[count_down]

শিরোনাম

ইজিবাইকের শহর ব্রাহ্মণবাড়িয়া ॥ জনগনের ভোগান্তি চরমে

শামীম-উন-বাছির | রবিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | পড়া হয়েছে 627 বার

ইজিবাইকের শহর ব্রাহ্মণবাড়িয়া ॥ জনগনের ভোগান্তি চরমে

ইজিবাইকের শহরে পরিণত হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া। পৌর কর্তৃপক্ষের নজরদারী না থাকায় দিন দিন বাড়ছে ব্যাটারী চালিত এই ইজিবাইকের সংখ্যা। লাইসেন্সবিহীন এই ইজিবাইকের চলাচল নিয়ন্ত্রনের জন্য শহরবাসীর বার বার দাবি জানিয়ে আসলেও শহরবাসীর দাবি এখনো উপেক্ষিত।

এদিকে ইজিবাইকের বেপরোয়া চলাচলের জন্য প্রতিদিন শহরের ব্যস্ততম রাস্তাগুলোতে যানজটের সৃষ্টি হয়। ইজিবাইকের জন্য শহরের কোন পার্কিং স্ট্যান্ড না থাকায় শহরের রাস্তা দখল করেই পার্কিং করা হয় ইজিবাইক। এতে করে শহরবাসীকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সব সময়।


প্রতিদিন শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন রাস্তায় কমপক্ষে ৫ হাজার ব্যাটারীচালিত ইজিবাইক চলাচল করে। এসব ইজিবাইকের বেশীর ভাগ চালকই হচ্ছে অদক্ষ শিশু কিশোর। ফলে প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোটখাট দুর্ঘটনা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে প্রতিদিন পৌর এলাকার পশ্চিম মেড্ডা পীরবাড়ি বাসস্ট্যান্ড থেকে শহরের পুরাতন কাচারী, পীরবাড়ি বাসস্ট্যান্ড থেকে শহরের কুমারশীল মোড়, শহরের ঘোড়াপট্টি ব্রীজের উপর থেকে শহরতলীর মোহাম্মদপুর, পৌর এলাকার ভাদুঘর বাজার, ঘোড়াপট্টি ব্রীজের উপর থেকে গোকর্ণঘাট লঞ্চঘাট, শহরের তোফায়েল আজম মনুমেন্টের (মঠের গোড়া) সামনে থেকে শহরতলীর কালীসীমা, নরসিংসার, শহরের কুমারশীল মোড় থেকে আশুগঞ্জ উপজেলার লালপুর, শহরের রামকানাই হাই একাডেমীর সামনে থেকে শহরতলীর সুহিলপুর বাজার ও বিশ্বরোড রোডে কমপক্ষে ৫ হাজার ইজিবাইক চলাচল করে। এসব ইজিবাইকের কোন লাইসেন্স নেই।

বিপুল সংখ্যক এই ইজিবাইকের জন্য শহরে কোন পার্কিং স্ট্যান্ড না থাকায় ইজিবাইকগুলো শহরের ঘোড়াপট্টি ব্রীজের ঘোড়া, কাউতলী বাসস্ট্যান্ড, পুরাতন কাচারীর সামনে, রামকানাই হাই একাডেমীর সামনে, জেলরোড, টি.এ.রোডের তোফায়েল আজম মনুমেন্টের সামনে, জেলা পরিষদের মার্কেটের সামনে, কালীবাড়ি মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে রাস্তা দখল করে পার্কিং করে রাখে। শুধু সড়ক, মহাসড়কেই নয়, ইজিবাইক বর্তমানে শহরের প্রতিটি মহল্লার রাস্তাতেও চলাচল করে। এতে করে প্রতিদিন শহর ও শহরের বিভিন্ন মহল্লার রাস্তায় সীমাহীন যানজটের সৃষ্টি হয়।

