতলা বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের তৃতীয়তলা ভবন নির্মাণ কাজটি পান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ‘খন্দকার এন্ড ব্রাদার্স’।

২০১৮ সালের ২৪ সেপ্টেম্বের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা ও ইউএনও উম্মে ইসরাত। ভবনের নির্মান কাজ শেষ হয় ২০১৮ সালের শেষের দিকে। ভবনের নীচতলায় ও দ্বিতীয়তলায় মোট ১২টি দোকান। আর তৃতীয় তলায় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য একটি হল রুম, কমান্ডার ও ডেপুটি কমান্ডারদের জন্য দুটি কক্ষ। ভবনের প্রধান ফটক সংলগ্ন স্থানে স্থাপিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যাল। স্বাধীনতার ৪৯ বছর পর সরকারিভাবে একটি সুন্দর ভবন নির্মান হওয়ায় খুশী হন মুক্তিযোদ্ধারা।

মুক্তিযোদ্ধারা জানান, গত ২০১৪ সালের শেষের দিকে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হয় ১১ সদস্য বিশিষ্ট সরাইল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল। কমান্ডার হিসেবে নির্বাচিত হন মোঃ ইসমত আলী আর ডেপুটি কমান্ডার মোঃ আনোয়ার হোসেন। ২০১৭ সালে কমিটির মেয়াদ শেষ হলে সরকারি সিদ্ধান্তে ভারপ্রাপ্ত কমান্ডারের দায়িত্ব পান উপজেলা নির্বাহী অফিসার। এর কিছুদিন পরই সরাইলে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনটি নির্মিত হয়।

ভবনটি নির্মানের পর পরই শুরু হয় নতুন আলোচনা। কে করবেন ভবনটির উদ্বোধন? মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী নাকি স্থানীয় এমপি।
এতে করে বেকায়দায় পড়েন ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার ও নির্বাহী অফিসার। ফলে বছরের পর বছর চলে গেলেও উদ্বোধন হচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১৮ জানুয়ারি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ নাজমুল হক ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত সংশোধিত পরিপত্রে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন পরিচালনা রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য ৫ সদস্যের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করেন। এই কমিটির আহবায়ক উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সদস্য উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি), ২০১৪ সালে নির্বাচিত উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও ডেপুটি কমান্ডার, সদস্য সচিব উপজেলা সমাজসেবা অফিসার।

এই কমিটিই ভবন ব্যবহার, তদারকি, মনিটরিং, ১ম ও ২য় তলা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে জামানত ভাড়া নির্ধারণ ও হস্তান্তর, জনবল নিয়োগ, মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়মিত ভবন ব্যবহার নিশ্চিতকরণ ও আর্থিক আয়-ব্যায়ের হিসাব পরিচালনা করবেন।

আহবায়ক কমিটির সদস্য মোঃ ইসমত আলী ও মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, অনেক কষ্ট ও ত্যাগে ভবন পেলাম। দুই বছর ধরে ঘুরছি। উদ্বোধন হচ্ছে না। ভবনের ভেতরে যেতে পারছি না। অনেক মূল্যবান আসবাপপত্র নষ্ট হচ্ছে। আহবায়ক মহোদয় শুধু বলছেন, অপেক্ষা করুন। কাকে দিয়ে উদ্বোধন করাবেন ঠিক করুন।

একাধিক মুক্তিযোদ্ধা বলেন, আর কিছু না। শুধু রাজনৈতিক মারপ্যাচে এই ভবনের উদ্বোধন আটকে আছে।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মোঃ শফিকুল ইসলাম খন্দকার বলেন, কাজ শেষ করে ৩ বছর আগেই লিখিতভাবে ভবন হ্যান্ডঅভার করেছি প্রকৌশলীর কাছে। প্রকৌশলী লিখিতভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন তৎকালীন নির্বাহী অফিসারকে। সকল বিল ও সিকিউরিটির টাকাও উত্তোলন করে ফেলেছি।

কমিটির সদস্য সচিব ও সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রকল্প কর্মকর্তা মনে হয় ভবনের কাজটি এখনো শতভাগ বুঝিয়ে দিতে পারেননি।

এ ব্যাপারে কমিটির আহবায়ক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আরিফুল হক মৃদুল বলেন, উপজেলা প্রকৌশলী এখনো আমাকে ভবনের কাজটি বুঝিয়ে দেননি। এ ছাড়া উদ্বোধনের বিষয়ে সরকারি কোন সিদ্ধান্তও পাইনি।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১