জেলা আইন-শৃংখলা কমিটির একাধিক সভায় এই ইজিবাইক চলাচল নিয়ন্ত্রনের জন্য রেশনিং পদ্ধতিতে বিভিন্ন সড়কে বিভিন্ন রঙের ইজিবাইক চলাচলের ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত করা হলেও এখনো সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার একটি সূত্র জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে বর্তমানে লাইসেন্সবিহীন প্রায় সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার ইজিবাইক চলাচল করে। এতে করে প্রতিদিন শহরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ওই সূত্রটি জানায়, পৌর সভার পক্ষ থেকে ইজিবাইকগুলোকে আবেদনপত্রের মাধ্যমে নিবন্ধনের আওতায় আনার জন্য আহবান করা হলেও ইজিবাইকের মালিকরা তার তোয়াক্কা করেনি।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, শহরের ব্যস্ততম সড়ক টি.এ.রোডের ঘোড়াপট্টি জোড়া ব্রীজের উপর, পৌর এলাকার কাউতলী জোড়া ব্রীজের উপর এলোপাথারীভাবে ইজিবাইক পার্কিং করে রাখা হয়েছে। এই দুইটি ব্রীজই তাদের অঘোষিত স্ট্যান্ড। এছাড়া শহরের মৌড়াইল ডাকবাংলোর মোড়, রেলগেইট, জেলা পরিষদ মার্কেট, কালীবাড়ি মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে রাস্তার উপর এলোপাথারীভাবে ইজিবাইক পার্কিং করে রাখা হয়েছে।

পৌর এলাকার পশ্চিম মেড্ডার আজিজ মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অবৈধ ইজিবাইকের যন্ত্রনায় এখন শহরে স্বাচ্ছন্দের সাথে চলাফেরা করতে পারিনা। তিনি বলেন, এসব ইজিবাইকের চালকদের বেশীর ভাগই অদক্ষ ও শিশু-কিশোর। ফলে প্রতিদিনই শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ছোটখাট দুর্ঘটনা ঘটছে।

শহরের কাজীপাড়ার বাসিন্দা আব্বাস মিয়া বলেন, অবৈধ ইজিবাইকের কারনে শহরের মূল রাস্তাসহ বিভিন্ন মহল্লার রাস্তায় মানুষ চলাফেরা করতে পারেনা। তিনি বলেন, এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ পথচারীরা চলাফেরায় প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহায়। তিনি শহরের ইজিবাইক চলাচল নিয়ন্ত্রন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান।

এ ব্যাপারে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহ-সভাপতি আবদুন নুর বলেন, অবৈধ ইজিবাইক চলাচলের কারনে প্রতিদিন শহরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়া অবৈধ ইজিবাইকের ব্যাটারি চার্জ দিতে গিয়ে আমাদের দেশের জাতীয় সম্পদ বিদ্যুৎ বিভাগকেও অনেক লোকসান গুনতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কে কমবয়সী অদক্ষ চালক ইজিবাইক চালনা করায় প্রতিদিন সড়ক মহাসড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে ইজিবাইক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই।

এ ব্যাপারে জেলা ট্রাফিক পরিদর্শক নূর মোহাম্মদ জানান, আমরা প্রতিনিয়তই অভিযান পরিচালনা করছি তবে ইজিবাইকের চলাচল নিয়ন্ত্রণে আনার কাজটি পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব না।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর সভার মেয়র মিসেস নায়ার কবির বলেন, শহরের বিপুল সংখ্যক ইজিবাইকে নিয়ন্ত্রন করার জন্য চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, শহরের ১২টি ওয়ার্ডে ইজিবাইকগুলোকে ভাগ করে দেয়া হবে। প্রতিটি রাস্তায় চলাচলরত ইজিবাইকের জন্য আলাদা রঙ থাকবে। এক রাস্তার ইজিবাইক অন্য রাস্তায় চলাচল করতে দেয়া হবেনা। এছাড়া শহরের বাইরের ইজিবাইকগুলো যাতে শহরে প্রবেশ করতে না পারে সেই ব্যবস্থা করা হবে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০